আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতে দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় ও নির্ভরযোগ্য স্কিমগুলির মধ্যে অন্যতম হল পিপিএফ। কর সুবিধা, নিরাপত্তা এবং স্থিতিশীল সুদের কারণে এই সরকারি স্কিম বহু বছর ধরেই সাধারণ মানুষের আস্থার কেন্দ্রবিন্দু। ভারত সরকারের সমর্থিত হওয়ায় এতে ঝুঁকি প্রায় নেই বললেই চলে, যা এটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।
সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রক ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিক জন্য পিপিএফ সহ বিভিন্ন ছোট সঞ্চয় প্রকল্পের সুদের হার ঘোষণা করেছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সুদের হারে কোনও পরিবর্তন আনা হয়নি। অর্থাৎ, বর্তমানে পিপিএফে সুদের হার রয়েছে ৭.১%। উল্লেখযোগ্যভাবে, শেষবার এই হার পরিবর্তন করা হয়েছিল ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষের চতুর্থ ত্রৈমাসিকে।
পিপিএফের মূল বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে রয়েছে—এক অর্থবর্ষে ন্যূনতম ৫০০ এবং সর্বোচ্চ ১.৫ লক্ষ বিনিয়োগ করা যায়। এই স্কিমের লক-ইন পিরিয়ড ১৫ বছর, তবে মেয়াদ শেষে ৫ বছর করে একাধিকবার বাড়ানো সম্ভব। এই বাড়তি সময়েও আপনি চাইলে নতুন করে বিনিয়োগ করতে পারেন অথবা শুধুমাত্র জমাকৃত অর্থের উপর সুদ উপভোগ করতে পারেন।
এবার আসা যাক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে—কীভাবে পিপিএফ থেকে ১ কোটি টাকার তহবিল গড়ে তোলা সম্ভব? ধরুন, আপনি প্রতি বছর নিয়ম করে ১.৫ লক্ষ বিনিয়োগ করছেন এবং সুদের হার স্থিরভাবে ৭.১% থাকছে। এই ক্ষেত্রে ১৫ বছরে আপনার মোট তহবিল দাঁড়াবে প্রায় ৪০.৬৮ লক্ষ।
এরপর যদি আরও ৫ বছর মেয়াদ বাড়ান, তাহলে ২০ বছরে তা বেড়ে হবে প্রায় ৬৬.৫৮ লক্ষ। আর ২৫ বছর পর্যন্ত বিনিয়োগ চালিয়ে গেলে এই তহবিল বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ১.০৩ কোটি। অর্থাৎ, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও নিয়মিত বিনিয়োগের মাধ্যমে ১ কোটি তহবিল তৈরি করা একেবারেই সম্ভব।
এখন প্রশ্ন—এই তহবিল থেকে কীভাবে মাসে ৬১,০০০ পেনশন পাওয়া যাবে? ধরুন, ২৫ বছর পর আপনি আর নতুন করে বিনিয়োগ করছেন না, কিন্তু আপনার জমা অর্থ পিপিএফে রেখেই দিয়েছেন। এই অবস্থায় আপনি শুধু সুদের অর্থ উপভোগ করবেন। ১.০৩ কোটি টাকার উপর ৭.১% হারে বছরে সুদ পাবেন প্রায় ৭.৩২ লক্ষ। এই বার্ষিক সুদকে ১২ মাসে ভাগ করলে মাসিক আয় দাঁড়ায় প্রায় ৬০,৯৮৯—অর্থাৎ প্রায় ৬১,০০০।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল এই মাসিক আয় পেতে আপনার মূল টাকার কোনও ক্ষয় হবে না। অর্থাৎ, ১.০৩ কোটি তহবিল অক্ষত রেখেই আপনি নিয়মিত আয় করতে পারবেন, যা অবসর জীবনে একটি স্থায়ী আর্থিক নিরাপত্তা প্রদান করতে পারে।
সবশেষে বলা যায় পিপিএফ শুধুমাত্র একটি সঞ্চয় প্রকল্প নয়, বরং এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনার শক্ত ভিত্তি। নিয়মিত বিনিয়োগ, ধৈর্য এবং সঠিক কৌশল মেনে চললে এই স্কিম আপনাকে ভবিষ্যতে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করে তুলতে পারে।















