আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারতে বিমানযাত্রীদের জন্য বড় স্বস্তির খবর। অতিরিক্ত ‘হিডেন চার্জ’ কমাতে এবং যাত্রীদের অধিকার আরও শক্তিশালী করতে বড় পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নির্দেশ অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতিটি ফ্লাইটে অন্তত ৬০ শতাংশ আসন বিনামূল্যে বেছে নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে বিমান সংস্থাগুলিকে।
কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রক এই নির্দেশ জারি করেছে। এই নির্দেশ কার্যকর করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ডিজিসিএ-কে। সরকারের এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হল বিমান ভ্রমণকে আরও স্বচ্ছ, সহজলভ্য এবং যাত্রী-বান্ধব করে তোলা।
এতদিন বহু বিমান সংস্থা টিকিট কাটার পর বা ওয়েব চেক-ইনের সময় পছন্দের সিট বেছে নিতে অতিরিক্ত টাকা নিত। ফলে যাত্রীদের অজান্তেই খরচ বেড়ে যেত। নতুন নিয়মে সেই প্রবণতায় লাগাম টানতে চায় সরকার। অন্তত ৬০ শতাংশ সিট ফ্রি থাকলে সাধারণ যাত্রীরা অনেকটাই উপকৃত হবেন বলে মনে করা হচ্ছে।
শুধু তাই নয়, একই বুকিং বা একই পিএনআর যাত্রা করলে যাত্রীদের একসঙ্গে বসানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, পরিবার বা বন্ধুদের আর আলাদা আলাদা সিটে বসতে হবে না বা পাশাপাশি বসার জন্য অতিরিক্ত টাকা দিতে হবে না। বিশেষ করে যেসব পরিবার ছোট শিশু বা বয়স্ক সদস্যদের নিয়ে ভ্রমণ করেন, তাঁদের জন্য এই সিদ্ধান্ত বড় স্বস্তি এনে দেবে।
এর পাশাপাশি, যাত্রী পরিষেবার আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা আনার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। যেমন—খেলাধুলার সরঞ্জাম বা বাদ্যযন্ত্র বহনের নিয়ম আরও সহজ ও স্পষ্ট করতে হবে বিমান সংস্থাগুলিকে। একইসঙ্গে পোষ্য প্রাণী বহনের নীতিও পরিষ্কারভাবে জানাতে হবে, কারণ এই বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই যাত্রীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ছিল।
যাত্রী অধিকারের ক্ষেত্রেও কড়া অবস্থান নিয়েছে সরকার। ফ্লাইট দেরি, বাতিল বা বোর্ডিংয়ে বাধা—এই ধরনের পরিস্থিতিতে যাত্রীদের কী কী অধিকার রয়েছে, তা স্পষ্টভাবে জানাতে হবে। শুধু ওয়েবসাইট নয়, মোবাইল অ্যাপ, বুকিং প্ল্যাটফর্ম এবং বিমানবন্দরের কাউন্টারেও এই তথ্য প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি আঞ্চলিক ভাষাতেও এই তথ্য দেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যাতে সব স্তরের যাত্রী সহজে বুঝতে পারেন।
ভারতের বিমান পরিবহন ক্ষেত্র দ্রুত প্রসারিত হচ্ছে। বর্তমানে ভারত বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অভ্যন্তরীণ বিমান বাজারে পরিণত হয়েছে, যেখানে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ লক্ষেরও বেশি যাত্রী যাতায়াত করেন। এই প্রেক্ষাপটে যাত্রী পরিষেবার মান উন্নত করা এবং অতিরিক্ত খরচ কমানোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে দেখছে সরকার।
&t=4s
সরকার ইতিমধ্যেই ‘উড়ান’ প্রকল্পের আওতায় কম খরচে বিমান পরিষেবা চালু করেছে এবং বিমানবন্দরে সস্তায় খাবারের জন্য যাত্রী ক্যাফে’ ও বিনামূল্যে ওয়াইফাই পরিষেবা চালু করেছে।
সব মিলিয়ে, নতুন এই নির্দেশিকা শুধু যাত্রীদের খরচ কমাবে না, বরং বিমান সংস্থাগুলির মধ্যে একরকম নীতিগত সমতা ও স্বচ্ছতাও নিশ্চিত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
