মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার একটি প্রায় ৬০০ কেজি ওজনের পুরোনো উপগ্রহ ধীরে ধীরে পৃথিবীর দিকে ফিরে আসছে। মহাকাশে দীর্ঘদিন কাজ করার পর এটি এখন নিয়ন্ত্রণহীন অবস্থায় পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করতে চলেছে। ফলে অনেকের মনে প্রশ্ন উঠছে—এতে কি পৃথিবীর মানুষের জন্য কোনও বিপদ রয়েছে?
2
9
বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, এই ধরনের ঘটনা মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে নতুন নয়। বহু পুরোনো স্যাটেলাইট বা মহাকাশযান সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাদের কক্ষপথ হারিয়ে পৃথিবীর দিকে ফিরে আসে। যখন এগুলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে, তখন ঘর্ষণের কারণে অত্যন্ত উচ্চ তাপমাত্রা তৈরি হয়। এর ফলে অধিকাংশ অংশই বায়ুমণ্ডলের মধ্যেই পুড়ে ছাই হয়ে যায়।
3
9
নাসার বিজ্ঞানীদের মতে, এই ৬০০ কেজি ওজনের স্যাটেলাইটের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটার সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি। বায়ুমণ্ডলে ঢোকার সময় তাপমাত্রা কয়েক হাজার ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে যায়, যা ধাতব কাঠামোকে দ্রুত গলিয়ে দেয়। ফলে সাধারণত খুব সামান্য অংশই পৃথিবীর মাটিতে পৌঁছাতে পারে।
4
9
তবে বিশেষজ্ঞরা এটাও বলছেন, পৃথিবীর পৃষ্ঠের প্রায় ৭০ শতাংশই সমুদ্র। বাকি অংশের বড় অংশ জঙ্গল, মরুভূমি বা জনবিরল এলাকা। তাই যদি কোনও ছোট অংশ মাটিতে পৌঁছায়ও, তা মানুষের বসবাসের জায়গায় পড়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম।
5
9
মহাকাশে বর্তমানে হাজার হাজার সক্রিয় ও নিষ্ক্রিয় স্যাটেলাইট রয়েছে। গত কয়েক দশকে বিভিন্ন দেশ ও সংস্থা প্রচুর উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করেছে। এর মধ্যে অনেকগুলোই তাদের কাজ শেষ করার পর মহাকাশে ঘুরে বেড়াচ্ছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এগুলোর কক্ষপথ নিচে নেমে আসে এবং শেষ পর্যন্ত পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ঢুকে পড়ে।
6
9
নাসা এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক মহাকাশ সংস্থাগুলো এখন মহাকাশের আবর্জনা বা “স্পেস ডেব্রিস” নিয়ে বেশ সতর্ক। কারণ মহাকাশে জমে থাকা এই ভাঙা স্যাটেলাইট বা ধ্বংসাবশেষ ভবিষ্যতের মহাকাশ মিশনের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই অনেক ক্ষেত্রেই স্যাটেলাইটের মিশন শেষ হলে সেগুলোকে পরিকল্পিতভাবে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করিয়ে ধ্বংস করা হয়।
7
9
এই নির্দিষ্ট ৬০০ কেজি স্যাটেলাইটটির ক্ষেত্রেও বিজ্ঞানীরা এর গতিপথ নজরে রাখছেন। উন্নত ট্র্যাকিং সিস্টেমের মাধ্যমে তারা হিসাব করছেন কখন এবং পৃথিবীর কোন অঞ্চলের আকাশে এটি বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করতে পারে। যদিও এখনো নির্দিষ্ট সময় বা স্থান সম্পর্কে চূড়ান্ত তথ্য দেওয়া হয়নি।
8
9
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। পরিসংখ্যান বলছে, মহাকাশের ধ্বংসাবশেষের কারণে মানুষের ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ—প্রায় কোটি কোটি ভাগের এক ভাগেরও কম।
9
9
সব মিলিয়ে বলা যায়, নাসার এই উপগ্রহ পৃথিবীতে ফিরে আসলেও তা নিয়ে বড় কোনও বিপদের আশঙ্কা নেই। অধিকাংশ অংশই আকাশেই পুড়ে যাবে, আর যদি কিছু অবশিষ্ট অংশ থেকেও থাকে, সেটি মানুষের বসবাসের এলাকায় পড়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তাই আপাতত বিষয়টি বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণেই রয়েছে, আতঙ্কের নয়।