আজকাল ওয়েবডেস্ক: শেয়ার বাজারে ইন্ট্রাডে বা ফিউচার্স অ্যান্ড অপশনস ট্রেডিং করেন? তাহলে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার সময় সঠিক ফর্ম নির্বাচন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভুল ফর্ম বেছে নিলে রিটার্নে ত্রুটি ধরা পড়তে পারে, এমনকি পরবর্তীতে আয়কর দপ্তরের নোটিসও আসতে পারে। ২০২৬-২৭ মূল্যায়ন বর্ষের জন্য ইন্ট্রাডে ট্রেডারদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখা জরুরি।


কোন ফর্ম বেছে নেবেন?
যাঁরা ইন্ট্রাডে ট্রেডিং থেকে আয় করেন, তাঁদের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আইটিআর ৩ জমা দিতে হবে। কারণ, আয়কর আইনের নিয়ম অনুযায়ী ইন্ট্রাডে ট্রেডিং থেকে প্রাপ্ত আয়কে ব্যবসায়িক আয় হিসেবে ধরা হয়। 


অন্যদিকে, শুধুমাত্র শেয়ার বিক্রির ফলে ক্যাপিটাল গেইন থাকলে আইটিআর ২ প্রযোজ্য হতে পারে। আবার মোট আয় ৫০ লক্ষ টাকার কম এবং শুধুমাত্র ১.২৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি মূলধনী লাভ থাকলে আইটিআর ১ ব্যবহার করা যায়।


সঠিক ব্যবসায়িক কোড উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক
ব্যবসার প্রকৃতি অনুযায়ী নির্দিষ্ট কোড উল্লেখ করতে হবে। আয়কর দপ্তরের নির্দেশ অনুযায়ী, ব্যবসা বা পেশার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক করদাতার জন্য এই তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক। অনলাইনে আইটিআর জমা দেওয়ার সময় ড্রপ-ডাউন তালিকা থেকে এই কোডগুলি নির্বাচন করা যায়।


টার্নওভার আলাদা করে জানাতে হবে
চলতি বছরে আইটিআর ৩-র নতুনভাবে ইন্ট্রাডে এবং ট্রেডিংয়ের টার্নওভার ও লাভ-ক্ষতির তথ্য আলাদাভাবে জানাতে হবে।
এর মধ্যে উল্লেখ করতে হবে—
ইন্ট্রাডে ট্রেডিংয়ের মোট টার্নওভার 
ইন্ট্রাডে ট্রেডিং থেকে লাভ বা ক্ষতি 
ট্রেডিংয়ের মোট টার্নওভার 
ট্রেডিং থেকে লাভ বা ক্ষতি 


হিসাবের খাতা রাখা কখন বাধ্যতামূলক?
অনেক ট্রেডারের ক্ষেত্রেই নিয়মিত হিসাবের খাতা রাখা বাধ্যতামূলক হতে পারে। সাধারণত যদি গত তিন বছরের মধ্যে কোনও বছরে ব্যবসার টার্নওভার ২৫ লক্ষের বেশি হয় অথবা নিট মুনাফা ২.৫ লক্ষের বেশি হয়, তাহলে হিসাবের খাতা সংরক্ষণ করতে হয়।


এছাড়া কোনও করদাতার মোট ব্যবসায়িক টার্নওভার ১০ কোটির বেশি হলে এবং নগদ লেনদেন মোট টার্নওভারের ৫ শতাংশের কম থাকলে নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে হিসাব নিরীক্ষা করানোরও প্রয়োজন হতে পারে।


আইটিআর ৩ জমার শেষ তারিখ
যেসব ক্ষেত্রে অডিটের প্রয়োজন নেই, তাঁদের জন্য জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩১ আগস্ট, ২০২৬। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন জমা না দিলে জরিমানা এবং অন্যান্য জটিলতার মুখে পড়তে হতে পারে।


অনেক করদাতা ভুলবশত আইটিআর ৪ জমা দিয়ে ফেলেন। কিন্তু ইন্ট্রাডে এবং ট্রেডিংয়ের ক্ষেত্রে আইটিআর ৪ ব্যবহার করা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এই ধরনের আয় সাধারণত আইটিআর ৩ আওতায় পড়ে। তাই রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে প্রয়োজনে একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট বা কর বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।


সঠিক আইটিআর ফর্ম নির্বাচন, ব্যবসার সঠিক কোড উল্লেখ, টার্নওভার ও লাভ-ক্ষতির সঠিক তথ্য প্রদান এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রিটার্ন দাখিল করলে ভবিষ্যতে কর-সংক্রান্ত জটিলতা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।

&t=1s