আজকাল ওয়েবডেস্ক: নতুন অর্থবর্ষ ২০২৬–২৭ শুরুর পর বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় ঘোষণা করল অর্থ মন্ত্রক। ৩০ মার্চ ২০২৬-এ মন্ত্রক জানিয়ে দিয়েছে, জনপ্রিয় ছোট সঞ্চয় প্রকল্প পিপিএফে সুদের হার এপ্রিল-জুন ত্রৈমাসিকে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। অর্থাৎ ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে শুরু হওয়া নতুন অর্থবর্ষের প্রথম তিন মাসেও বিনিয়োগকারীরা আগের মতোই ৭.১% হারে করমুক্ত চক্রবৃদ্ধি সুদ পাবেন।
উল্লেখ্য, এর আগে জানুয়ারি-মার্চ ২০২৫-২৬ ত্রৈমাসিকের ক্ষেত্রেও একই সুদের হার বহাল রেখেছিল কেন্দ্র। ফলে টানা কয়েক বছর ধরে পিপিএফে সুদের হারে কোনও পরিবর্তন হয়নি। শেষবার ১ এপ্রিল ২০২০-এ এই হার নির্ধারণ করা হয়। তার আগে ২০১৯ সালের জুলাই থেকে ২০২০ সালের মার্চ পর্যন্ত ৭.৯% এবং ২০১৮ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত ৮% সুদ পাওয়া যেত এই স্কিমে।
কারা খুলতে পারবেন PPF অ্যাকাউন্ট?
পিপিএফের নিয়ম অনুসারে যে কোনও প্রাপ্তবয়স্ক ভারতীয় নাগরিক নিজের নামে একটি পিপিএফ অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। এছাড়া, অভিভাবকরা অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তান বা মানসিকভাবে অসুস্থ ব্যক্তির পক্ষেও অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন। তবে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হল—একজন ব্যক্তি সারা দেশে নিজের নামে মাত্র একটি পিপিএফ অ্যাকাউন্ট রাখতে পারবেন, তা পোস্ট অফিস হোক বা ব্যাঙ্ক—দুটো জায়গাতেই একসঙ্গে নয়।
PPF-এর সুবিধা কী?
পিপিএফ হল দীর্ঘমেয়াদি নিরাপদ বিনিয়োগের অন্যতম সেরা মাধ্যম। বছরে সর্বোচ্চ ১.৫ লক্ষ পর্যন্ত বিনিয়োগ করা যায়, যা সেকশন ৮০ সি (নতুন আয়কর আইন ২০২৫-এ সেকশন ১২৩) অনুযায়ী কর ছাড়ের সুবিধা দেয়—তবে এই সুবিধা শুধুমাত্র পুরনো ট্যাক্স ব্যবস্থায় পাওয়া যায়।
সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল—এই স্কিমে সুদ এবং ম্যাচিউরিটির টাকা সম্পূর্ণ করমুক্ত, তা পুরনো বা নতুন—যে কোনও ট্যাক্স ব্যবস্থাতেই। এছাড়া পিপিএফ অ্যাকাউন্টের মেয়াদ ১৫ বছর, যা দীর্ঘমেয়াদে একটি স্থিতিশীল ও ঝুঁকিমুক্ত রিটার্ন নিশ্চিত করে।
বর্তমান বাজারে PPF কেন আকর্ষণীয়?
যেখানে অনেক ব্যাঙ্ক ফিক্সড ডিপোজিটের সুদের হার কমিয়ে দিচ্ছে, সেখানে পিপিএফ এখনও ৭.১% নিশ্চিত রিটার্ন দিয়ে যাচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সরকারের গ্যারান্টি এবং ট্যাক্স-ফ্রি সুবিধা—ফলে এটি মধ্যবিত্ত ও রিস্ক-এভার্স বিনিয়োগকারীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে, স্থিতিশীল রিটার্ন, করমুক্ত সুবিধা এবং দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের জন্য পিপিএফ এখনও একটি নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রেখেছে।















