আজকাল ওয়েবডেস্ক: কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী ও পেনশনভোগীদের বেতন সংশোধনের লক্ষ্যে গঠিত অষ্টম বেতন কমিশন বর্তমানে দেশজুড়ে বিভিন্ন শহরে কর্মচারী সংগঠন, পেনশনভোগী এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি রঞ্জনা প্রকাশ দেশাই-এর নেতৃত্বাধীন কমিশনের সামনে কর্মচারী সংগঠনগুলি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দাবি তুলে ধরেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় দাবি হল ৩.৮৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর কার্যকর করা এবং ন্যূনতম বেসিক বেতন ৬৯,০০০ নির্ধারণ করা।
এই কমিশনের সুপারিশ কার্যকর হলে প্রায় ৫০ লক্ষ কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারী এবং প্রায় ৭০ লক্ষ পেনশনভোগী সরাসরি উপকৃত হবেন। ফলে কমিশনের প্রতিটি বৈঠক এবং আলোচনার দিকে নজর রয়েছে লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মী ও তাঁদের পরিবারের।
সম্প্রতি কনফেডারেশন অফ সেন্ট্রাল গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ অ্যান্ড ওয়ার্কার্স কমিশনের কাছে একটি বিস্তারিত স্মারকলিপি জমা দিয়েছে। সেখানে ন্যূনতম মাসিক বেতন ৬৯,০০০ করার পাশাপাশি ৩.৮৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর, পুরনো পেনশন প্রকল্প পুনরায় চালু, এবং হাউস রেন্ট অ্যালাউন্স বৃদ্ধির দাবি জানানো হয়েছে। যদিও কিছু কর্মচারী সংগঠন ন্যূনতম বেতন ৫৫,০০০ করার প্রস্তাবও দিয়েছে।
ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর হল এমন একটি গুণক, যার মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের বর্তমান বেসিক বেতন নতুন করে নির্ধারণ করা হয়। সপ্তম বেতন কমিশনে এই ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর ছিল ২.৫৭। এবার কর্মচারী সংগঠনগুলির দাবি, সেটি বাড়িয়ে ৩.৮৩ করা হোক।
যদি সরকার এই প্রস্তাব গ্রহণ করে, তাহলে বর্তমান বেসিক বেতন ৩.৮৩ দিয়ে গুণ করে নতুন বেতন নির্ধারণ করা হবে। সে ক্ষেত্রে সম্ভাব্য বেসিক বেতন হতে পারে—
বর্তমান ১৮,০০০ → প্রায় ৬৮,৯৪০ (প্রায় ৬৯,০০০)
বর্তমান ২৫,৫০০ →৯৭,৬৬৫
বর্তমান ৩৫,৪০০ →১,৩৫,৫৮২
বর্তমান ৪৪,৯০০ →১,৭১,৯৬৭
বর্তমান ৫৬,১০০ → ২,১৪,৮৬৩
তবে এই সংখ্যাগুলি এখনও শুধুই কর্মচারী সংগঠনগুলির দাবি অনুযায়ী সম্ভাব্য হিসাব। সরকার এখনও কোনও ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর বা বেতন বৃদ্ধির হার চূড়ান্ত করেনি।
কমিশন ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন শহরে বৈঠক করেছে। আগামী পর্যায়ে ভুবনেশ্বর এবং কলকাতায় কর্মচারী প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করবে কমিশন। এই বৈঠকগুলির মাধ্যমে মূল্যবৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয়, স্বাস্থ্য ও শিক্ষার খরচসহ বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে মতামত সংগ্রহ করা হচ্ছে।
কর্মচারী সংগঠনগুলির দাবি, বর্তমান ১৮,০০০ ন্যূনতম বেসিক বেতন বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে আর সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। গত ১০ বছরে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক বেড়েছে। তাই নতুন বেতন কাঠামো বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হওয়া উচিত।
উল্লেখযোগ্যভাবে, সম্প্রতি বিভিন্ন মহলে ২৮৩ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এই ব্যাখ্যা পুরোপুরি সঠিক নয়। আসলে ৩.৮৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর প্রয়োগ করলে বর্তমান বেতন ৩.৮৩ গুণ হবে। অর্থাৎ এটি ২৮৩ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি নয়, বরং বর্তমান বেতনের ৩.৮৩ গুণ নির্ধারণের একটি প্রস্তাব মাত্র।
অষ্টম বেতন কমিশন ২০২৭ সালের মাঝামাঝি তাদের চূড়ান্ত রিপোর্ট কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে জমা দিতে পারে। এরপর সরকার সুপারিশগুলি পর্যালোচনা করে কোন প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে, তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তাই আপাতত ৬৯,০০০ ন্যূনতম বেতন বা ৩.৮৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর—দুটিই এখনও প্রস্তাবের পর্যায়ে রয়েছে, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।















