আজকাল ওয়েবডেস্ক: বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভুলগুলির মধ্যে একটি হল অবাস্তব প্রত্যাশা। অনেকেই মনে করেন শেয়ার বাজারে টাকা রাখলেই অল্প সময়ে বিপুল মুনাফা পাওয়া সম্ভব। কিন্তু বাস্তবে দীর্ঘমেয়াদে সফল বিনিয়োগের মূলমন্ত্র হল ধৈর্য, শৃঙ্খলা এবং বাস্তবসম্মত প্রত্যাশা। এই কারণেই আর্থিক বিশেষজ্ঞরা প্রায়ই ১০-৫-৩ কথা বলেন। এই নিয়ম নতুন ও অভিজ্ঞ—উভয় ধরনের বিনিয়োগকারীদেরই বিভিন্ন সম্পদ শ্রেণির সম্ভাব্য রিটার্ন সম্পর্কে একটি বাস্তব ধারণা দেয়।


এই নিয়ম অনুযায়ী, দীর্ঘ সময়ের গড় হিসাবে শেয়ার বা ইকুইটি থেকে বছরে প্রায় ১০ শতাংশ, বন্ড বা স্থির আয়ের বিনিয়োগ থেকে ৫ শতাংশ এবং নগদ অর্থ বা সেভিংস অ্যাকাউন্টের মতো নিরাপদ বিনিয়োগ থেকে প্রায় ৩ শতাংশ রিটার্ন আশা করা যেতে পারে। এটি কোনও নির্দিষ্ট গ্যারান্টি নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক পরিকল্পনার জন্য একটি বাস্তবসম্মত নির্দেশিকা।


শেয়ার বাজারে স্বল্পমেয়াদে ওঠানামা স্বাভাবিক। কোনও বছরে রিটার্ন ২০ শতাংশের বেশি হতে পারে, আবার কোনও বছরে ক্ষতিও হতে পারে। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে বিনিয়োগ চালিয়ে গেলে গড় রিটার্ন সাধারণত স্থিতিশীল হতে শুরু করে। তাই শুধুমাত্র কয়েক মাসের লাভ দেখে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।


অন্যদিকে, বন্ড বা ঋণভিত্তিক বিনিয়োগ তুলনামূলকভাবে নিরাপদ হলেও এর রিটার্ন কম হয়। যাঁরা ঝুঁকি কম নিতে চান বা নিয়মিত আয়ের লক্ষ্য রাখেন, তাঁদের জন্য এই ধরনের বিনিয়োগ উপযুক্ত হতে পারে। আবার সেভিংস অ্যাকাউন্ট বা নগদ অর্থ সবচেয়ে নিরাপদ হলেও সেখানে রিটার্নও সবচেয়ে কম। তাই শুধু নগদ অর্থে বিনিয়োগ করলে দীর্ঘমেয়াদে মূল্যস্ফীতির প্রভাবের কারণে প্রকৃত সম্পদ বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে।


এই নিয়মের সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এটি বিনিয়োগকারীদের অযৌক্তিক প্রত্যাশা থেকে দূরে রাখে। বর্তমানে সামাজিক মাধ্যমে বা বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অল্প সময়ে দ্বিগুণ বা তিনগুণ লাভের নানা দাবি দেখা যায়। এই ধরনের প্রচারে প্রভাবিত হয়ে অনেকেই বেশি ঝুঁকিপূর্ণ বিনিয়োগে অর্থ ঢেলে দেন এবং পরে বড় ক্ষতির মুখে পড়েন। ১০-৫-৩ নিয়ম মনে করিয়ে দেয়, সম্পদ তৈরি একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া এবং এর জন্য ধারাবাহিক বিনিয়োগই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র একটি সম্পদ শ্রেণিতে বিনিয়োগ না করে ইকুইটি, ঋণভিত্তিক বিনিয়োগ এবং নগদের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা উচিত। বয়স, আয়, আর্থিক লক্ষ্য এবং ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা অনুযায়ী পোর্টফোলিও তৈরি করলে দীর্ঘমেয়াদে ভালো ফল পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়।
সবশেষে বলা যায় ১০-৫-৩ কোনও কঠোর নিয়ম নয়, বরং বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি। এটি শেখায় যে রাতারাতি ধনী হওয়ার চেয়ে ধীরে ধীরে পরিকল্পিতভাবে সম্পদ গড়ে তোলাই দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে নিরাপদ এবং কার্যকর পথ। নিয়মিত বিনিয়োগ, সঠিক সম্পদ বণ্টন এবং ধৈর্য—এই তিনটি বিষয়ই আর্থিক সাফল্যের ভিত্তি তৈরি করে।

&t=1s