আজকাল ওয়েবডেস্ক: হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের একটি রাজনৈতিক সঙ্কট এখন নিঃশব্দে প্রভাব ফেলছে ভারতের বাজারে। হরমুজে উত্তেজনা বাড়ার ফলে বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে বিঘ্ন ঘটছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে ভারতের নির্মাণ খাতে। বিশেষ করে দক্ষিণ মুম্বইয়ের নির্মাণ প্রকল্পগুলোতে খরচ বেড়ে যাচ্ছে এবং সময়সীমা দীর্ঘ হচ্ছে।


শিপিং ব্যাঘাতে বিপর্যস্ত নির্মাণ সরবরাহ ব্যবস্থা
হরমুজ প্রণালী পারস্য উপসাগরকে বিশ্ব বাণিজ্য রুটের সঙ্গে যুক্ত করে। ফলে এখানে যেকোনও ধরনের অস্থিরতা ভারতের আমদানি-নির্ভর নির্মাণ শিল্পকে সরাসরি আঘাত করে। বর্তমানে নির্মাতারা দীর্ঘ ডেলিভারি সময় এবং বাড়তি পরিবহন খরচের চাপে পড়েছেন।


জাহাজগুলোকে এখন অতিরিক্ত ৬,০০০ থেকে ১০,০০০ নটিক্যাল মাইল ঘুরে যেতে হচ্ছে। এর ফলে সামুদ্রিক জ্বালানির খরচ বেড়ে প্রায় প্রতি টনে ১ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে যুদ্ধজনিত অতিরিক্ত চার্জ ও বীমা প্রিমিয়ামের বৃদ্ধি—সব মিলিয়ে প্রকল্পের খরচ দ্রুত বাড়ছে।


নির্মাণ সামগ্রীর দামে তীব্র লাফ
সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে কাঁচামালের দামে। ইস্পাতের দাম প্রায় ২০% পর্যন্ত বেড়েছে, পশ্চিম এশিয়ায় সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় অ্যালুমিনিয়ামের দামও হু হু করে বাড়ছে। একই সঙ্গে বিটুমেনের দাম আগেই উঁচুতে ছিল।


মুম্বইয়ের মতো শহরে যেখানে উচ্চ-অট্টালিকা নির্মাণ বেশি, সেখানে এই মূল্যবৃদ্ধি সরাসরি প্রকল্পের মোট খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০০ ডলারের উপরে থাকায় ডিজেলের দামও বেড়েছে, যা নির্মাণ যন্ত্রপাতি ও পরিবহনের খরচ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।


বিলাসবহুল আবাসনে সবচেয়ে বেশি প্রভাব
এই সঙ্কটের সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ছে বিলাসবহুল ও অতিবিলাসবহুল আবাসন প্রকল্পগুলিতে। কারণ এই ধরনের প্রকল্পে আমদানিকৃত উপকরণের উপর নির্ভরতা বেশি। ইতালিয়ান মার্বেল, প্রিমিয়াম ফিটিংস—সবকিছুর দাম এখন বাড়তি।


বিশেষজ্ঞদের মতে, মুম্বইয়ের সমুদ্র-সংলগ্ন পেন্টহাউসগুলিতে ব্যবহৃত ইতালিয়ান স্ট্যাচুয়ারিও ও ক্যালাকাট্টা মার্বেলের ক্ষেত্রে প্রতি বর্গফুটে অতিরিক্ত ৫০-১৫০ টাকা খরচ বাড়ছে শুধুমাত্র পরিবহন রিরাউটিংয়ের কারণে। ফলে ইনস্টলেশনের পর এই মার্বেলের মোট খরচ প্রায় ৬,০০০ টাকা প্রতি বর্গফুটে পৌঁছাচ্ছে।


সামনের দিনে কী হতে পারে?
বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে নির্মাণ খাতে আরও বড় ধাক্কা আসতে পারে। প্রকল্পের দেরি, বাজেট বৃদ্ধি এবং শেষ পর্যন্ত ফ্ল্যাটের দাম বাড়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ক্রেতাদের জন্য এটি মানে হতে পারে বেশি দামে বাড়ি কেনা, আর ডেভেলপারদের জন্য কম মুনাফা বা প্রকল্প স্থগিতের ঝুঁকি।

 

&t=4s
সব মিলিয়ে, হরমুজ প্রণালীর অস্থিরতা শুধুমাত্র একটি আন্তর্জাতিক ইস্যু নয়—এটি এখন ভারতের রিয়েল এস্টেট বাজারের বাস্তব চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।