আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশের বিভিন্ন প্রান্তে রান্নার গ্যাসের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়তেই অনেক পরিবার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত এলপিজি সিলিন্ডার জোগাড় করার চেষ্টা করছে। সম্ভাব্য ঘাটতির আশঙ্কায় অনেকেই আগেভাগে গ্যাস মজুত করতে চাইছেন। কিন্তু এই তাড়াহুড়োর মধ্যেই গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন উঠে এসেছে—একজন সাধারণ মানুষ বাড়িতে আইনত কতগুলো এলপিজি সিলিন্ডার রাখতে পারেন? আর কতগুলো রাখলে তা বেআইনি মজুত বা হোর্ডিং হিসেবে ধরা হবে?


আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় নিয়ম অনুযায়ী একটি সাধারণ গৃহস্থালি পরিবার সাধারণত একসঙ্গে দুটি ১৪.২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডার রাখতে পারে। এর মধ্যে একটি রান্নার জন্য ব্যবহার করা হয় এবং অন্যটি ব্যাকআপ হিসেবে রাখা যায়।


এই সীমাবদ্ধতা মূলত নিরাপত্তার কারণেই নির্ধারণ করা হয়েছে। এলপিজি অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ হিসেবে বিবেচিত হয়, তাই এর সংরক্ষণে কঠোর নিয়ম প্রযোজ্য। গ্যাস সিলিন্ডার সবসময় এমন জায়গায় রাখতে হয় যেখানে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল রয়েছে এবং তাপের উৎস থেকে দূরে থাকে।


ভারতে গ্যাস সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম নির্ধারণ করা হয়েছে গ্যাস সিলিন্ডারস রুলস ২০১৬ অনুযায়ী। এই নিয়মের তদারকি করে পিইএসও। 


তবে বাড়িতে একটি অতিরিক্ত সিলিন্ডার রাখা অনুমোদিত হলেও প্রয়োজনের তুলনায় অনেক বেশি সিলিন্ডার জমিয়ে রাখা আইনগত সমস্যার কারণ হতে পারে। বিশেষ করে যখন দেশে গ্যাস সরবরাহে চাপ থাকে, তখন অতিরিক্ত সিলিন্ডার মজুত করা “হোর্ডিং” বা বেআইনি মজুত হিসেবে গণ্য হতে পারে।


ভারতের আইনে এলপিজিকে একটি অত্যাবশ্যক পণ্য হিসেবে ধরা হয়। তাই এই আইনের আওতায় গ্যাসের মজুত, সরবরাহ এবং বণ্টন নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা সরকারের রয়েছে। যদি কেউ অতিরিক্ত সিলিন্ডার জমিয়ে রেখে কালোবাজারি বা কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।


আইন অনুযায়ী, বাড়ির ব্যক্তিগত ব্যবহারের সীমা ছাড়িয়ে অনেক বেশি সিলিন্ডার রাখলে তা অবৈধ সংরক্ষণ হিসেবেও ধরা হতে পারে। বিশেষ করে যদি সেই সংরক্ষণের জন্য কোনও লাইসেন্স বা অনুমোদন না থাকে।


এক্ষেত্রে প্রশাসনের হাতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে। আই অনুযায়ী, বেআইনি মজুত বা কালোবাজারির মতো অপরাধে কমপক্ষে তিন মাস থেকে সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে, পাশাপাশি জরিমানাও ধার্য হতে পারে। এছাড়া আইনের ধারা ৬এ অনুযায়ী কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করতে পারে।


গ্যাস সরবরাহে কোনও সমস্যা দেখা দিলে সরকার আরও কঠোর নিয়ন্ত্রণও আরোপ করতে পারে। সেই সময় প্রশাসন এলপিজি এজেন্সি, গুদাম এবং গ্রাহকদের মজুতের ওপর নজরদারি বাড়ায়। প্রয়োজনে পরিদর্শন চালিয়ে অতিরিক্ত সিলিন্ডার বাজেয়াপ্ত করা এবং হোর্ডিংয়ের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়।

 


বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের নিয়মের মূল উদ্দেশ্য হল যাতে সবার জন্য সমানভাবে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা যায় এবং কেউ যেন আতঙ্কে অতিরিক্ত মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে। তাই সাধারণ গ্রাহকদের উচিত সরকারি নিয়ম মেনে গ্যাস ব্যবহার করা এবং অপ্রয়োজনীয়ভাবে সিলিন্ডার জমিয়ে না রাখা।