আজকাল ওয়েবডেস্ক: কোম্পানি ডিরেক্টরদের জন্য কমপ্লায়েন্স প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে বড় সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রীয় কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রক। কোম্পানিজ অ্যাক্ট, ২০১৩-এর অধীনে ডিরেক্টরদের জন্য যে বার্ষিক নো-ইওর-কাস্টমার ফাইলিং বাধ্যতামূলক ছিল, তা বাতিল করে তিন বছরে একবার সংক্ষিপ্ত কেওয়াইসি ফাইলিং চালু করা হয়েছে। এই পরিবর্তন দেশের লক্ষ লক্ষ কোম্পানি ডিরেক্টরের জন্য উল্লেখযোগ্য স্বস্তি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স মন্ত্রক জানায়, কোম্পানিজ ২০১৪-এর Rule 12A পর্যালোচনা করার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই পর্যালোচনার পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে নন-ফিনান্সিয়াল রেগুলেটরি রিফর্মস সংক্রান্ত হাই লেভেল কমিটির সুপারিশ এবং বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারের মতামতের। সংশোধিত নিয়মগুলি ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশিত হয়েছে এবং তা কার্যকর হবে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ থেকে।


নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ডিরেক্টরদের আর প্রতি বছর কেওয়াইসি ফর্ম জমা দিতে হবে না। তার বদলে, একবার কেওয়াইসি সম্পূর্ণ করার পর পরবর্তী তিন বছরে মাত্র একবার একটি সরলীকৃত কেওয়াইসি ইন্টিমেশন জমা দিলেই চলবে। এর ফলে প্রশাসনিক ঝামেলা যেমন কমবে, তেমনই সময় ও খরচও সাশ্রয় হবে বলে মনে করা হচ্ছে।


মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন কেওয়াইসি ফর্মটি একাধিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যাবে। এর মাধ্যমে কেওয়াইসি কমপ্লায়েন্সের পাশাপাশি মোবাইল নম্বর, ইমেল আইডি এবং আবাসিক ঠিকানা আপডেট করা যাবে। এমনকি ডিরেক্টর আইডেন্টিফিকেশন নম্বর নিষ্ক্রিয় হয়ে গেলে, সেটি পুনরায় সক্রিয় করার কাজেও এই ফর্ম ব্যবহার করা যাবে।


তবে সব ক্ষেত্রে ডিজিটাল সিগনেচার ও পেশাদার সার্টিফিকেশনের প্রয়োজন হবে না। শুধুমাত্র তখনই ডিরেক্টরের ডিজিটাল সিগনেচার-ভিত্তিক যাচাই এবং কোনও পেশাদারের সার্টিফিকেশন বাধ্যতামূলক হবে, যখন কেওয়াইসি ফর্ম ব্যবহার করে যোগাযোগের তথ্য বা আবাসিক ঠিকানা আপডেট করা হবে। সাধারণ কেওয়াইসি ইন্টিমেশনের ক্ষেত্রে এই বাড়তি যাচাইয়ের প্রয়োজন পড়বে না।


মন্ত্রক আরও জানিয়েছে, যেসব ডিরেক্টর ইতিমধ্যেই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তাঁদের কেওয়াইসি ফাইলিং সম্পূর্ণ করেছেন, তাঁরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নতুন ব্যবস্থার আওতায় চলে আসবেন। এই ডিরেক্টরদের পরবর্তী কেওয়াইসি ফাইলিংয়ের শেষ তারিখ হবে ২০২৮ সালের ৩০ জুন।


অন্যদিকে, যেসব ডিরেক্টর এখনও পর্যন্ত তাঁদের কেওয়াইসি ফর্ম জমা দেননি এবং যাঁদের ডিআইএন নিষ্ক্রিয় হয়ে রয়েছে, তাঁরা ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত পুরনো নিয়ম অনুযায়ী কেওয়াইসি জমা দিয়ে ডিআইএন পুনরায় সক্রিয় করতে পারবেন।

 


বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংশোধন দেশের কর্পোরেট পরিবেশকে আরও শক্তিশালী করবে এবং অপ্রয়োজনীয় কমপ্লায়েন্সের বোঝা কমিয়ে ডিরেক্টরদের প্রকৃত ব্যবসায়িক সিদ্ধান্তে বেশি মনোযোগ দিতে সাহায্য করবে।