আজকাল ওয়েবডেস্ক:  নতুন অর্থবর্ষের শুরুতেই পণ্য ও পরিষেবা কর সংগ্রহে বড়সড় রেকর্ড গড়ল কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার। অর্থ মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, এপ্রিল মাসে মোট জিএসটি সংগ্রহ হয়েছে ২.৪৩ লক্ষ কোটি, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। এই বিপুল সংগ্রহ অর্থনীতির গতিবিধি সম্পর্কে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেও, সামনে কিছু চ্যালেঞ্জও স্পষ্ট হয়ে উঠছে।


গত বছরের এপ্রিল মাসে জিএসটি সংগ্রহ হয়েছিল ২.৩৭ লক্ষ কোটি, যার মধ্যে ক্ষতিপূরণ সেস অন্তর্ভুক্ত ছিল। সেই সেস বাদ দিলে প্রকৃত সংগ্রহ দাঁড়ায় ২.২৩ লক্ষ কোটি। সেই হিসেবে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে মোট জিএসটি সংগ্রহে প্রায় ৮.৭ শতাংশ বার্ষিক বৃদ্ধি হয়েছে।


উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে চাহিদা বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার কর কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তবুও এপ্রিল মাসে এত বড় পরিমাণ রাজস্ব সংগ্রহ হওয়া অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও ভোক্তা চাহিদার শক্তিশালী অবস্থানকেই নির্দেশ করে। রিফান্ড সমন্বয়ের পর এই বছরের এপ্রিল মাসে নেট জিএসটি সংগ্রহ হয়েছে ২.১১ লক্ষ কোটি, যেখানে গত বছর তা ছিল ২.০৯ লক্ষ কোটি।


অর্থনীতিবিদদের মতে, অর্থবর্ষের প্রথম মাস হিসেবে এপ্রিল মাসে জিএসটি সংগ্রহ সাধারণত বেশি থাকে। কারণ মার্চ মাসে সংস্থাগুলি তাদের হিসাব বন্ধ করার আগে মজুত পণ্য বিক্রি বাড়ায়, যার প্রভাব পড়ে এপ্রিলের কর সংগ্রহে। 


তবে সামনে কিছু অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। ২০২৭ অর্থবর্ষের বাজেট অনুমান করা হয়েছিল ১ ফেব্রুয়ারি, কিন্তু তার পরেই ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত বিশ্বের জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। জ্বালানির দাম বাড়লে তা সরাসরি ভোক্তা খরচে প্রভাব ফেলতে পারে, আর জিএসটি যেহেতু মূলত ভোগের উপর নির্ভরশীল কর, তাই এর ওপরও প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।


এই পরিস্থিতিতে সরকার ইতিমধ্যেই কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এপ্রিল মাসে পেট্রোল ও ডিজেলের উপর আবগারি শুল্ক কমানো হয়েছে এবং ডিজেল ও জেট ফুয়েলের রপ্তানিতে উইন্ডফল ট্যাক্স আরোপ করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য ছিল তেলের বিপণন সংস্থাগুলির আর্থিক ভারসাম্য বজায় রাখা এবং খুচরো বাজারে জ্বালানির দাম হঠাৎ না বাড়তে দেওয়া।

 

&t=125s
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম দীর্ঘদিন উচ্চ পর্যায়ে থাকে, তাহলে সরকারকে শেষ পর্যন্ত সেই চাপ ভোক্তাদের উপর কিছুটা হলেও চাপিয়ে দিতে হতে পারে। কারণ পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত সরবরাহ শৃঙ্খল পুনর্গঠন করতে সময় লাগতে পারে। সব মিলিয়ে বলা যায় এপ্রিলের রেকর্ড জিএসটি সংগ্রহ অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক বার্তা দিলেও, বিশ্বের পরিস্থিতির প্রভাব আগামী মাসগুলিতে কতটা পড়বে, তা এখন দেখার বিষয়।