আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতে গোল্ড লোনের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। সোনার দামের লাগাতার বৃদ্ধির ফলে মানুষ আগের তুলনায় বেশি পরিমাণ ঋণ নিচ্ছেন। এর প্রভাব পড়েছে গোল্ড লোনের গড় ঋণের অঙ্কেও। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে গোল্ড লোনের গড় টিকিট সাইজ বছরে বছরে ৩৯ শতাংশ বেড়ে ১.৯৬ লক্ষে পৌঁছেছে। মাত্র তিন বছরের মধ্যে এই গড় ঋণের পরিমাণ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাওয়া দেশের গোল্ড লোন বাজারের দ্রুত সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সোনার দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছনোর ফলে একই পরিমাণ সোনা বন্ধক রেখে আগের তুলনায় অনেক বেশি ঋণ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে চিকিৎসা, ব্যবসা, শিক্ষা, কৃষিকাজ বা অন্যান্য জরুরি আর্থিক প্রয়োজনে মানুষ ক্রমশ গোল্ড লোনের দিকে ঝুঁকছেন।
গোল্ড লোনের অন্যতম বড় সুবিধা হল এটি দ্রুত অনুমোদন হয় এবং অন্যান্য ঋণের তুলনায় কাগজপত্রের ঝামেলাও কম। যেহেতু ঋণটি সোনার গয়না বা অলঙ্কার বন্ধক রেখে দেওয়া হয়, তাই ঋণদাতাদের ঝুঁকিও তুলনামূলক কম থাকে। এই কারণেই ব্যাংক এবং নন-ব্যাঙ্কিং ফিনান্স কোম্পানিগুলিও গোল্ড লোন ব্যবসা দ্রুত বাড়াচ্ছে।
শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বড় শহর নয়, ছোট শহর এবং গ্রামীণ এলাকাতেও গোল্ড লোনের জনপ্রিয়তা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। অনেক পরিবারের কাছে সোনাই সবচেয়ে সহজলভ্য সম্পদ। জরুরি প্রয়োজনে সেই সম্পদ বিক্রি না করেই তার বিপরীতে ঋণ নেওয়ার সুযোগ থাকায় গোল্ড লোন এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক বিকল্প হয়ে উঠেছে।
গোল্ড লোন পোর্টফোলিওর দ্রুত বৃদ্ধি দেশের আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রেও ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগে যাঁরা প্রথাগত ব্যাংকিং পরিষেবার বাইরে ছিলেন, তাঁরাও এখন সহজে ঋণ পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, কৃষক এবং স্বনিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে গোল্ড লোনের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, সোনার দাম বেশি থাকায় ঋণের পরিমাণ বাড়লেও, ঋণ শোধে ব্যর্থ হলে বন্ধক রাখা সোনা নিলামে যাওয়ার ঝুঁকিও থাকে। তাই প্রয়োজন অনুযায়ী ঋণ নেওয়া এবং সময়মতো কিস্তি পরিশোধ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, গোল্ড লোনের বাজারে প্রতিযোগিতাও বেড়েছে। ব্যাংক আকর্ষণীয় সুদের হার, দ্রুত ঋণ অনুমোদন এবং ডিজিটাল পরিষেবার মাধ্যমে আরও বেশি গ্রাহক টানার চেষ্টা করছে। এর ফলে গ্রাহকেরাও আগের তুলনায় আরও বেশি বিকল্প পাচ্ছেন।
সব মিলিয়ে, সোনার মূল্যবৃদ্ধি এবং সহজ ঋণপ্রাপ্তির সুবিধার কারণে ভারতে গোল্ড লোনের বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। ২০২৬ সালে গড় গোল্ড লোনের পরিমাণ ১.৯৬ লক্ষে পৌঁছনো এবং মাত্র তিন বছরে এই অঙ্কের প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাওয়া স্পষ্টভাবে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, গোল্ড লোন এখন দেশের অন্যতম দ্রুত-বর্ধনশীল খুচরো ঋণ বিভাগের মধ্যে একটি।















