আজকাল ওয়েবডেস্ক: আজকের দিনে দোকানে পেমেন্ট করা থেকে শুরু করে ট্রেনের টিকিট, রেস্তোরাঁর মেনু দেখা, Wi-Fi সংযোগ নেওয়া কিংবা কোনও ওয়েবসাইটে প্রবেশ—সব ক্ষেত্রেই QR কোড আমাদের নিত্যসঙ্গী। স্মার্টফোন ক্যামেরা খুলে QR কোড স্ক্যান করলেই মুহূর্তের মধ্যে তথ্য সামনে চলে আসে। কিন্তু কখনও কি ভেবে দেখেছেন, প্রায় প্রতিটি QR কোডের তিনটি কোণে বড় কালো বর্গাকার চিহ্ন কেন থাকে?
আসলে এই তিনটি বড় কালো বক্স কোনও ডিজাইনের অংশ নয়, বরং QR কোডের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত উপাদান। এগুলিকে বলা হয় ফাইন্ডার প্যাটার্ন। স্মার্টফোন বা স্ক্যানার প্রথমে এই তিনটি চিহ্নকেই শনাক্ত করে। এর সাহায্যে ডিভাইস বুঝতে পারে কোথায় QR কোডটি রয়েছে, সেটি কোন দিকে ঘোরানো আছে এবং কীভাবে সেটিকে সঠিকভাবে পড়তে হবে।
QR কোড প্রথম তৈরি করে জাপানের প্রযুক্তি সংস্থা ডেনসো ওয়েভ। ১৯৯৪ সালে মূলত কারখানায় যন্ত্রাংশের দ্রুত ট্র্যাকিং ও লজিস্টিক ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার জন্য এই প্রযুক্তি তৈরি করা হয়। প্রচলিত বারকোডের তুলনায় QR কোডে অনেক বেশি তথ্য সংরক্ষণ করা সম্ভব এবং বিভিন্ন কোণ থেকেও এটি দ্রুত স্ক্যান করা যায়।
অনেকেই মনে করেন QR কোড শুধু এলোমেলো কালো-সাদা ঘরের সমষ্টি। বাস্তবে বিষয়টি একেবারেই তা নয়। QR কোডের প্রতিটি ছোট বর্গাকার ঘরকে বলা হয় মডিইল। প্রতিটি মডিউল নির্দিষ্ট তথ্য বহন করে অথবা স্ক্যানিং প্রক্রিয়ায় বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাত্র তিনটি ফাইন্ডার প্যাটার্ন-ই যথেষ্ট। কারণ এই তিনটি চিহ্ন ব্যবহার করেই স্ক্যানার QR কোডের অবস্থান, আকার এবং ঘূর্ণনের দিক নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করতে পারে। যদি চারটি কোণেই একই ধরনের বড় বক্স রাখা হতো, তাহলে অপ্রয়োজনীয়ভাবে জায়গা নষ্ট হতো। সেই অতিরিক্ত স্থান তথ্য সংরক্ষণ ও অন্যান্য প্রযুক্তিগত অংশের জন্য ব্যবহার করা হয়েছে।
QR কোড যদি একটু বাঁকা থাকে, ভাঁজ পড়ে যায় বা ক্যামেরা থেকে তির্যকভাবে দেখা হয়, তবুও স্মার্টফোন এই বিশেষ চিহ্নগুলোর সাহায্যে ছবিটিকে ডিজিটালভাবে সোজা করে নিয়ে তারপর তথ্য পড়ে।
সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হল, QR কোডে এরর কারেকশন প্রযুক্তি থাকায় কোডের কিছু অংশ ছিঁড়ে গেলে, ময়লা লাগলে বা সামান্য ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অনেক সময় সেটি অনায়াসেই স্ক্যান করা যায়। অর্থাৎ কিছু তথ্য নষ্ট হলেও বাকি তথ্য থেকে পুরো ডেটা পুনর্গঠন করা সম্ভব।
বর্তমানে ডিজিটাল পেমেন্ট, ই-টিকিট, অনলাইন মেনু, পরিচয় যাচাই, Wi-Fi শেয়ারিং থেকে শুরু করে অসংখ্য ক্ষেত্রে QR কোড ব্যবহৃত হচ্ছে। এর দ্রুততা, নির্ভুলতা এবং নির্ভরযোগ্যতার পেছনে রয়েছে এই সূক্ষ্ম প্রকৌশল। তাই পরের বার কোনও QR কোড স্ক্যান করার সময় তিনটি কালো বক্স দেখলে বুঝবেন, সেগুলিই আসলে পুরো প্রযুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।
















