আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের বেতনভোগী কর্মীদের জন্য সম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে 'এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড' (ইপিএফ) এবং 'সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান' (এসআইপি)—উভয়ই অত্যন্ত জনপ্রিয় মাধ্যম। নিরাপত্তা এবং নিশ্চিত আয়ের জন্য সমাদৃত ইপিএফ। অন্যদিকে, যারা শেয়ার বাজারের মাধ্যমে তুলনামূলক বেশি মুনাফা অর্জন করতে চান, তাদের কাছে এসআইপি আকর্ষণীয়।
কিন্তু লক্ষ্য যদি হয় যত দ্রুত সম্ভব এক কোটি টাকা জমা করা, তবে কোন বিকল্পটি এগিয়ে থাকবে?
আসুন বিষয়টি বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।
ইপিএফ সম্পর্কে ধারণা:
'এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড' (ইপিএফ) হল সংগঠিত ক্ষেত্রের বেতনভোগী কর্মীদের জন্য একটি অবসরকালীন সঞ্চয় প্রকল্প। এতে কর্মী এবং নিয়োগকর্তা, উভয়েই কর্মীর মূল বেতন ও মহার্ঘ ভাতার একটি নির্দিষ্ট অংশ প্রতি মাসে জমা করেন।
ইপিএফ-এর সুদের হার প্রতি বছর 'এমপ্লয়িজ প্রভিডেন্ট ফান্ড অর্গানাইজেশন' (ইপিএফও) দ্বারা ঘোষণা করা হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই হার সাধারণত ৮ শতাংশ থেকে ৮.৫ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করেছে। বর্তমান অর্থবর্ষে (২০২৫-২৬) সুদের হার হলো ৮.২৫ শতাংশ।
এসআইপি সম্পর্কে ধারণা:
'সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান' বা এসআইপি-এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীরা নিয়মিতভাবে মিউচুয়াল ফান্ডে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করতে পারেন। সাধারণত ইকুইটি মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগের জন্য SIP ব্যবহার করা হয়। ঐতিহাসিকভাবে দেখা গিয়েছে যে, প্রথাগত 'ফিক্সড-ইনকাম' বা নিশ্চিত আয়ের বিনিয়োগের তুলনায় এগুলি দীর্ঘমেয়াদে বেশি রিটার্ন বা মুনাফা প্রদান করে।
যদিও এতে আয়ের কোনও নিশ্চয়তা থাকে না, তবুও দীর্ঘমেয়াদে বৈচিত্র্যময় ইকুইটি মিউচুয়াল ফান্ডগুলো বার্ষিক প্রায় ১০ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশ হারে রিটার্ন দিয়েছে।
ধরা যাক, আপনি এই দু'টি বিকল্পের যেকোনও একটিতে প্রতি মাসে ১১,০০০ টাকা বিনিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নিলেন। চক্রবৃদ্ধি হারের প্রভাবে প্রতি মাসের এই বিনিয়োগ এক কোটি টাকায় পরিণত হতে কত সময় লাগবে?
নিচের সময়সূচিতে দেখানো হল ঠিক কখন আপনার জমানো অর্থ এক কোটি টাকার লক্ষ্যের পথে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক স্পর্শ করবে-
মিউচুয়াল ফান্ড এসআইপি-তে বিনিয়োগ
মাসিক বিনিয়োগ: ১১,০০০ টাকা
মেয়াদ: ২০ বছর
মোট বিনিয়োগ: ২৬.৪ লক্ষ টাকা
প্রত্যাশিত রিটার্নের হার: ১২ শতাংশ
আনুমানিক রিটার্ন: ৭৪.৭৮ লক্ষ টাকা
মেয়াদ শেষে মোট অর্থ: ১.০১ কোটি টাকা
মাসিক বিনিয়োগ: ১১,০০০ টাকা
মেয়াদ: ২৫ বছর
মোট বিনিয়োগ: ৩৩ লক্ষ টাকা
প্রত্যাশিত রিটার্নের হার: ৮.২৫ শতাংশ
আনুমানিক রিটার্ন: ৭৫.৩৫ লক্ষ টাকা
মেয়াদ শেষে প্রাপ্ত মোট অর্থ (ম্যাচিউরিটি কর্পাস): ১.০৮ কোটি টাকা
ইক্যুইটি বা শেয়ার বাজারের বৃদ্ধির কারণে এসআইপি (এসআইপি)-তে প্রত্যাশিত রিটার্নের হার বেশি হয় এবং চক্রবৃদ্ধি হারে তা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এর ফলে সমপরিমাণ বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও ইপিএফ-এর তুলনায় এসআইপি-র মাধ্যমে এক কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা ৫-৮ বছর আগেই অর্জন করা সম্ভব হতে পারে।
যারা খুব কম সময়ে এক কোটি টাকার তহবিল গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন, তাদের জন্য ডাইভার্সিফাইড ইক্যুইটি মিউচুয়াল ফান্ডে এসআইপি বিনিয়োগ সাধারণত সুবিধাজনক, কারণ শেয়ার বাজারে দীর্ঘমেয়াদে ভাল রিটার্ন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বড় আকারের তহবিল গড়ে তুলতে এসআইপি সহায়তা করতে পারে, তবে এতে বাজারের ঝুঁকিও জড়িত থাকে।
তবে আর্থিক পরিকল্পনাকারীদের মতে, সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হল ইপিএফ এবং এসআইপি-র মধ্যে কোনও একটিকে বেছে না নিয়ে বরং উভয়ের সুবিধাকে কাজে লাগানো, অর্থাৎ স্থিতিশীলতার জন্য ইপিএফ এবং পোর্টফোলিও বা বিনিয়োগের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে এসআইপি-র সহায়তা নেওয়া।















