আজকাল ওয়েবডেস্ক: কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো নিয়ে আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে সম্ভাব্য অষ্টম বেতন কমিশন। বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠন ও ইউনিয়নের পক্ষ থেকে এবার জোরালোভাবে দাবি তোলা হয়েছে—ন্যূনতম বেসিক বেতন বাড়িয়ে ৬৯,০০০ করা হোক এবং প্রতি বছর অন্তত ৬% হারে বেতন বৃদ্ধি নিশ্চিত করা হোক। এই প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে লক্ষ লক্ষ কর্মচারী ও পেনশনভোগীর আর্থিক অবস্থার বড়সড় উন্নতি হতে পারে।
বর্তমানে সপ্তম বেতন কমিশনের আওতায় কেন্দ্রীয় কর্মচারীদের ন্যূনতম বেসিক বেতন ১৮,০০০। ইউনিয়নগুলির দাবি, গত কয়েক বছরে মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার খরচ যেভাবে বেড়েছে, সেই প্রেক্ষিতে এই বেতন যথেষ্ট নয়। তাই নতুন কমিশনে ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ৩.৮৩ নির্ধারণ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর অনুযায়ী বর্তমান বেতন কাঠামোকে গুণ করলে ন্যূনতম বেসিক বেতন প্রায় ৬৯,০০০-এ পৌঁছাতে পারে।
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর মূলত একটি গুণক, যার মাধ্যমে পুরনো বেতনকে নতুন স্কেলে রূপান্তর করা হয়। সপ্তম বেতন কমিশনে এই ফ্যাক্টর ছিল ২.৫৭। ফলে অষ্টম বেতন কমিশনে ৩.৮৩ ফ্যাক্টর কার্যকর হলে কর্মচারীদের বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। শুধু কর্মরত কর্মচারীরাই নয়, পেনশনভোগীরাও এর সুফল পাবেন, কারণ পেনশনও একই অনুপাতে বৃদ্ধি পাবে।
ইউনিয়নগুলির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি হল, প্রতি বছর ৬% হারে বেতন বৃদ্ধি বাধ্যতামূলক করা। বর্তমানে মহার্ঘভাতা বৃদ্ধি হলেও তা সম্পূর্ণভাবে মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না বলে অভিযোগ। নিয়মিত বার্ষিক বেতন বৃদ্ধির ব্যবস্থা থাকলে কর্মচারীদের আর্থিক স্থিতিশীলতা আরও মজবুত হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা সরকারের জন্য বড় আর্থিক চাপের কারণ হতে পারে। কারণ, এত বড় মাপের বেতন বৃদ্ধি করলে সরকারের ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বিশেষ করে কেন্দ্রীয় বাজেটে এর প্রভাব পড়তে পারে। তাই অর্থ মন্ত্রক এই প্রস্তাবগুলি নিয়ে সতর্কভাবে পর্যালোচনা করবে বলেই মনে করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, কর্মচারী সংগঠনগুলির বক্তব্য—দেশের অর্থনীতি যেভাবে বাড়ছে, সেই তুলনায় সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি হওয়া উচিত। তারা মনে করছেন, উচ্চ বেতন কর্মচারীদের মনোবল বাড়াবে এবং কাজের মানও উন্নত হবে।
সব মিলিয়ে, অষ্টম বেতন কমিশন গঠন এবং তার সুপারিশ নিয়ে এখন থেকেই জোরদার জল্পনা শুরু হয়েছে। সরকার কবে এই কমিশন গঠন করবে এবং ইউনিয়নগুলির দাবির কতটা মেনে নেবে, সেদিকেই এখন নজর সবার। যদি এই প্রস্তাবগুলি কার্যকর হয়, তবে তা ভারতের সরকারি কর্মচারীদের জন্য একটি বড় আর্থিক মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।
















