আজকাল ওয়েবডেস্ক:  দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে ব্যবহারকারীদের জন্য বড় সুবিধা নিয়ে এল গুগল। নতুন আপডেটের মাধ্যমে এখন থেকে জিমেল ব্যবহারকারীরা তাদের ইমেল ইউজারনেম পরিবর্তন করতে পারবেন। অর্থাৎ, বহু বছর আগে তৈরি করা অদ্ভুত বা বিব্রতকর ইমেল ঠিকানাকে এবার সহজেই বদলে নেওয়া সম্ভব হবে।


এই ফিচারটি নিয়ে সুন্দর পিচাই সোশ্যাল মিডিয়ায় মজার ছলে লিখেছেন, “২০০৪ সাল ভাল ছিল, কিন্তু আপনার জিমেল অ্যাড্রেসকে সেখানে আটকে থাকতে হবে না।” তাঁর মতে, ব্যবহারকারীদের প্রয়োজনের সঙ্গে অ্যাকাউন্টকেও সময়ের সঙ্গে বদলানোর সুযোগ দিতেই এই আপডেট আনা হয়েছে।

 


কীভাবে কাজ করবে নতুন ফিচার?
এই আপডেটের পর ব্যবহারকারীরা তাদের জিমেল ঠিকানার “@gmail.com”-এর আগের অংশটি পরিবর্তন করতে পারবেন। সবচেয়ে বড় সুবিধা হল—ইউজারনেম বদলালেও আপনার অ্যাকাউন্টের কোনও ডেটা হারাবে না। সমস্ত ইমেল, ছবি, ডকুমেন্ট এবং অন্যান্য তথ্য আগের মতোই সুরক্ষিত থাকবে।


এছাড়া, পুরনো ইমেল ঠিকানাটি সম্পূর্ণভাবে মুছে যাবে না। বরং সেটি একটি বিকল্প ইমেল হিসেবে কাজ করবে। ফলে পুরনো ও নতুন—দুটি ঠিকানাতেই পাঠানো মেল একই ইনবক্সে পাওয়া যাবে।
ব্যবহারকারীরা চাইলে পুরনো অথবা নতুন—যেকোনও ইমেল আইডি ব্যবহার করেই Gmail, Google Maps, YouTube, Google Drive বা Google Play-এর মতো পরিষেবায় লগ-ইন করতে পারবেন।


কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে
তবে এই সুবিধার সঙ্গে কিছু শর্তও জুড়ে দিয়েছে গুগল। একটি জিমেল ইউজারনেম বছরে মাত্র একবার পরিবর্তন করা যাবে এবং সর্বাধিক তিনবার পর্যন্ত বদলানোর সুযোগ থাকবে। এছাড়া, চাইলে ব্যবহারকারী পরে আবার পুরনো ইমেল ঠিকানাতেও ফিরে যেতে পারবেন।


কীভাবে বদলাবেন জিমেল ইউজারনেম?
ইউজারনেম পরিবর্তন করার জন্য কয়েকটি সহজ ধাপ অনুসরণ করতে হবে—
প্রথমে গুগল অ্যাকাউন্ট সেটিংয়ে গিয়ে পার্সোনাল ইনফো অপশনে ক্লিক করতে হবে।
তারপর ইমেল সেকশনে গিয়ে গুগল অ্যাকাউন্ট ইমেল নির্বাচন করতে হবে।
যদি আপনার অ্যাকাউন্ট এই ফিচারের জন্য যোগ্য হয়, তাহলে চেঞ্জ গুগল অ্যাকাউন্ট ইমেল অপশনটি দেখা যাবে।
এরপর একটি নতুন ইউজারনেম নির্বাচন করতে হবে, যা আগে কেউ ব্যবহার করেনি।


নিরাপত্তা নিয়ে কী বলছে গুগল?
গুগল ব্যবহারকারীদের পরামর্শ দিয়েছে, ইউজারনেম পরিবর্তনের আগে গুরুত্বপূর্ণ ডেটার ব্যাকআপ রেখে দিতে। যদিও কোম্পানি আশ্বস্ত করেছে যে এই আপডেটের ফলে অ্যাকাউন্টের কোনও তথ্য হারানোর সম্ভাবনা নেই।

 


সব মিলিয়ে, এই নতুন আপডেট জিমেল ব্যবহারকারীদের জন্য একটি বড় স্বস্তি নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে যারা বহু বছর আগে তৈরি করা ইমেল ঠিকানার কারণে বিব্রত বোধ করেন, তাঁদের জন্য এটি নিঃসন্দেহে একটি স্বাগত পদক্ষেপ।