আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাজেট ২০২৬ সামনে রেখে ভারতের শিক্ষা খাত স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিচ্ছে—এখন আর শুধু বিদ্যালয় বা কলেজ নির্মাণ নয়। দক্ষতা, গুণগতমান এবং চাকরির সুযোগ নিশ্চিত করা হল সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। দেশ যখন শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি, স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম ও ডিজিটাল অর্থনীতির দিকে এগোচ্ছে, তখন শিক্ষা ব্যবস্থাকে ভবিষ্যৎ কর্মবাজারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। সেই প্রেক্ষিতে বিভিন্ন শিক্ষা সংগঠন, এডটেক প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ৩টি মূল দাবির কথা বলছেন। সেগুলি হল স্কিল ডেভেলপমেন্ট, কোয়ালিটি এনহান্সমেন্ট এবং জব-রেডিনেস।
প্রথমত, দক্ষতা উন্নয়ন খাতে বেশি বাজেট বরাদ্দ আশা করা হচ্ছে। ভারতের ১৫–৩৫ বছর বয়সী বিপুল যুবসমাজকে কর্মযোগ্য করতে স্কিল-ইনটেনসিভ ট্রেনিং প্রোগ্রাম, শিল্প অংশীদারিত্ব এবং আধুনিক টেকনিক্যাল কোর্স বাড়ানো জরুরি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাজেটে যদি গাড়ি, বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ, সেমিকন্ডাক্টর, মহাকাশ, রোবোটিক্স, সাইবার সিকিউরিটি, সবুজ শক্তি, এআই এবং ডেটা সায়েন্সের মতো ক্ষেত্রগুলিকে স্কিল ডেভেলপমেন্ট-লিংগেজ সহ প্রাধান্য দেয়া হয়, তাহলে যুবসমাজের জন্য নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে। একই সঙ্গে স্কিল ইন্ডিয়া মিশনকে স্টেট-লেভেল স্কিমের সাথে যুক্ত করে একটি জাতীয় ফ্রেমওয়ার্ক তৈরির দাবি উঠছে।
দ্বিতীয়ত, শিক্ষার গুণগত মান বাড়াতে এনইপি ২০২০ বাস্তবায়ন করার ওপর জোর দেয়া হচ্ছে। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গবেষণা সক্ষমতা এখনও সীমিত। ফলস্বরূপ বিদেশে পড়তে যাওয়া বা গবেষণার জন্য চাপ বাড়ছে। বাজেটে যদি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে রিসার্চ গ্রান্ট, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, ইনোভেশন ল্যাব এবং পিএইচডি ফেলোশিপ বাড়ানো হয়, তবে দেশীয় গবেষণা শক্তিশালী হবে।
তৃতীয়ত, চাকরির সাথে সংযোগ নিয়ে এখন সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা ছাত্রদের বেশিরভাগই সরাসরি চাকরির যোগ্য নয়; তাদের পুনরায় প্রশিক্ষণের জন্য কর্পোরেট খরচ বাড়ছে। বাজেটে যদি ইন্ডাস্ট্রি-এডুকেশন পার্টনারশিপ, অ্যাপ্রেন্টিসশিপ ট্যাক্স ইনসেনটিভ, ক্যাম্পাস-টু-কর্পোরেট ট্রানজিশন স্কিম মডিউল রাখা হয় তাহলে যুবদের কর্মসংস্থান সহজ হবে। বিশেষত নারী কর্মশক্তি এবং শহরের যুবকদের জন্য টার্গেটেড এমপ্লয়াবিলিটি স্কিমের দাবি উঠছে।
এছাড়া শিক্ষা খাত আরও কিছু কাঠামোগত পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে এডটেক সেক্টরের জন্য জিএসটি কমানো, সিএসআর ব্যয়ের অধীনে স্কিল ও এডুকেশনকে আরও উন্মুক্ত করা, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিনিয়োগ নীতিমালায় স্থিতিশীলতা, এবং স্কুল পরিকাঠামোতে রাজ্য কেন্দ্র যৌথ ফান্ড।
বাজেট ২০২৬-কে অনেকেই ‘ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড বাস্তবায়ন’-এর বাজেট হিসেবে দেখছেন। ভারতের অর্থনীতির ভবিষ্যৎ বড়ভাবে নির্ভর করছে যুব সমাজ কতটা উৎপাদনশীল হবে, কত দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তন ধরতে পারবে, এবং কত মানুষ উচ্চ বেতনের কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করতে পারবে তার ওপর। শিক্ষা খাত তাই স্পষ্ট বার্তা দিচ্ছে—কাঠামোতে নয়, বরং দক্ষতা, মান এবং চাকরির রূপান্তরে এখন বড় বাজি ধরার সময়।
