আজকাল ওয়েবডেস্ক: ২০২৬ সালে বিশ্ব ও দেশীয় বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা যাচ্ছে। মধ্য এশিয়াতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংঘাত, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য পথ হরমুজকে ঘিরে অনিশ্চয়তা বাজারকে বারবার দোলাচলে ফেলছে। এই পরিস্থিতিতে নিফটি ফিফটি সূচকও ওঠানামার মধ্যে রয়েছে। তবু এই অস্থিরতার মাঝেও একটি বিনিয়োগ অভ্যাস নিঃশব্দে শক্ত অবস্থানে রয়েছে—সিস্টেম্যাটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান বা এসআইপি।
স্বল্পমেয়াদি ভোলাটিলিটি এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অর্থ প্রত্যাহারের পরেও খুচরো বিনিয়োগকারীরা এসআইপিতে ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন। এটি স্পষ্ট করে যে বিনিয়োগের মানসিকতায় বড় পরিবর্তন এসেছে। এখন আর বাজারের সময় নির্ধারণ বা আবেগের উপর নির্ভর নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে স্থির থেকে সম্পদ গঠনের উপর জোর দিচ্ছেন বিনিয়োগকারীরা।
সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মার্চ মাসে এসআইপি-তে বিনিয়োগের পরিমাণ নতুন রেকর্ড ছুঁয়েছে—৩২,০৮৭ কোটি। ফেব্রুয়ারির ২৯,৮৪৫ কোটির তুলনায় এটি উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। একই সময়ে ইকুইটি মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ ৫৬% বেড়ে ৪০,৪৫০ কোটিতে পৌঁছেছে, যা বাজারের অস্থিরতার মাঝেও বিনিয়োগকারীদের আস্থা প্রদর্শন করে।
এর অন্যতম বড় শক্তি হল ‘কম্পাউন্ডিং’ বা চক্রবৃদ্ধি হারে বৃদ্ধি। উদাহরণ হিসেবে এসবিআই স্মল ক্যাপ ফান্ড দীর্ঘমেয়াদে উল্লেখযোগ্য রিটার্ন দিয়েছে। এই ধরনের ফান্ডে নিয়মিত বিনিয়োগ করলে সময়ের সঙ্গে সম্পদ দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং তা অনেক ক্ষেত্রে ফিক্সড ডিপোজিট বা ডেট ফান্ডের চেয়েও ভালো ফল দিতে পারে।
কেন এসআইপি গুরুত্বপূর্ণ:
প্রথমত, এসআইপি বিনিয়োগে ধারাবাহিকতা থাকে। বাজার কখন বাড়বে বা কমবে তা নিয়ে ভাবতে হয় না। নিয়মিত বিনিয়োগ দীর্ঘমেয়াদে ভালো রিটার্নের সম্ভাবনা তৈরি করে।
দ্বিতীয়ত, ‘রুপি কস্ট অ্যাভারেজিং’-এর সুবিধা রয়েছে। বাজার নিচে থাকলে বেশি ইউনিট এবং উপরে থাকলে কম ইউনিট কেনা হয়, ফলে গড় খরচ কমে যায়।
তৃতীয়ত, এটি বিনিয়োগে শৃঙ্খলা আনে। আবেগপ্রবণ সিদ্ধান্ত কমিয়ে একটি স্থির কৌশল অনুসরণ করা সম্ভব হয়।
চতুর্থত, কর সুবিধাও রয়েছে। লং টার্ম ক্যাপিটাল গেইনের উপর ১২.৫% কর দিতে হয়, তাও নির্দিষ্ট সীমার পর।
পঞ্চমত, দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগ করলে চক্রবৃদ্ধি হারে সম্পদ বৃদ্ধি পায় এবং ভবিষ্যতের আর্থিক পরিকল্পনা সহজ হয়।
সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের অস্থির বাজার পরিস্থিতিতেও এসআইপি একটি স্থিতিশীল ও কার্যকর বিনিয়োগ পদ্ধতি হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। নিয়মিত ও ধৈর্যশীল বিনিয়োগই দীর্ঘমেয়াদে সাফল্যের চাবিকাঠি—এটাই এসআইপি বিনিয়োগকারীদের সবচেয়ে বড় শিক্ষা।















