আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক আরবিআই অবশেষে পেটিএম পেমেন্টস ব্যাঙ্কের লাইসেন্স বাতিল করেছে। তবে প্রথমে যতটা বড় ধাক্কার আশঙ্কা করা হচ্ছিল, বাস্তবে অধিকাংশ গ্রাহকের ক্ষেত্রে এর প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত হতে পারে। কারণ, এর আগেই ধাপে ধাপে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবায় কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল, যার ফলে স্বাভাবিক কাজ অনেকটাই থমকে গিয়েছিল।
২৪ এপ্রিল জারি করা আদেশে আরবিআই জানায়, ব্যাঙ্কিং রেগুলেশন অ্যাক্টের অধীনে পিপিবিএল-কে দেওয়া লাইসেন্স ওই দিনের ব্যবসা শেষে বাতিল বলে গণ্য হবে। একইসঙ্গে, অবিলম্বে ব্যাঙ্কিং ব্যবসা চালানো থেকেও সংস্থাটিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, আরবিআই স্পষ্ট করেছে যে তারা এই ব্যাঙ্কটিকে গুটিয়ে দেওয়ার জন্য হাই কোর্টে আবেদন করবে।
গ্রাহকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—আরবিআই জানিয়েছে, পিপিবিএল-এর কাছে পর্যাপ্ত তরল অর্থ রয়েছে, যার মাধ্যমে সমস্ত আমানত দায় পরিশোধ করা সম্ভব হবে। অর্থাৎ, যাদের টাকা এই ব্যাঙ্কে জমা রয়েছে, তাদের অর্থ ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ধরনের ঝুঁকি নেই বলেই আশ্বাস দিচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
আসলে, এই চূড়ান্ত পদক্ষেপের আগে থেকেই পিপিবিএল-এর উপর একাধিক বিধিনিষেধ কার্যকর ছিল। ২০২২ সালের ১১ মার্চ থেকে নতুন গ্রাহক নেওয়া বন্ধ করতে বলা হয়েছিল। এরপর আরও কড়া নিয়ম জারি করে আরবিআই, যার ফলে গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে নতুন জমা, ক্রেডিট বা ওয়ালেট টপ-আপ কার্যত নিষিদ্ধ হয়ে যায়। ফলে, আজ যে পরিষেবাগুলি নিয়ে অনেকেই উদ্বিগ্ন, তার বেশিরভাগই আগেই সীমাবদ্ধ হয়ে গিয়েছিল।
এই প্রেক্ষাপটে বর্তমান সিদ্ধান্তকে হঠাৎ করে একটি সচল ব্যাঙ্ক বন্ধ করে দেওয়া হিসেবে দেখা ঠিক নয়। বরং এটি একটি দীর্ঘ নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত পরিণতি, যা ধাপে ধাপে এগিয়ে এসেছে।
তবে পেমেন্ট ব্যবস্থার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—যারা পেটিএম অ্যাপ ব্যবহার করে ইউপিআই লেনদেন করেন এবং সেই পরিষেবা যদি অন্য কোনও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত থাকে, তাহলে তাদের দৈনন্দিন লেনদেনে তেমন কোনো প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা নেই। কারণ এই ক্ষেত্রে লেনদেন নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট লিঙ্কড ব্যাঙ্কের উপর, পিপিবিএল-এর উপর নয়।
আরবিআই তাদের আদেশে আরও জানিয়েছে, পিপিবিএল-এর কার্যক্রম এমনভাবে পরিচালিত হচ্ছিল যা ব্যাঙ্ক ও আমানতকারীদের স্বার্থের পরিপন্থী। সংস্থার ব্যবস্থাপনার সামগ্রিক চরিত্রও জনস্বার্থ ও গ্রাহকদের স্বার্থের বিরুদ্ধে ছিল বলে অভিযোগ করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। পাশাপাশি লাইসেন্সের শর্ত মানতে ব্যর্থ হওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে, এই সিদ্ধান্তকে নতুন করে বড় ধরনের ধাক্কা হিসেবে না দেখে বরং একটি দীর্ঘদিনের নিয়ন্ত্রক নজরদারির চূড়ান্ত পদক্ষেপ হিসেবে বোঝাই যুক্তিযুক্ত। গ্রাহকদের জন্য মূল বার্তা—আতঙ্ক নয়, পরিস্থিতি বোঝা এবং প্রয়োজনে বিকল্প ব্যাঙ্কিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।















