আজকাল ওয়েবডেস্ক: অবসরকালীন আর্থিক সুরক্ষা বা দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ গঠনের ক্ষেত্রে কর্মচারী ভবিষ্যনিধি এবং স্বেচ্ছাসেবী ভবিষ্যনিধি বর্তমানে সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যমগুলির মধ্যে অন্যতম। সরকারি সমর্থিত এই সঞ্চয় প্রকল্পগুলিতে আকর্ষণীয় সুদের পাশাপাশি কর ছাড়ের সুবিধাও রয়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ইপিএফ এবং ভিপিএফ—দুই ক্ষেত্রেই বার্ষিক ৮.২৫ শতাংশ হারে সুদ দেওয়া হচ্ছে। তবে ভিপিএফে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কর-সংক্রান্ত নিয়ম রয়েছে, যা জেনে রাখা অত্যন্ত জরুরি।
ইপিএফে কর্মী এবং নিয়োগকর্তা উভয়ের পক্ষ থেকেই বাধ্যতামূলকভাবে মূল বেতন ও মহার্ঘ ভাতার ১২ শতাংশ করে জমা হয়। অন্যদিকে ভিপিএফ সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী। অর্থাৎ ইপিএফের বাধ্যতামূলক অবদানের অতিরিক্ত হিসেবে একজন কর্মী নিজের ইচ্ছায় আরও অর্থ ভিপিএফে জমা করতে পারেন। চাইলে মূল বেতন এবং ডিএ ১০০ শতাংশ পর্যন্তও ভিপিএফে অবদান রাখা যায়। তবে এই অতিরিক্ত অর্থের সঙ্গে নিয়োগকর্তাকে কোনও অতিরিক্ত অবদান রাখতে হয় না।
ভিপিএফ কী?
কর্মচারী ভবিষ্যনিধি সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী, ইপিএফের বাধ্যতামূলক ১২ শতাংশ অবদানের অতিরিক্ত যে অর্থ কর্মচারী নিজের ইচ্ছায় জমা করেন, সেটিই ভিপিএফ নামে পরিচিত। ভিপিএফ চালু করতে চাইলে সরাসরি ইপিএফও পোর্টালে আবেদন করা যায় না। কর্মীকে আর্থিক বছরের শুরুতে নিজের সংস্থার মানবসম্পদ বা পেরোল বিভাগে একটি ঘোষণাপত্র জমা দিতে হয়, যেখানে অতিরিক্ত কত টাকা বা কত শতাংশ বেতন ভিপিএফে জমা করতে চান তা উল্লেখ করতে হয়।
২.৫ লক্ষের সীমা কেন গুরুত্বপূর্ণ?
একসময় ভিপিএফ সম্পূর্ণ করমুক্ত সুবিধার আওতায় ছিল। কিন্তু ২০২২ সাল থেকে কেন্দ্রীয় সরকার নতুন নিয়ম চালু করেছে। এখন কোনও কর্মীর বছরে মোট ইপিএফে নিজের অবদান যদি ২.৫ লক্ষের বেশি হয়, তাহলে অতিরিক্ত অংশের উপর অর্জিত সুদের উপর কর দিতে হবে।
অর্থাৎ বছরে ২.৫ লক্ষ পর্যন্ত কর্মীর নিজস্ব অবদানের উপর অর্জিত সুদ করমুক্ত থাকবে। কিন্তু এর বেশি জমা করা অর্থের উপর যে সুদ পাওয়া যাবে, তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আয়কর স্ল্যাব অনুযায়ী করযোগ্য হবে।
তবে যেখানে নিয়োগকর্তা ইপিএফে কোনও অবদান রাখেন না, সেখানে এই সীমা ৫ লক্ষ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।
কীভাবে হিসাব রাখা হয়?
কর বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন নিয়ম কার্যকর করার জন্য ইপিএফ অ্যাকাউন্টে দুটি পৃথক হিসাব রাখা হয়—একটি করমুক্ত অবদানের জন্য এবং অন্যটি করযোগ্য অবদানের জন্য। করমুক্ত অংশে ২.৫ লক্ষ পর্যন্ত অবদান, সেই অংশের সুদ এবং প্রয়োজনীয় উত্তোলনের হিসাব থাকে। অন্যদিকে সীমার অতিরিক্ত জমা অর্থ এবং তার উপর অর্জিত সুদের হিসাব আলাদা রাখা হয়, যাতে কর নির্ধারণ সহজ হয়।
কর ছাড়ের সুবিধা
ভিপিএফে বছরে সর্বোচ্চ ১.৫ লক্ষ পর্যন্ত বিনিয়োগ পুরনো কর ব্যবস্থার অধীনে আয়কর আইনের ধারা ৮০সি অনুযায়ী কর ছাড়ের জন্য যোগ্য। এছাড়া টানা পাঁচ বছর চাকরির পর ভিপিএফ থেকে এককালীন অর্থ তুললে তা সম্পূর্ণ করমুক্ত থাকে। তবে পাঁচ বছরের আগে আংশিক বা সম্পূর্ণ অর্থ তুললে সেই অর্থ নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী করযোগ্য হতে পারে।
ভিপিএফের প্রধান সুবিধা
বিনিয়োগের অন্যতম বড় সুবিধা হল, এটি ইপিএফের মতোই বর্তমানে ৮.২৫ শতাংশ বার্ষিক সুদ প্রদান করে, যা অনেক স্থায়ী আমানতের তুলনায় বেশি। পাশাপাশি এটি সরকারি সুরক্ষিত সঞ্চয় প্রকল্প হওয়ায় ঝুঁকি অত্যন্ত কম। দীর্ঘমেয়াদে নিশ্চিত রিটার্ন, কর ছাড় এবং অবসরকালীন বড় তহবিল গঠনের জন্য ভিপিএফ একটি কার্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই যাঁরা নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যমে ভবিষ্যতের জন্য বড় সঞ্চয় গড়ে তুলতে চান, তাঁদের জন্য ভিপিএফ একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক পরিকল্পনার মাধ্যম হতে পারে।















