আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতের শেয়ার বাজারে বড় ধাক্কা দিয়েছে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীদের ব্যাপক অর্থ প্রত্যাহার। মার্চ মাসের প্রথম ২০ দিনেই প্রায় ৮৮,১৮০ কোটি টাকা (প্রায় ৯.৬ বিলিয়ন ডলার) ভারতীয় ইক্যুইটি বাজার থেকে তুলে নিয়েছে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা। ফেব্রুয়ারির শক্তিশালী বিনিয়োগ প্রবাহের পর এই হঠাৎ বিপরীত ধারা বাজারে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
NSDL-এর তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে প্রতিটি ট্রেডিং দিনেই FPI-রা নেট বিক্রেতা ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে এটি সবচেয়ে দীর্ঘ ধারাবাহিক বিক্রির ঘটনা। যদিও এই অঙ্কটি এখনও অক্টোবর ২০২৪-এ হওয়া রেকর্ড ৯৪,০১৭ কোটি টাকার তুলনায় সামান্য কম।
এই বিক্রির ফলে ২০২৬ সালে মোট FPI আউটফ্লো ১ লক্ষ কোটি টাকার সীমা অতিক্রম করেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ফেব্রুয়ারিতে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ২২,৬১৫ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছিল, যা ছিল গত ১৭ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। ফলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে বিনিয়োগের মনোভাবের এই বড় পরিবর্তন বাজার বিশ্লেষকদের দৃষ্টি কাড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিক্রির প্রধান কারণ পশ্চিম এশিয়ায় বেড়ে চলা রাজনৈতিক উত্তেজনা। ইরানকে কেন্দ্র করে সংঘাত বাড়ায় তেলের সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে হরমুজ অঞ্চলে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে ‘রিস্ক-অফ’ মনোভাব তৈরি করেছে।
তেলের দাম বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তাই মূলত এই বিক্রির প্রধান কারণ। পাশাপাশি ভারতীয় টাকার মান মার্কিন ডলারের বিপরীতে প্রায় ৯২ টাকায় নেমে যাওয়া, মার্কিন বন্ডের উচ্চ সুদের হার এবং ফেব্রুয়ারির র্যাকলির পর মুনাফা তুলে নেওয়ার প্রবণতাও চাপ বাড়িয়েছে।
মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার বৃদ্ধি একটি বড় কারণ। এতে ডলার-ভিত্তিক সম্পদ বেশি আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে, ফলে ভারতের মতো উদীয়মান বাজার থেকে পুঁজি বেরিয়ে যাচ্ছে।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আর্থিক পরিষেবা খাত। ১৫ মার্চ পর্যন্ত মাত্র দুই সপ্তাহেই এই খাত থেকে প্রায় ৩১,৮৩১ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছে FPI-রা।
আগামী দিনে বাজারে অস্থিরতা বজায় থাকতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যদি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও খারাপ হয় বা তেলের দাম আরও বাড়ে, তাহলে এই বিক্রির ধারা চলতে পারে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে, দেশীয় বিনিয়োগকারীদের সমর্থন বাড়লে বা কোম্পানিগুলির ফল ভালো হলে বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে। সব মিলিয়ে, অনিশ্চয়তা ও অর্থনৈতিক চাপের মধ্যে ভারতীয় শেয়ার বাজার এখন এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে।
