আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের শীর্ষ আইটি সংস্থা টিসিএস একদিকে কর্মীসংখ্যা কমাচ্ছে, অন্যদিকে আবার বেতন বৃদ্ধির স্বাভাবিক চক্রে ফিরছে। এই দুই প্রবণতা একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে সংস্থার সাম্প্রতিক আর্থিক বছরে। এর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কেন্দ্র করে কাজের ধরনেও বড় পরিবর্তন আনছে কোম্পানি।


২০২৬ অর্থবর্ষ শেষে টিসিএসের মোট কর্মীসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫,৮৪,৫১৯, যা আগের বছরের তুলনায় ২৩,৪৬০ কম। তবে এটি সরাসরি নিয়োগ বন্ধের ইঙ্গিত নয়। বরং সংস্থাটি এখন আরও বাছাই করে, নির্দিষ্ট দক্ষতার ভিত্তিতে নিয়োগ করছে। একই সময়ে এপ্রিল থেকে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট চালু হয়েছে, যা গত বছরের বিলম্বের পর আবার স্বাভাবিক সময়সূচিতে ফিরেছে।


সংস্থার দাবি, সব স্তরের কর্মীদের জন্য বেতন বৃদ্ধি কার্যকর হয়েছে, তবে শীর্ষ পারফর্মারদের ক্ষেত্রে বেশি বেতন বৃদ্ধি দেওয়া হচ্ছে। যদিও গড় বেতন বৃদ্ধির হার প্রকাশ করা হয়নি, তবুও স্পষ্ট যে এখন বেতন কাঠামো আরও পারফরম্যান্স-নির্ভর হয়ে উঠছে।


নিয়োগের ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তন এসেছে। এখন টিসিএস মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড, সাইবার সিকিউরিটি এবং ডিজিটাল ইঞ্জিনিয়ারিং-এর মতো ক্ষেত্রেই নতুন কর্মী নিচ্ছে। অর্থাৎ, আগের মতো বড় আকারে সাধারণ নিয়োগ না করে, নির্দিষ্ট চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ কর্মী নেওয়ার দিকে ঝুঁকছে সংস্থা।
এই পরিবর্তনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এআই। টিসিএস জানিয়েছে, ইতিমধ্যেই ২.৭ লক্ষের বেশি কর্মী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও মেশিন লার্নিং-এ উন্নত প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। গত বছরে কর্মীরা মোট ৬৯ মিলিয়ন ঘণ্টা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন, যা সংস্থার দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোরকে স্পষ্ট করে।


আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল এখন সংস্থার প্রায় অর্ধেক অভ্যন্তরীণ প্রজেক্টে কর্মী বণ্টন এআই ভিত্তিক সিস্টেমের মাধ্যমে হচ্ছে। এই সিস্টেম কর্মীদের দক্ষতার সঙ্গে প্রকল্পের চাহিদা মিলিয়ে দেয়, ফলে অনেক ক্ষেত্রে বাইরের নিয়োগের প্রয়োজন কমে যাচ্ছে।


এর ফলে টিসিএস কর্মী নিয়োগে নতুন মডেল তৈরি হচ্ছে। আগে যেখানে ব্যবসা বাড়লে কর্মীসংখ্যাও বাড়ত, এখন সেখানে একই কাজ দক্ষতা উন্নয়ন এবং এআই ব্যবহারের মাধ্যমে বর্তমান কর্মীদের দিয়েই সামলানো হচ্ছে।


সব মিলিয়ে, সংস্থার প্রবণতা এখন অনেকটাই পরিষ্কার। নিয়োগ চলছে, তবে সীমিত এবং দক্ষতা-নির্ভর। বেতন বৃদ্ধি আবার নিয়মিত হয়েছে, কিন্তু তা আর সবার জন্য সমান নয়। আর কাজের বড় অংশই এখন অভ্যন্তরীণভাবে পুনর্বিন্যাস করা হচ্ছে।

 


কর্মীদের জন্য এর বার্তা স্পষ্ট—কেবল অভিজ্ঞতা নয়, দক্ষতা ও পারফরম্যান্সই এখন সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। বিশেষ করে এআই ও ডিজিটাল প্রযুক্তির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দক্ষতা থাকলেই ভবিষ্যতে সুযোগ বাড়বে। টিসিএস এখনও বৃদ্ধি পাচ্ছে, তবে কর্মী নিয়োগ, বেতন এবং কাজের ধরনে যে পরিবর্তন আসছে, তা ভবিষ্যতের আইটি শিল্পের নতুন দিশা দেখাচ্ছে।