দাঁড়াবার জায়গা দরকার দুনিয়ায়। জায়গা দরকার বসারও। কে বসবে কোথায়? তা নিয়েই এখন তুলকালাম তৃণমূলে। গত শুক্রবার থেকে, তা যেন আরও স্পষ্ট হল বাংলার রাজনীতিতে।
2
10
এই প্রসঙ্গে আসার আগে, দুটি ঠিকানার কথা উল্লেখ করা প্রয়োজন। ৩৬জি, তপসিয়া রোড, কলকাতা ৭০০১০০। তৃণমূল ভবন।
তপসিয়ার উত্তরপঞ্চান্ন গ্রামে ৩৬ জি, তপসিয়া রোডের তৃণমূল ভবনের উদ্বোধন হয় ২০০২ সালের, মে মাসে। কলকাতার বুকে, তৃণমূল ভবন। তবে যে সময়ে ওই ভবন তৈরি হয়, তখন জোড়াফুল শিবিরের বয়স নেহাত কম। ফলে বিরাট আকারে ভবন তৈরি হয়নি।
২০২১-এর ভোট মিটতেই, তৃণমূল কংগ্রেস সিদ্ধনাত নেয়, নতুন ধাঁচে তৈরি হবে তপসিয়ার তৃণমূল ভবন। প্রায় ৮৪৩ বর্গমিটার জমির উপর তৈরি শুরু হয় নয়া ভবনের কাজ।
5
10
তপসিয়ার ভবন গোছানোর কাজের কারণে, ক্যানাল সাউথ রোডে বাড়ি ভাড়া নেয় তৃণমূল। বর্তমানে যেটি তৃণমূল ভবন নামে পরিচিত। অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের পেজে, ঠিকানা হিসেবে এই মেট্রোপলিটনের ঠিকানা উল্লিখিত। সঙ্গেই উল্লিখিত তপসিয়ার ভবনে নির্মাণের কাজ চলার কথাও।
6
10
অন্যদিকে তৃণমূলে সেন্ট্রাল পার্টি অফিস, হেড কোয়ার্টার হিসেবে ৩০ বি হরিশ চ্যাটার্জি'র ঠিকানা উল্লিখিত।
তবে এখন চর্চায়, দুই তৃণমূল ভবন। মমতা জমানা শেষ হতেই মেট্রোপলিটনের ভবনের মালিকপক্ষ যে বেঁকে বসেছে তা স্পষ্ট হয়েছিল। আগের মতো গোটা ভবনটি ব্যবহার করতে পারছিল না জোড়াফুল শিবির, তেমনটাই তথ্য।
7
10
তার মাঝেই, শুক্রবার বিকেলে, আচমকা ঋতব্রত শিবির, অর্থাৎ ঋতব্রত ব্যানার্জি, ফিরহাদ হাকিম, গোলাম রব্বানি, সন্দীপন সাহা-সহ একগুচ্চ নেতা কার্যত মেট্রপলিটনের ভবনের দখল নেন। বেশকিছুক্ষণ তাঁরা সেখানে ছিলেন।
8
10
সেই সময়, অন্যান্য দিনের কর্মসূচি মতো মমতা শিবিরের চন্দ্রিমাও হাজির ছিলেন। কিছুক্ষণে বেরিয়েও যান। যদিও তা থেকেই মমতার সঙ্গে মনোমালিন্য এবং কালীঘাট শিবিরের হাত ছাড়ার ঘটনা ঘটেছে।
9
10
তবে ঋতব্রতরা, ওই ভবনে তালা দিয়ে বেরিয়ে যান। কিছুক্ষণে কুণাল ঘোষরা পৌঁছলেও, তাঁরা আবার তালা ভাঙার দিকে যাননি, থানায় অভিযোগ দায়ের করে ফিরে যান। পরে যদিও তালা খুলে মালিকপক্ষ ভিতরে ঢুকেছিলেন বলে তথ্য।
10
10
অন্যদিকে, কালীঘাট তৃণমূল আর ঝামেলা ঝঞ্ঝাটে না গিয়ে, সোজা বসতে শুরু করে তপসিয়া ভবনে। শনিবার থেকেই দলের নেতা নেত্রীরা যাচ্ছেন তপসিয়ার ঠিকানায়। অর্থাৎ বসার জায়গা খুঁজতে, আলাদা হল তৃণমূলের দু'শিবিরের পথও।