আজকাল ওয়েবডেস্ক: কেন্দ্র সরকার সম্প্রতি ইপিএফ স্কিম ২০২৬ চালু করে দেশের প্রভিডেন্ট ফান্ড ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তনের সূচনা করেছে। ২৯ জুন সরকারি গেজেটে প্রকাশিত এই নতুন নিয়মের মাধ্যমে ১৯৫২ সালের পুরনো স্কিমের পরিবর্তে আরও সহজ, আধুনিক এবং ডিজিটাল পরিষেবা চালুর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৮ কোটি সক্রিয় ইপিএফও গ্রাহক এই পরিবর্তনের সুবিধা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।


তবে এই সংস্কারের মাঝেই একটি তথ্য জানার অধিকার আবেদনের জবাবে সামনে এসেছে উদ্বেগজনক তথ্য। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশে ৩০.৯১ লক্ষ নিষ্ক্রিয় ইপিএফ  অ্যাকাউন্টে প্রায় ৯,৩৩০ কোটি টাকা অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে, যা এখনও প্রকৃত দাবিদারদের হাতে পৌঁছায়নি।


তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ অর্থবর্ষের তুলনায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত যেখানে নিষ্ক্রিয় ইপিএফ অ্যাকাউন্টের সংখ্যা ছিল ৩১.৮৩ লক্ষ, এক বছর পরে তা কমে হয়েছে ৩০.৯১ লক্ষ। একই সময়ে অব্যবহৃত টাকার পরিমাণও ১০,১৮১ কোটি টাকা থেকে কমে ৯,৩৩০ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। অর্থাৎ, এক বছরে প্রায় ৯২ হাজার অ্যাকাউন্ট এবং ৮৫১ কোটি টাকা কমেছে।


তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিসংখ্যান এখনও উদ্বেগের কারণ। কারণ প্রায় ৩১ লক্ষ কর্মীর অবসরকালীন সঞ্চয় বছরের পর বছর ধরে দাবি করা হয়নি। চাকরি পরিবর্তন, কেওয়াইসি অসম্পূর্ণ থাকা, ইপিএফ অ্যাকাউন্ট স্থানান্তর না করা কিংবা অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য না থাকার মতো বিভিন্ন কারণে এই অর্থ নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থেকে যায়।


৯,৩৩০ কোটি টাকার পরিমাণ কতটা বড়, তা বোঝাতে আরটিআই কয়েকটি তুলনাও তুলে ধরা হয়েছে। এই অর্থ প্রায় উডান আঞ্চলিক বিমান যোগাযোগ প্রকল্পে ২০১৬ সাল থেকে কেন্দ্রের মোট ব্যয়ের সমান। এছাড়া এটি আয়ুষ্মান ভারত-প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনার ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বরাদ্দের কাছাকাছি। এমনকি মূল্যস্ফীতি অনুযায়ী হিসাব করলে এই অর্থ দিয়ে প্রায় তিনটি নতুন আইআইটি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।


আরটিআই আবেদনে গত ছয় বছরের নিষ্ক্রিয় ইপিএফ অ্যাকাউন্টের তথ্যও চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা জানিয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে গঠিত হয়েছে। তাই তার আগের বছরের তথ্য ওই সেলের কাছে সংরক্ষিত নেই এবং তা সরবরাহ করা সম্ভব নয়।


এছাড়া আধার-সংযুক্ত নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্টের সংখ্যা, সেখানে থাকা অর্থ এবং অটো-সেটেলমেন্টের অবস্থা সম্পর্কেও তথ্য চাওয়া হলেও ইপিএফও তা প্রকাশ করতে অস্বীকার করেছে। সংস্থার দাবি, এই তথ্য আরটিআই আইনের ধারা ৮(১)(ই) অনুযায়ী গোপনীয় এবং ফিডিউশিয়ারি সম্পর্কের আওতায় পড়ে।


আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছিল, ৫ লক্ষ টাকার বেশি ব্যালেন্স থাকা নিষ্ক্রিয় ইপিএফ অ্যাকাউন্টের সংখ্যা কত? ইপিএফও জানিয়েছে, এই ধরনের তথ্য তাদের কাছে চাওয়া ফরম্যাটে সংরক্ষিত নেই, তাই তা দেওয়া সম্ভব নয়।


নতুন ইপিএফ স্কিম ২০২৬ চালুর মাধ্যমে প্রভিডেন্ট ফান্ড ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও, আরটিআই-র এই তথ্য স্পষ্ট করে যে এখনও বিপুল পরিমাণ কর্মীর অবসরকালীন সঞ্চয় দাবি না হওয়ায় নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্টে আটকে রয়েছে। তাই চাকরি পরিবর্তনের পরে ইপিএফ অ্যাকাউন্টের আধার লিঙ্কিং এবং অ্যাকাউন্ট ট্রান্সফারের মতো বিষয়গুলি সময়মতো সম্পন্ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

&t=1s