আজকাল ওয়েবডেস্ক:  কেন্দ্রীয় বাজেট ২০২৬-এ করদাতাদের জন্য আয়কর ব্যবস্থাকে সহজ করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ঘোষণা করা হয়েছে। সরকার আয়কর আইন ২০২৫ কার্যকর করা, ট্যাক্স সংগ্রহের হার কমানো, আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমা বাড়ানো এবং কিছু নতুন কর নীতি চালুর মতো একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে। এসব পরিবর্তন ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে এবং ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষ থেকে সব করদাতার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।


সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হল নতুন আয়কর আইন ২০২৫ কার্যকর হওয়া। এটি পুরনো আয়কর আইন ১৯৬১-র জায়গা নেবে। নতুন আইনের মূল লক্ষ্য হল আয়কর কাঠামোকে আরও সহজ, আধুনিক এবং কম জটিল করা।


তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, ২০২৬–২৭ অর্থবর্ষে আয়কর স্ল্যাবে কোনও পরিবর্তন হয়নি। অর্থাৎ করদাতাদের জন্য বিদ্যমান করহারই বহাল থাকবে।


বাজেট ২০২৬-এ আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমায়ও পরিবর্তন আনা হয়েছে। আইটিআর ৩ এবং আইটিআর ৪ জমা দেওয়ার শেষ তারিখ, যেগুলো সাধারণত ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীরা জমা দেন এবং যাদের অডিট প্রয়োজন হয় না, তা বাড়িয়ে ৩১ আগস্ট করা হয়েছে।


অন্যদিকে আইটিআর ১ এবং আইটিআর ২ জমা দেওয়ার শেষ তারিখ আগের মতোই ৩১ জুলাই থাকবে। একইভাবে ট্যাক্স অডিট রিপোর্ট জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩১ অক্টোবর অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।


করদাতারা যদি আয়কর রিটার্নে ভুল সংশোধন করতে চান, তবে সংশোধিত রিটার্ন জমা দেওয়ার সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে। আগে এই সময়সীমা ছিল ৩১ ডিসেম্বর, কিন্তু এখন তা বাড়িয়ে ৩১ মার্চ করা হয়েছে। তবে ৩১ ডিসেম্বরের পরে সংশোধিত রিটার্ন জমা দিলে করদাতাকে অতিরিক্ত ফি দিতে হবে।


বাজেট ২০২৬-এ Tax Collected at Source (TCS) সংক্রান্ত নিয়মেও কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে TCS হার যুক্তিসঙ্গত করা হয়েছে যাতে করদাতাদের উপর প্রশাসনিক চাপ কমে এবং অপ্রয়োজনীয় রিফান্ড বিলম্বের সমস্যা কমে।


স্টক মার্কেটের ডেরিভেটিভ সেগমেন্টে বড় পরিবর্তন এসেছে। সরকার Securities Transaction Tax (STT) বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী ফিউচার্স ট্রেডিংয়ে STT ০.০২% থেকে বাড়িয়ে ০.০৫% করা হয়েছে। অপশন ট্রেডিংয়ে STT ০.১% থেকে বাড়িয়ে ০.১৫% করা হয়েছে।


আগে কোম্পানির শেয়ার বাইব্যাক থেকে পাওয়া অর্থকে ডিমড ডিভিডেন্ড হিসেবে ধরা হতো এবং ব্যক্তিগত কর স্ল্যাব অনুযায়ী কর দিতে হতো। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে বাইব্যাক থেকে পাওয়া অর্থকে মূলধনী লাভ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং সেই অনুযায়ী কর আরোপ করা হবে।


আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হল ডিভিডেন্ড আয়ের ক্ষেত্রে সুদের খরচে কর ছাড় বাতিল করা। আগে করদাতারা ডিভিডেন্ড আয় বা মিউচুয়াল ফান্ড ইউনিট থেকে আয় অর্জনের জন্য নেওয়া ঋণের সুদের ২০% পর্যন্ত কর ছাড় পেতেন। কিন্তু ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে এই সুবিধা পুরোপুরি তুলে দেওয়া হয়েছে, ফলে ডিভিডেন্ড আয় সম্পূর্ণভাবে করযোগ্য হবে।


সব মিলিয়ে, বাজেট ২০২৬-এ ঘোষিত আয়কর সংক্রান্ত এই পরিবর্তনগুলো কর ব্যবস্থাকে সহজ করা এবং প্রশাসনিক জটিলতা কমানোর লক্ষ্যেই আনা হয়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে—বিশেষ করে স্টক মার্কেটের ডেরিভেটিভ ট্রেডারদের জন্য—কর বোঝা বাড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।