আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশজুড়ে মোবাইল, ল্যাপট কেনার হিড়িক। ঋণ নিয়ে এিসব জিনিস কেনার প্রচোলন বেড়েছে। বাড়ছে ঋণ খেলাপির সংখ্যাও। এই ধরনের ঋণ খেলাপিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপের করার চিন্তা-ভাবনা শুরু করেছে ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। প্রস্তাব অনুযায়ী, ঋণে কেনা মোবাইল বা ল্যাপটপের কিস্তি কোনও গ্রাহক যদি টানা তিন মাসের বেশি সময় বকেয়া রাখেন, তাহলে সেশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ সেই ডিভাইসের নির্দিষ্ট পরিষেবা বন্ধ করতে পারবে।

এই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই চিন্তা বেড়েছে। তবে, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া জানিয়েছে যে, মোবাইল ফোন কেনার জন্য নেওয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করার কারণে ঋণদাতারা ফোনটিকে সম্পূর্ণভাবে ব্লক বা অকেজো করে দিতে পারবে না। খসড়া সংশোধনী নির্দেশিকায় উল্লেখ করেছে যে, ঋণের বকেয়া পরিশোধ না করা হলে ব্যাঙ্কগুলো মোবাইল ফোনের নির্দিষ্ট কিছু পরিষেবা বন্ধ করার জন্য কিছু পদক্ষেপ করতে পারবে। তবে, ফোনটিকে সম্পূর্ণভাবে অকেজো বা ব্লক করে দেওয়া যাবে না।

নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি আরও উল্লেখ করেছে যে, এই নিয়মগুলো শুধুমাত্র সেইসব ঋণের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য যা সুনির্দিষ্টভাবে মোবাইল ফোন কেনার জন্য নেওয়া হয়েছে। অন্য কোনও ধরনের ঋণের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হবে না।

হোম ক্রেডিট ফাইন্যান্স-এর ২০২৪ সালের একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে, ঋণের মাধ্যমে ফোন কেনা এখন একটি সাধারণ প্রবণতায় পরিণত হয়েছে। টেলিকম নিয়ন্ত্রক সংস্থার তথ্যমতে, বর্তমানে ভারতে ১১৬ কোটিরও বেশি মোবাইল সংযোগ রয়েছে। বর্তমানে সারা দেশজুড়ে যোগাযোগ, কর্মসংস্থান এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে মোবাইল ফোন মানুষের জন্য অপরিহার্য।

ব্যক্তিগত তথ্যে প্রবেশাধিকার থেকে আরবিআই-এর নিষেধাজ্ঞা
এর আগে ২০২৪ সালের শুরুর দিকে, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া ঋণদাতাদের নির্দেশ দিয়েছিল, যেন তারা ঋণের কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হওয়া ঋণগ্রহীতাদের ফোন লক করা থেকে বিরত থাকে। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ঋণ বিতরণের সময় ফোনে একটি বিশেষ অ্যাপ্লিকেশন ইনস্টল করা হতো, যার মাধ্যমে ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করা হলে দূর থেকেই ফোনটিকে লক করে দেওয়া সম্ভব হত। বিভিন্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, সংশোধিত নির্দেশিকা কার্যকর হলে ফোন লক করার কোনও ব্যবস্থা চালু করার আগে ঋণদাতাদের অবশ্যই ঋণগ্রহীতাদের কাছ থেকে পূর্বসম্মতি গ্রহণ করতে হবে। এছাড়াও, ফোনে সংরক্ষিত ঋণগ্রহীতার ব্যক্তিগত তথ্যে প্রবেশাধিকার বা তা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ঋণদাতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।

CRIF High Mark-এর তথ্যমতে, এক লক্ষ টাকার কম অঙ্কের ঋণের ক্ষেত্রে খেলাপি হওয়ার বা ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। ভারতে 'কনজিউমার ডিউরেবল' বা টেকসই ভোগ্যপণ্য কেনার জন্য প্রদত্ত ঋণের প্রায় ৮৫ শতাংশই আসে ব্যাঙ্ক-বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে। অন্যদিকে, ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থার মোট 'নন-ফুড ক্রেডিট' বা খাদ্য-বহির্ভূত ঋণের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই এখন ব্যক্তিগত ঋণের  অন্তর্ভুক্ত; আর এর মধ্যে ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি কেনার জন্য নেওয়া ঋণের পরিমাণ দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে।