আজকাল ওয়েবডেস্ক: রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (আরবিআই) তাদের ‘ডিজিটাল পেমেন্টস — ই-ম্যান্ডেট ফ্রেমওয়ার্ক, ২০২৬’-এ সংশোধন করেছে। ফলে ক্রেডিট কার্ড, ডেবিট কার্ড, প্রিপেইড পেমেন্ট ইনস্ট্রুমেন্ট (পিপিআই) এবং ইউপিআই-এর মাধ্যমে অটো-ডেবিট লেনদেনের জন্য নতুন নিয়ম চালু কার্যকর হয়েছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক জানিয়েছে যে, "জনস্বার্থে" প্রবর্তিত এই পরিবর্তনগুলো অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং যেসব পেমেন্ট সিস্টেম প্রোভাইডার বা পরিষেবা প্রদানকারী অভ্যন্তরীণ ও আন্তঃসীমান্ত পুনরাবৃত্ত লেনদেন পরিচালনা করে, তাদের সবার ক্ষেত্রেই এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে।
ই-ম্যান্ডেট ফ্রেমওয়ার্কের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ:
সংশোধিত নিয়ম অনুযায়ী, ১৫,০০০ টাকা পর্যন্ত লেনদেন ওটিপি-র মতো অতিরিক্ত প্রমাণীকরণ ছাড়াই সম্পন্ন করা যাবে।
গ্রাহকদের প্রথমে ‘অ্যাডিশনাল ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন’ ব্যবহার করে একবারের জন্য একটি ই-ম্যান্ডেট নথিভুক্ত করতে হবে। একবার অনুমোদিত হয়ে গেলে, ১৫,০০০ টাকার সীমার মধ্যে থাকা পেমেন্টগুলো প্রতিবার ওটিপি ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে ডেবিট হয়ে যাবে।
এর আওতাভুক্ত অটো পেমেন্টগুলোর মধ্যে রয়েছে:
মিউচুয়াল ফান্ডের এসআইপি এবং ফিক্সড ডিপোজিট (স্থায়ী আমানত)
ওটিটি সাবস্ক্রিপশন এবং ডিটিএইচ পরিষেবা
ইএমআই এবং বিমার প্রিমিয়াম
ইউটিলিটি বিল (বিদ্যুৎ, জল, ইন্টারনেট)
ব্যবহারকারীর নিয়ন্ত্রণে এককালীন নথিভুক্তকরণ ব্যবস্থা
নথিভুক্তকরণের পর, গ্রাহকরা ‘অ্যাডিশনাল ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন’ প্রমাণীকরণ ব্যবহার করে যেকোনও সময় ই-ম্যান্ডেট পরিবর্তন, সাময়িকভাবে স্থগিত বা বাতিল করতে পারবেন।
পরিবর্তনশীল অঙ্কের পেমেন্টের ক্ষেত্রে, ব্যবহারকারীরা একটি সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ করে দিতে পারেন, যাতে অপ্রত্যাশিতভাবে অতিরিক্ত অর্থ ডেবিট হওয়া রোধ করা যায়। ব্যাঙ্কগুলোর জন্যও বাধ্যতামূলক যে, নিবন্ধনের সময় তারা যেন ম্যান্ডেটের বৈধতার মেয়াদ স্পষ্টভাবে গ্রাহকদের জানিয়ে দেয়।
১৫,০০০ টাকার বেশি মূল্যের লেনদেনের ক্ষেত্রে ওটিপি প্রমাণীকরণ বা অথেন্টিকেশন আগের মতোই বাধ্যতামূলক থাকবে।
তবে, ই-ম্যান্ডেটের অধীনে নিবন্ধিত হলে বিমার প্রিমিয়াম, মিউচুয়াল ফান্ড এবং ক্রেডিট কার্ডের বিলের মতো পুনরাবৃত্ত পেমেন্টগুলো ‘অ্যাডিশনাল ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন’ ছাড়াই এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত হতে পারবে।
বাধ্যতামূলক সতর্কতা এবং কোনও অতিরিক্ত চার্জ নেই
আরবিআই নির্দেশ দিয়েছে যে, ই-ম্যান্ডেট পরিষেবা চালু করার জন্য ব্যাঙ্কগুলো গ্রাহকদের কাছ থেকে কোনও প্রকার চার্জ বা ফি নিতে পারবে না।
লেনদেন সম্পন্ন হওয়ার অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে গ্রাহকদের কাছে একটি ‘প্রি-ডেবিট অ্যালার্ট’ বা অগ্রিম সতর্কবার্তা পৌঁছানো বাধ্যতামূলক; এই বার্তায় টাকার পরিমাণ, ডেবিট হওয়ার তারিখ এবং মার্চেন্ট বা বিক্রেতার নামসহ বিস্তারিত তথ্য উল্লেখ থাকতে হবে।
এই সতর্কবার্তাগুলোর ওপর ভিত্তি করে ব্যবহারকারীরা চাইলে পেমেন্ট বাতিল করতে পারেন অথবা সেই লেনদেন থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিতে পারেন। এছাড়া, তারা তাদের পছন্দের মাধ্যমে (যেমন—এসএমএস, ইমেল ইত্যাদি) এই সতর্কবার্তাগুলো পাওয়ার বিষয়টিও বেছে নিতে পারেন।
ফাসট্যাগ এবং ‘ন্যাশনাল কমন মোবিলিটি কার্ড’ -এর স্বয়ংক্রিয় রিচার্জের ক্ষেত্রে এই ‘প্রি-ডেবিট অ্যালার্ট’ পাঠানো বাধ্যতামূলক নয়।
প্রতারণামূলক লেনদেনের জন্য শূন্য দায়বদ্ধতা
ব্যাঙ্ক এবং পেমেন্ট পরিষেবা প্রদানকারীদের অবশ্যই লেনদেন-পরবর্তী সতর্কতা পাঠাতে হবে এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা বজায় রাখতে হবে।
আরবিআই তার শূন্য-দায়বদ্ধতা নীতিকে ই-ম্যান্ডেট পর্যন্ত প্রসারিত করেছে, যা নিশ্চিত করে যে গ্রাহকরা অননুমোদিত লেনদেনের বিষয়ে দ্রুত রিপোর্ট করা হলে তাদের দায়ী করা হবে না।
ডিজিটাল ওয়ালেটের জন্য নতুন নিয়ম প্রস্তাবিত
আলাদাভাবে, আরবিআই ডিজিটাল ওয়ালেট এবং প্রিপেইড ইন্সট্রুমেন্টের জন্য নতুন নিয়ম প্রস্তাব করেছে।
সাধারণ-উদ্দেশ্য পিপিআই ব্যালেন্স ২ লক্ষ টাকায় সীমাবদ্ধ
মাসিক নগদ লোডিং সীমা ১০,০০০ টাকা
গিফট পিপিআই ১০,০০০ টাকায় সীমাবদ্ধ
ট্রানজিট পিপিআই ৩,০০০ টাকায় সীমাবদ্ধ
আরবিআই আরও প্রস্তাব করেছে যে ডেবিট কার্ড ইস্যু করার জন্য অনুমোদিত ব্যাঙ্কগুলি ডিপার্টমেন্ট অফ পেমেন্ট অ্যান্ড সেটেলমেন্ট সিস্টেমস (ডিপিএসএস)-কে অবহিত করার পর পিপিআই অফার করতে পারবে।
এই পদক্ষেপগুলির লক্ষ্য হলো আরও বেশি স্বচ্ছতা, গ্রাহক সুরক্ষা বৃদ্ধি করা এবং ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা।















