আজকাল ওয়েবডেস্ক:  কেন্দ্রীয় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রক ২৯ জুন ইপিএস ২০২৬-র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। নতুন এই স্কিমটি ইপিএস ১৯৯৫ এবং ফ্যামিলি পেনশন স্কিম ১৯৭১-র পরিবর্তে কোড অন সোশ্যাল সিকিউরিটি ২০২০-র অধীনে কার্যকর হয়েছে। ফলে দেশের প্রায় ৬ কোটি ইপিএফও গ্রাহকের মনে প্রশ্ন উঠেছে, নতুন স্কিমে কি পেনশনের নিয়ম বদলেছে? অবসরের পরিকল্পনায় কি নতুন করে পরিবর্তন আনতে হবে?


বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, পেনশন পাওয়ার মূল নিয়ম এবং পেনশন গণনার সূত্রে কোনও বড় পরিবর্তন করা হয়নি। অর্থাৎ মাসিক পেনশন পাওয়ার জন্য এখনও আগের মতোই অন্তত ১০ বছরের পেনশনযোগ্য চাকরির মেয়াদ পূরণ করতে হবে এবং সাধারণত ৫৮ বছর বয়সে অবসর গ্রহণের পর আজীবন মাসিক পেনশনের সুবিধা মিলবে।


তবে যাঁরা ৫০ বছর বয়সের পর অবসর নিতে চান, তাঁদের জন্য আগের মতোই কম হারে আগাম পেনশনের সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, যদি কোনও কর্মী ১০ বছরের কম সময় চাকরি করেন, তাহলে তিনি আজীবন মাসিক পেনশনের যোগ্য হবেন না। সেক্ষেত্রে ইপিএসে জমা অর্থ নির্দিষ্ট নিয়মে এককালীন তুলে নেওয়া অথবা ভবিষ্যতের জন্য স্কিম সার্টিফিকেট সংগ্রহ করে পরিষেবা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ থাকবে।


কীভাবে হিসাব করা হয় ইপিএস পেনশন?
ইপিএফও-র নির্ধারিত দীর্ঘদিনের সূত্র অনুযায়ী মাসিক পেনশনের হিসাব করা হয়—
মাসিক পেনশন = (পেনশনযোগ্য বেতন × পেনশনযোগ্য চাকরির মেয়াদ) ÷ 70
এখানে পেনশনযোগ্য বেতন বলতে শেষ ৬০ মাসের গড় মূল বেতন এবং মহার্ঘ ভাতার গড়কে বোঝায়। তবে অধিকাংশ ইপিএফও সদস্যের ক্ষেত্রে এই বেতন সর্বোচ্চ ১৫,০০০ পর্যন্ত ধরা হয়।


এই সূত্র অনুযায়ী যদি কোনও কর্মী ১০ বছর চাকরি করেন, তাহলে তাঁর সম্ভাব্য মাসিক পেনশন হবে প্রায় ২,১৪৩। ১৫ বছর চাকরিতে এই পরিমাণ বেড়ে প্রায় ৩,২১৪, ২০ বছরে ৪,২৮৬, ২৫ বছরে ৫,৩৫৭, ৩০ বছরে ৬,৪২৯, ৩৩ বছরে ৭,০৭১ এবং সর্বোচ্চ ৩৫ বছরের পেনশনযোগ্য পরিষেবা পূরণ করলে মাসিক পেনশন প্রায় ৭,৫০০ পর্যন্ত হতে পারে।


যদিও এই অঙ্ক খুব বেশি নয়, তবুও এটি আজীবনের জন্য নিশ্চিত মাসিক আয়ের সুযোগ করে দেয়, যা অবসর-পরবর্তী আর্থিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


সর্বনিম্ন পেনশন কত?
বর্তমানে ইপিএসের অধীনে সর্বনিম্ন মাসিক পেনশন ১,০০০-ই রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই ন্যূনতম পেনশন ৫,০০০ থেকে ৭,৫০০ করার দাবি উঠলেও এখনও পর্যন্ত সরকার এবিষয়ে কোনও চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করেনি। ফলে আপাতত আগের ন্যূনতম পেনশনই বহাল রয়েছে।


চাকরি বদলালে পিএফ তুলে নেওয়া কি ঠিক?
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক কর্মী চাকরি পরিবর্তনের সময় ইপিএফের অর্থ তুলে নেন। কিন্তু এতে ভবিষ্যতের ইপিএস পেনশনের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। কারণ চাকরি বদলের সময় পরিষেবা ধারাবাহিকভাবে স্থানান্তর না করলে ১০ বছরের পেনশনযোগ্য চাকরির হিসাব ভেঙে যেতে পারে। ফলে ভবিষ্যতে আজীবন মাসিক পেনশনের অধিকার হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়।


তাই চাকরি পরিবর্তনের সময় ইপিএফ ও ইপিএস অ্যাকাউন্ট নতুন প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করাই বুদ্ধিমানের কাজ। এতে পরিষেবার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে এবং ভবিষ্যতে অবসরকালীন পেনশনের সুবিধা পাওয়ার পথও সুগম হবে। নতুন ইপিএস ১০২৬  কার্যকর হলেও পেনশনের মূল কাঠামো অপরিবর্তিত থাকায় দীর্ঘমেয়াদি অবসর পরিকল্পনায় ধারাবাহিক চাকরির গুরুত্ব আগের মতোই রয়ে গেছে।

&t=1s