আজকাল ওয়েবডেস্ক: যারা প্রতি বছর আয়কর রিটার্ন ফাইল করার আগে নিজের প্রতিষ্ঠানের দেওয়া ফর্ম ১৬-এর জন্য অপেক্ষা করেন, তাঁদের জন্য ২০২৬ হতে চলেছে একেবারেই আলাদা। কারণ, ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকে পুরনো ফর্ম ১৬ আর পাওয়া নাও যেতে পারে। তার পরিবর্তে চালু হচ্ছে নতুন নথি—ফর্ম ১৩০। নতুন আয়কর বিধি, ২০২৬ অনুযায়ী এই পরিবর্তন কার্যকর হবে এবং এটি করদাতাদের জন্য আরও বিস্তারিত ও প্রযুক্তিনির্ভর রিপোর্টিং ব্যবস্থা নিয়ে আসবে।


ফর্ম ১৬-এর জায়গায় ফর্ম ১৩০
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ফর্ম ১৬-এর পরিবর্তে ফর্ম ১৩০-ই হবে নিয়োগকর্তার দেওয়া টিডিএস সার্টিফিকেট। তবে এটি আগের তুলনায় অনেক বেশি তথ্যসমৃদ্ধ হবে। ফর্ম ১৩০ তিনটি ভাগে বিভক্ত থাকবে। প্রথম অংশে থাকবে নিয়োগকর্তা ও কর্মচারীর মৌলিক তথ্য। দ্বিতীয় অংশে দেওয়া থাকবে বেতন এবং কাটা করের সারসংক্ষেপ। আর তৃতীয় অংশে বিস্তারিতভাবে দেখানো হবে কীভাবে আপনার করযোগ্য আয় হিসাব করা হয়েছে।


আরও স্বচ্ছ ও বিস্তারিত তথ্য
ফর্ম ১৩০-এর অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হল এর বিশদ তথ্য প্রদান। এতে আপনার বেতনের সম্পূর্ণ ব্রেক-আপ, বিভিন্ন ছাড় ও ডিডাকশন, মোট করযোগ্য আয়, করের পরিমাণ এবং কোনও রিলিফ থাকলে তার বিবরণ থাকবে। পাশাপাশি, টিডিএস বা টিসিএসের বিস্তারিত তথ্যও উল্লেখ থাকবে, যা শেষ পর্যন্ত আপনার মোট করের দায় নির্ধারণে সাহায্য করবে।


কারা বেশি প্রভাবিত হবেন?
এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়বে বেতনভুক্ত কর্মীদের উপর। কারণ তাঁদের আয় ও কর সংক্রান্ত তথ্য এখন আরও বেশি নির্ভুল ও প্রি-ফিল্ড আকারে পাওয়া যাবে। বিনিয়োগকারীদের ক্ষেত্রেও প্রভাব পড়বে, কারণ ক্যাপিটাল গেইন সংক্রান্ত তথ্য আরও নির্ভুলভাবে জানাতে হবে। এনআরআই এবং উচ্চ আয়ের করদাতাদের জন্যও কড়াকড়ি বাড়বে তথ্য প্রকাশে। তবে প্রবীণ নাগরিকদের জন্য এই পরিবর্তন কিছুটা সুবিধাজনক হতে পারে, কারণ তাঁদের পেনশন ও সুদের আয় রিপোর্ট করা সহজ হবে।


প্রযুক্তিনির্ভর নতুন ব্যবস্থা
ফর্ম ১৩০ সম্পূর্ণভাবে পোর্টালের মাধ্যমে জেনারেট হবে এবং এটি ম্যানুয়ালি ইস্যু করা যাবে না। অর্থাৎ, নিয়োগকর্তাদের আগে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টিডিএস রিটার্ন ফাইল করতে হবে এবং তা প্রসেস হওয়ার পরেই এই ফর্ম পাওয়া যাবে। ফলে পুরো প্রক্রিয়াটি এখন আরও বেশি সিস্টেম-নির্ভর হয়ে উঠছে।


ভুলের সুযোগ কমবে
এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য হল নিয়োগকর্তা ও করদাতার দেওয়া তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি কমানো। স্ট্যান্ডার্ডাইজড এবং বিস্তারিত তথ্যের কারণে ভুলের সম্ভাবনা অনেকটাই কমে আসবে। তবে একই সঙ্গে করদাতাদের আরও সতর্ক হতে হবে, কারণ এখন হাতে করে সংশোধনের সুযোগও অনেকটাই কমে যাবে।

 


সব মিলিয়ে, ফর্ম ১৬ থেকে ফর্ম ১৩০-এ এই পরিবর্তন ভারতের আয়কর ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করে তুলবে। এটি যেমন কর ফাইলিং প্রক্রিয়াকে সহজ করবে, তেমনই করদাতাদের কাছ থেকে আরও বেশি নির্ভুলতা ও সতর্কতাও দাবি করবে।