আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতে ডিজিটাল লেনদেনের ব্যবহার রেকর্ড হারে বাড়ছে। প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষ এখন ইউপিআই, মোবাইল ওয়ালেট এবং অনলাইন ব্যাঙ্কিংয়ের মাধ্যমে টাকা লেনদেন করছেন। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল, ডিজিটাল পেমেন্ট যত বাড়ছে, নগদ টাকার ব্যবহারও তত কমছে না। বরং ভারতীয়রা আগের তুলনায় আরও বেশি নগদ টাকা তুলছেন এবং নিজেদের কাছে রাখছেন। এমনই তথ্য উঠে এসেছে আরবিআই-র সাম্প্রতিক বার্ষিক রিপোর্টে।
রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে দেশে প্রচলিত নগদের পরিমাণ বা “কারেন্সি ইন সার্কুলেশন” বেড়েছে ১১.৪ শতাংশ। আগের বছরে এই বৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ৫.৮ শতাংশ। একই সময়ে খুচরো ডিজিটাল পেমেন্টের পরিমাণ বেড়েছে ২৬.৯ শতাংশ এবং ইউপিআই লেনদেনের সংখ্যা ২০০ বিলিয়নের গণ্ডি ছাড়িয়েছে।
এই পরিসংখ্যান স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে ভারতে এখন নগদ এবং ডিজিটাল— দুই ধরনের লেনদেনই একসঙ্গে বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ মানুষ এখন আর নগদ ও ডিজিটাল পেমেন্টের মধ্যে একটিকে বেছে নিচ্ছেন না। বরং পরিস্থিতি অনুযায়ী দু’টিকেই ব্যবহার করছেন।
একসময় মনে করা হয়েছিল ইউপিআই এবং ডিজিটাল পেমেন্ট যত বাড়বে, নগদের ব্যবহার তত কমবে। কিন্তু আরবিআইয়ের তথ্য বলছে ঠিক উল্টো ছবি। ডিজিটাল লেনদেনের বিস্ফোরক বৃদ্ধি সত্ত্বেও নগদের চাহিদাও দ্রুত বাড়ছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, নগদ টাকার ব্যবহার বাড়ার পিছনে একাধিক কারণ রয়েছে। বিভিন্ন রাজ্য সরকারের সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্প, কৃষিক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ, ডাইরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার, কর কমার পর বাড়তি ভোগব্যয় এবং সোনা-রুপোর দামের বৃদ্ধি— সব মিলিয়েই মানুষ বেশি নগদ তুলছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের বড় অংশের মানুষ এখনও স্থানীয় বাজার, ছোট দোকান এবং দৈনন্দিন খরচের ক্ষেত্রে নগদের উপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে গ্রামীণ এবং আধা-শহরাঞ্চলে নগদ লেনদেন এখনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে অনলাইন শপিং, বিল পেমেন্ট এবং দ্রুত টাকা পাঠানোর জন্য ডিজিটাল পদ্ধতি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে সোনা ও রুপোর দাম বৃদ্ধি নগদ টাকার চাহিদা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের দ্বিতীয়ার্ধে মূল মুদ্রাস্ফীতির প্রায় অর্ধেকের জন্য দায়ী ছিল মূল্যবান ধাতুর দাম বৃদ্ধি। যদিও সোনার আমদানির পরিমাণ কিছুটা কমেছে, কিন্তু আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ায় মোট আমদানি মূল্য বেড়েছে।
&t=1s
এর অর্থ ভারতীয় পরিবারগুলি এখনও সোনায় বিনিয়োগ করছে। আর অনেক ক্ষেত্রেই এই কেনাকাটার জন্য নগদ অর্থ ব্যবহার হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, ভারতের অর্থনীতিতে এখন এক নতুন বাস্তবতা তৈরি হয়েছে— যেখানে ডিজিটাল পেমেন্ট দ্রুত বাড়ছে, কিন্তু নগদ টাকার গুরুত্বও সমানভাবে বজায় রয়েছে। ভবিষ্যতেও এই দুই ব্যবস্থাই পাশাপাশি চলবে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।















