সাপের নাম শুনলেই যেখানে সাধারণ মানুষের শিরদাঁড়া দিয়ে হিমেল স্রোত বয়ে যায়, সেখানে ভারতের বুকেই এমন এক গ্রাম রয়েছে যেখানে বিষধর কেউটে সাপ ঘুরে বেড়ায় মানুষের শোবার ঘরে, রান্নাঘরে, এমনকি স্কুলের ক্লাসরুমেও। মহারাষ্ট্রের সোলাপুর জেলার এই অদ্ভুত গ্রামের নাম শেঠফল, যা বিশ্বজুড়ে 'সাপের গ্রাম' নামে পরিচিত। পুনে থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই গ্রামটি মানুষ ও বন্যপ্রাণের এক অবিশ্বাস্য ও ভীতিহীন সহাবস্থানের অনন্য নজির।
2
5
শেঠফল গ্রামের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হল, এখানকার প্রতিটি বাড়ির ছাদে বা কাঠের কাঠামোয় সাপের থাকার জন্য একটি নির্দিষ্ট ফাঁপা জায়গা তৈরি করা হয়। স্থানীয় ভাষায় এটিকে বলা হয় ‘দেবস্থানম’। কোনও নতুন বাড়ি তৈরি করার সময়েও সাপের আশ্রয়ের জন্য এই জায়গাটি রাখা বাধ্যতামূলক। বিষধর কেউটে সাপগুলো কোনও খাঁচায় বন্দী থাকে না; তারা ইচ্ছেমতো এই দেবস্থানমে এসে বিশ্রাম নেয়, ঘুরে বেড়ায় এবং গ্রামবাসীদের দেওয়া খাবার খায়।
3
5
এই গ্রামে সাপকে কোনও হিংস্র প্রাণী নয়, বরং পরিবারের সদস্য বা পোষ্য প্রাণীর মতো গণ্য করা হয়। এখানকার শিশুরা সাপের সঙ্গে অত্যন্ত সাবলীলভাবে খেলাধুলো করে বড় হয়। এমনকি গ্রামের স্কুলগুলোতে ক্লাস চলাকালীন কোনও কেউটে যদি ঘরের মেঝে দিয়ে চলে যায়, তবে শিক্ষক বা ছাত্র— কেউ বিন্দুমাত্র আতঙ্কিত হন না।
4
5
আপাতদৃষ্টিতে এটিকে অত্যন্ত বিপজ্জনক মনে হলেও, গ্রামটিতে আজ পর্যন্ত কোনও সাপের কামড়ে মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। গ্রামবাসীদের বিশ্বাস, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং নাগ দেবতার প্রতি গভীর ভক্তির কারণেই সাপেরা এখানে শান্ত থাকে। তবে বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের সহাবস্থানের ফলে গ্রামবাসীরা সাপের আচরণ খুব ভালো করে বুঝতে শিখেছেন, যা সংঘাত এড়াতে সাহায্য করে। শেঠফলের এই ঐতিহ্যের মূলে রয়েছে ধর্মীয় বিশ্বাস।
5
5
এখানকার মানুষ সাপকে ভগবান শিব এবং নাগ দেবতার জীবন্ত রূপ মনে করেন। বিশেষ করে ‘নাগপঞ্চমী’ উৎসবের সময় পুরো গ্রাম সেজে ওঠে। বাড়ির সামনে সাপের আলপনা দেওয়া হয় এবং অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে সাপেদের পুজো করা হয়। ভ্রমণপিপাসু এবং অফবিট ডেস্টিনেশন প্রেমীদের কাছে শেঠফল বর্তমানে একটি আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠছে। তবে পর্যটকদের জন্য প্রশাসনের স্পষ্ট নির্দেশ থাকে, সাপেদের দূর থেকে দেখা বা ছবি তোলার অনুমতি থাকলেও, তাদের কোনওভাবে বিরক্ত করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।