আজকাল ওয়েবডেস্ক: রোজার শেষ লগ্নে সাধারণত দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভিড় উপচে পড়ে। রঙিন আলো, সেমাইয়ের গন্ধ, কাবাবের ধোঁয়া আর বিরিয়ানির সুবাসে জমে ওঠে ইদের প্রস্তুতি। কিন্তু ২০২৬ সালে সেই চেনা ছবি অনেকটাই ফিকে। কারণ একটাই—এলপিজি সঙ্কট।
এলাকার বহু ছোট খাবারের দোকান, যেগুলো বছরের এই সময়ে সবচেয়ে বেশি ব্যবসা করে, তারা এখন দিশেহারা। গ্যাস সিলিন্ডারের জোগান কমে যাওয়ায় অনেকেই দোকান আংশিক বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছেন, আবার কেউ কেউ সম্পূর্ণভাবে ব্যবসা গুটিয়ে ফেলেছেন। যারা টিকে আছেন, তারাও দাম বাড়াতে বাধ্য হয়েছেন।
স্থানীয় এক বিরিয়ানি বিক্রেতা বলেন, “আগে যেখানে ১৫০-১৮০ টাকায় প্লেট বিরিয়ানি বিক্রি করতাম, এখন সেটা ২৫০ টাকায় তুলতে হয়েছে। গ্যাসের দাম বেড়েছে, সরবরাহ অনিয়মিত—কী করে আগের দামে দেব?”
শুধু বিরিয়ানি নয়, কাবাব, হালিম, রুটি—সব কিছুর দামই বেড়েছে। ফলে সাধারণ ক্রেতাদের পকেটে চাপ পড়ছে। অনেকেই আগের মতো খাওয়া-দাওয়া করতে পারছেন না। এক ক্রেতার কথায়, “ইদ মানেই তো বাইরে খাওয়া, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা। কিন্তু এখন হিসেব করে খেতে হচ্ছে। আগের মতো আর খরচ করা যাচ্ছে না।”
এলপিজি সঙ্কটের প্রভাব শুধু দামের উপরই নয়, কাজের সুযোগের উপরও পড়েছে। বহু অস্থায়ী কর্মী, যারা রমজান মাসে অতিরিক্ত আয়ের আশায় এই দোকানগুলোতে কাজ করতেন, তারা কাজ হারিয়েছেন। একজন কর্মচারী বলেন, “রোজার সময় অতিরিক্ত কাজ পেতাম, এখন দোকানই বন্ধ। বাড়িতে টাকা পাঠানো কঠিন হয়ে গেছে।”
ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, কালোবাজারিও সমস্যাকে আরও জটিল করে তুলেছে। অনেক ক্ষেত্রে বাজারে সিলিন্ডার পাওয়া গেলেও তার দাম সরকারি দামের থেকে অনেক বেশি। ফলে ছোট ব্যবসায়ীদের পক্ষে তা কেনা সম্ভব হচ্ছে না।
এই পরিস্থিতিতে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। স্থানীয়দের দাবি, নিয়মিত সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং কালোবাজারি বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। না হলে শুধু ব্যবসায়ীরাই নয়, এলাকার সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিবেশও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
ইদ শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়, এটি একটি সাংস্কৃতিক মিলনমেলা। খাবার, আলো আর মানুষের ভিড়ে তৈরি হয় এক অনন্য পরিবেশ। কিন্তু এবারের ইদে সেই চেনা উচ্ছ্বাসে ভাটা পড়েছে।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন একটাই—যেখানে উৎসব মানেই আনন্দ, সেখানে যদি একটি প্লেট বিরিয়ানি কিনতেও দু’বার ভাবতে হয়, তাহলে কি সত্যিই সেই উৎসবের স্বাদ আগের মতো থাকে? এলপিজি সঙ্কট সেই উত্তরটাই যেন বদলে দিচ্ছে।
