আজকাল ওয়েবডেস্ক: আন্তর্জাতিক বাজারে ফের ঊর্ধ্বমুখী হল সোনার দাম। মঙ্গলবার স্পট গোল্ডের দাম ১ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এর প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তি, যার ফলে তেলের দাম কমেছে এবং মূল্যস্ফীতির আশঙ্কাও কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক ফেডারেল রিজার্ভ চলতি বছরে সুদের হার বাড়াতে পারে—এই আশঙ্কাও অনেকটাই কমে গেছে। ফলে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে আবারও সোনার চাহিদা বেড়েছে।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম প্রতি আউন্সে ৪,৩১৮.৮৯ ডলারে পৌঁছায়। আগের সেশনে এটি ৫ জুনের পর সর্বোচ্চ স্তর স্পর্শ করেছিল। বিশ্লেষকদের মতে, গত কয়েক দিনের তুলনায় বিনিয়োগকারীদের মনোভাব এখন অনেকটাই ইতিবাচক, যার প্রভাব পড়েছে মূল্যবান ধাতুর বাজারে।
এই পরিবর্তনের মূল কারণ হল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত আমেরিকা-ইরান অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তি। এই চুক্তির আওতায় গত এপ্রিলে হওয়া যুদ্ধবিরতি আরও ৬০ দিনের জন্য বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের সময় এই জলপথ কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে বড় অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল।
বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, গত দুই দিনে সোনার বাজারে ইতিবাচক প্রবণতার অন্যতম কারণ হল আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধের সম্ভাবনা। এর ফলে স্বল্পমেয়াদি সুদের হার কমেছে, জ্বালানি তেলের দাম নেমেছে এবং ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনাও হ্রাস পেয়েছে।
চুক্তির ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৮০ ডলারের নিচে নেমে এসেছে, যা মার্চ মাসের পর এই প্রথম। সোমবার একদিনেই তেলের দাম প্রায় ৫ শতাংশ কমে যায়। তেলের দাম কমার ফলে ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতির চাপও কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
ডিসেম্বর মাসে ফেড সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন সম্ভাবনা আগের প্রায় ৭০ শতাংশ থেকে কমে এখন ৬০ শতাংশে নেমে এসেছে। এই পরিবর্তনও সোনার বাজারকে বাড়তি সমর্থন দিয়েছে।
সাধারণত সোনাকে মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে ধরা হলেও সুদের হার বেশি থাকলে সোনার প্রতি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ কমে যায়। কারণ সোনা কোনও সুদ বা নিয়মিত আয় দেয় না। তাই সুদের হার বৃদ্ধির সম্ভাবনা কমে গেলে সোনার দাম বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়।
এখন বাজারের নজর রয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের বৈঠকের দিকে। বিশেষ করে বুধবার ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এবং নতুন চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ার্শ-এর প্রথম নীতিগত ঘোষণার দিকে নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা। সেই সিদ্ধান্তই আগামী কয়েক সপ্তাহে সোনা ও অন্যান্য আর্থিক সম্পদের দামের গতিপথ অনেকটাই নির্ধারণ করবে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।















