আজকাল ওয়েবডেস্ক:  ভারতে দ্রুতগতিতে বাড়তে থাকা ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অনলাইন প্রতারণার ঘটনাও। এই পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের সুরক্ষা আরও জোরদার করতে একগুচ্ছ নতুন প্রস্তাব সামনে এনেছে আরবিআই। যদিও এই নতুন নিয়মগুলি কার্যকর হলে ডিজিটাল লেনদেন কিছুটা ধীর হতে পারে, তবে এর মূল উদ্দেশ্য হলো আর্থিক প্রতারণা রোধ করা।


একটি আলোচনা পত্রে বলা হয়েছে, গত এক দশকে দেশে ডিজিটাল লেনদেনের পরিমাণ ৩৮ গুণ বেড়েছে এবং মোট লেনদেনের মূল্য তিনগুণেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। UPI, IMPS এবং NEFT-এর মতো প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এই বিস্তার সম্ভব হয়েছে। তবে এই দ্রুত বৃদ্ধির ফলে প্রতারণার ঝুঁকিও বহুগুণে বেড়েছে।


আরবিআই জানাচ্ছে, বর্তমান সময়ে অধিকাংশ প্রতারণা প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে নয়, বরং ‘সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর মাধ্যমে হচ্ছে। অর্থাৎ, প্রতারকরা ফোন কল, ভুয়ো পরিচয় বা ভয় দেখিয়ে ব্যবহারকারীদের দিয়ে নিজেরাই লেনদেন অনুমোদন করিয়ে নিচ্ছে। ডিজিটাল পেমেন্টের তাৎক্ষণিক প্রকৃতির কারণে একবার টাকা চলে গেলে তা ফেরত পাওয়ার সুযোগও কম থাকে।


সরকারি তথ্য অনুযায়ী, অনলাইন প্রতারণার ঘটনা গত পাঁচ বছরে ভয়াবহ হারে বেড়েছে। ২০২১ সালে যেখানে ২.৬ লক্ষ মামলা ছিল, ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৮ লক্ষে। টাকার অঙ্কও বেড়ে হয়েছে প্রায় ২২,৯৩১ কোটি। এই প্রবণতা রুখতেই আরবিআই নতুন পদক্ষেপ নিতে চাইছে।


সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবগুলির মধ্যে একটি হল—নির্দিষ্ট কিছু লেনদেনে এক ঘণ্টার বিলম্ব চালু করা। এছাড়াও, প্রবীণ নাগরিক ও বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা আনার কথা বলা হয়েছে। ৫০,০০০-এর বেশি লেনদেনের ক্ষেত্রে একজন “trusted person”-এর অনুমোদন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে প্রতারণার ঝুঁকি অনেকটাই কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।


আরও একটি বড় পরিবর্তন হতে পারে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা জমার সীমা নির্ধারণ। যেসব অ্যাকাউন্টে পূর্ণ যাচাই হয়নি, সেখানে বছরে ২৫ লক্ষ পর্যন্ত জমা সীমাবদ্ধ রাখা হতে পারে। এর বেশি টাকা এলে তা “shadow credit” হিসেবে রাখা হবে এবং অতিরিক্ত যাচাইয়ের পরেই তা ব্যবহারযোগ্য হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সন্দেহ দূর না হলে সেই টাকা ফেরত পাঠানোও হতে পারে।


এছাড়া, গ্রাহকদের জন্য “kill switch” চালুর প্রস্তাবও রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে সঙ্গে সঙ্গে সমস্ত ডিজিটাল লেনদেন বন্ধ করা যাবে। ব্যবহারকারীরা নিজেরাই লেনদেনের সীমা নির্ধারণ বা বিভিন্ন পেমেন্ট মোড চালু-বন্ধ করার সুবিধাও পাবেন।

 


সব মিলিয়ে আরবিআই-র এই প্রস্তাবগুলি ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও নিরাপদ করার দিকে বড় পদক্ষেপ। যদিও এতে কিছুটা অসুবিধা হতে পারে, তবে ক্রমবর্ধমান প্রতারণার যুগে এই ধরনের সুরক্ষা ব্যবস্থা সময়ের দাবি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।