আজকাল ওয়েবডেস্ক: লাইফ ইন্স্যুরেন্স কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া দেশের অন্যতম বৃহৎ ঘরোয়া সঞ্চয় ভান্ডার পরিচালনা করে। প্রায় ৫৭ লাখ কোটি টাকারও বেশি অ্যাসেট আন্ডার ম্যানেজমেন্ট থাকার কারণে এলআইসি শুধু একটি বীমা সংস্থা নয়, বরং ভারতের অন্যতম বৃহৎ দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারী হিসেবেও পরিচিত। বিমা বাজার ও আর্থিক বাজার উভয় ক্ষেত্রেই সংস্থাটির ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির পর যদিও এলআইসি-র স্টক দীর্ঘমেয়াদে ভাল লাভ দিতে পারেনি, তবুও কোটি কোটি পলিসিহোল্ডারের কাছে এলআইসি এখনও সঞ্চয়ের নিরাপদ মাধ্যম। কারণ এলআইসি পলিসি থেকে বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজারের মতো দ্রুত মুনাফা আশা করেন না; বরং নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাই সেখানে বড় বিষয়।
এলআইসি-র শেয়ারপ্রাইস একসময় ১,০০০ টাকার ওপরে উঠেছিল, তবে বর্তমানে তা ৮০০–৯০০ টাকার সীমায় স্থির হয়েছে। ১৪ জানুয়ারি বাজার বন্ধের সময় এই শেয়ারটির দাম ছিল ৮২৫ টাকা। গত ৫ বছরে শেয়ারটি প্রায় ০.১৪% কমে গেছে, অর্থাৎ তালিকাভুক্ত বিনিয়োগকারীরা উল্লেখযোগ্য রিটার্ন পাননি।
এলআইসি-র আর্থিক ফলাফল প্রকাশের অপেক্ষায়। তবে জুলাই–সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে কোম্পানি স্ট্যান্ডঅ্যালোন নিট প্রফিট করেছে ১০,০৫৩.৩৯ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩২% বেশি। নিট প্রিমিয়াম ইনকাম ৫.৫% বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়িয়েছে ১.২৬ লাখ কোটি টাকায়, এবং সলভেন্সি রেশিও উন্নতি পেয়ে হয়েছে ২.১৩। তবে এপ্রিল–জুন প্রান্তিকের তুলনায় লাভ ৮% কমেছে, যা দেখায় বীমা আয়ের প্রবাহ পরে পরিবর্তিত হলেও হতে পারে।
এলআইসি কঠোর বিনিয়োগ নীতি নিয়ম মেনে চলে। নিয়ম অনুসারে প্রচলিত বীমা পলিসির ক্ষেত্রে অন্তত ৫০% তহবিল সরকারি বন্ড ও অনুমোদিত নিরাপদ সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ করতে হয়। বাকি অংশের প্রায় ১৫–২০% স্থিতিশীল ভারতীয় কোম্পানির শেয়ারে বিনিয়োগ করা হয়। এরফলেই এলআইসি ভারতের সবচেয়ে বড় প্রাতিষ্ঠানিক ইকুইটি বিনিয়োগকারীতে পরিণত হয়েছে।
বাকি অর্থ রাজ্য সরকার বন্ড, কর্পোরেট বন্ড ও কাঠামো প্রকল্পে যায়। নিরাপত্তাই এলআইসি বিনিয়োগনীতির কেন্দ্রবিন্দু। পলিসিহোল্ডারের এই অর্থকে ট্রাস্টের অর্থ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ৭৫% এর বেশি তহবিল গ্যারান্টিযুক্ত সরকারি সিকিউরিটিজে যায়, যা ঝুঁকি কমায় এবং দীর্ঘমেয়াদি দাবি, বোনাস ও পেনশন ইত্যাদি নিশ্চিত করে।
এলআইসি পলিসিকে অনেকেই মিউচুয়াল ফান্ডের সাথে তুলনা করেন। তবে এটি সরাসরি তুলনীয় নয়। কারণ বিমা কোম্পানিকে মৃত্যুর ঝুঁকি কভার ও এজেন্ট কমিশনসহ বিভিন্ন চার্জ পলিসি প্রিমিয়াম থেকে কেটে রাখতে হয়, ফলে নিট রিটার্ন কমে যায়। ট্যাক্স সুবিধা কিছুটা ভালো থাকলেও খরচের কাঠামো একই সময়ে সরাসরি বিনিয়োগের তুলনায় কম রিটার্ন দেয়। সেদিক থেকে বিচার করলে এসআইসি কখনই মিউচুয়াল ফান্ড নয়।
