আজকাল ওয়েবডেস্ক: সাধারণ মানুষের চিকিৎসার খরচ কমাতে বড় পদক্ষেপ করল কেন্দ্র সরকার। ন্যাশনাল ফার্মাসিউটিক্যাল প্রাইসিং অথরিটি দেশের বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ৩৯টি ওষুধের সর্বোচ্চ খুচরো দাম নির্ধারণ করেছে। নতুন তালিকায় উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, এইচআইভি এবং চোখের সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ওষুধ রয়েছে। কেন্দ্রের রাসায়নিক ও সার মন্ত্রকের অধীন এনপিপিএ-র আওতায় এই মূল্য নির্ধারণ করেছে।


৮ জুলাই জারি হওয়া সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, নতুন নির্ধারিত দাম অবিলম্বে কার্যকর হবে। এর ফলে বিভিন্ন সংস্থার তৈরি নির্দিষ্ট ওষুধের খুচরো মূল্য নিয়ন্ত্রিত থাকবে এবং রোগীদের অতিরিক্ত দাম গুনতে হবে না। সরকারের মতে, এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য হল জীবনরক্ষাকারী ও অত্যাবশ্যক ওষুধ সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখা।


নতুন তালিকায় উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত ওষুধের খুচরো মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি ট্যাবলেট ১৪.৭৪ টাকা। এই ওষুধটি উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয় এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।


চোখের অপারেশনের পর সংক্রমণ প্রতিরোধ এবং ব্যাকটেরিয়াজনিত চোখের সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি মিলিলিটার ৬৮.৬৪ টাকা।
এছাড়া হৃদরোগীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ওষুধের খুচরো মূল্য ঠিক করা হয়েছে প্রতি ক্যাপসুল ৬.৩৭ টাকা। এই ওষুধ হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে চিকিৎসকেরা নিয়মিত প্রেসক্রাইব করে থাকেন।


সবচেয়ে দামি ওষুধগুলির মধ্যে রয়েছে কয়েকটি ইনজেকশন। এটি একটি অত্যাধুনিক জেনেটিক্যালি ইঞ্জিনিয়ারড "ক্লট-বাস্টিং" ইনজেকশন, যা হার্ট অ্যাটাক বা রক্ত জমাট বাঁধার মতো জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহৃত হয়। এই ইনজেকশনের খুচরো মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি ভায়াল ৬০,২৩৮.২৭ টাকা।


এনপিপিএ জানিয়েছে, এই ৩৯টি নতুন ড্রাগ ফর্মুলেশনের দাম নির্ধারণের মাধ্যমে ওষুধের বাজারে স্বচ্ছতা বাড়বে এবং রোগীরা নির্ধারিত মূল্যের বেশি অর্থ দিতে বাধ্য হবেন না। একই সঙ্গে ওষুধ প্রস্তুতকারী এবং বিপণনকারী সংস্থাগুলোকেও নির্ধারিত মূল্য কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।


সরকার স্পষ্টভাবে সতর্ক করেছে, কোনও সংস্থা যদি এনপিপিএ নির্ধারিত খুচরো মূল্যের চেয়ে বেশি দামে ওষুধ বিক্রি করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে অতিরিক্ত আদায় করা পুরো অর্থ সুদ-সহ সরকারকে ফেরত দিতে হবে।


সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, নিয়ম অনুযায়ী অতিরিক্ত দাম আদায় করলে সংশ্লিষ্ট প্রস্তুতকারী বা বিপণনকারী সংস্থার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধু অতিরিক্ত টাকা ফেরতই নয়, তার সঙ্গে প্রযোজ্য সুদও জমা দিতে হবে।


বিশেষজ্ঞদের মতে, ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে এনপিপিএ-র এই পদক্ষেপ দীর্ঘদিন ধরে উচ্চমূল্যের ওষুধ কিনতে সমস্যায় পড়া রোগীদের জন্য স্বস্তির খবর। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত লক্ষ লক্ষ মানুষের চিকিৎসার ব্যয় কিছুটা হলেও কমতে পারে। একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত ওষুধের বাজারে মূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় সরকারের অবস্থান আরও স্পষ্ট করল।

&t=1s