আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতে কাগজের বদলে আরও টেকসই ও নিরাপদ পলিমার ব্যাঙ্কনোট চালুর পরিকল্পনা এবার বাস্তবায়নের পথে এক ধাপ এগোল। রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া-র অধীনস্থ মুদ্রা মুদ্রণকারী সংস্থা ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক নোট মুদ্রণ প্রাইভেট লিমিটেড পলিমার নোট তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় বিশেষ সাবস্ট্রেট সরবরাহে দেশি-বিদেশি সংস্থার কাছ থেকে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছে। আগ্রহী সংস্থাগুলিকে ১৮ আগস্ট ২০২৬-এর মধ্যে আবেদন জমা দিতে হবে।
গত মাসেই আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা জানিয়েছিলেন যে, ভারতে পলিমার নোট চালুর বিষয়টি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তবে নতুন দরপত্র প্রকাশের ফলে স্পষ্ট হয়েছে যে, প্লাস্টিকের তৈরি এই নতুন ধরনের নোট চালুর প্রস্তুতি জোরকদমে এগোচ্ছে।
প্রথমে আসতে পারে ১০ ও ২০-র পলিমার নোট
সূত্রের খবর, পরীক্ষামূলকভাবে প্রথম পর্যায়ে ১০ এবং ২০ মূল্যমানের পলিমার নোট বাজারে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এই নোটগুলি বিশেষ নিরাপত্তা কালি ব্যবহার করে ছাপানো হবে, যা ভারতীয় নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুযায়ী তৈরি করা হবে।
প্রাথমিক পর্যায়ে প্রায় ৬৮,০০০ রিম ভিত্তিক পলিমার সাবস্ট্রেট কেনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রতিটি রিমে থাকবে ৫০০টি শিট। ভবিষ্যতে পরীক্ষামূলক ব্যবহার সফল হলে আরও বড় পরিমাণে এবং বিভিন্ন মূল্যমানের নোটের জন্য নতুন দরপত্র ডাকা হবে বলে।
থাকবে একাধিক আধুনিক নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য
নতুন পলিমার নোটে জালিয়াতি রোধে একাধিক উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হবে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল—
স্বচ্ছ উইন্ডো সহ প্রতিকৃতি
ধাতব সংখ্যার ছাপ
ম্যাগনেটিক ছদ্ম সিকিউরিটি থ্রেড
শ্যাডো ইমেজ
আইরিডিসেন্ট প্যাটার্ন
দরপত্রে কঠোর নিরাপত্তা শর্ত
জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে দরপত্রে একাধিক কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে। আবেদনকারী সংস্থাগুলিকে নিশ্চিত করতে হবে যে তাদের চীন বা পাকিস্তানে থাকা ব্যবসায়িক কাজ ভারতের সঙ্গে যুক্ত কাজ থেকে সম্পূর্ণ আলাদা থাকবে।
এছাড়া চীন বা পাকিস্তান থেকে কোনও কাঁচামাল সংগ্রহ করা যাবে না এবং ওই দুই দেশে কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে এমন কর্মীদেরও এই প্রকল্পে নিয়োগ করা যাবে না। ভারতের সঙ্গে স্থলসীমান্ত ভাগ করে এমন দেশের সংস্থাগুলিকে অংশগ্রহণের জন্য রেজিস্ট্রেশন কমিটির অনুমোদন থাকতে হবে।
কারা আবেদন করতে পারবেন?
দেশি ও বিদেশি নির্মাতা, যৌথ উদ্যোগ, প্রযুক্তি সহযোগী বা সহযোগী সংস্থা—সকলেই আবেদন করতে পারবেন। তবে তাদের অন্তত তিন বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে কোনও কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক বা সরকারি নিরাপত্তা মুদ্রণ সংস্থাকে নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যযুক্ত পলিমার সাবস্ট্রেট সরবরাহ করার ক্ষেত্রে।
এছাড়া মোট চাহিদার অন্তত ৩০ শতাংশ, অর্থাৎ ২০,৪০০ রিম সরবরাহ করার সক্ষমতা থাকতে হবে। আবেদনকারীদের পরীক্ষাগারে যাচাইয়ের জন্য অন্তত ১০টি নমুনা পলিমার শিট জমা দিতে হবে। সেই সঙ্গে প্রমাণ দিতে হবে যে উপাদানগুলিতে প্রাণিজ চর্বি নেই। আর্থিক ক্ষমতা, উৎপাদন ক্ষমতা এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত অনুমোদনের নথিও জমা দিতে হবে।
ভারতে পলিমার নোট চালু হলে তা কাগজের নোটের তুলনায় অনেক বেশি টেকসই হবে, সহজে ছিঁড়বে না এবং জাল নোট তৈরি করা আরও কঠিন হবে। সফল পরীক্ষার পর ভবিষ্যতে আরও বিভিন্ন মূল্যের নোটেও এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হতে পারে।
















