আজকাল ওয়েবডেস্ক: ভারত যখন ‘বিকশিত ভারত ২০৪৭’-এর দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যপূরণের দিকে অগ্রসর হচ্ছে, তখন বাজেট ২০২৬-এর আগে সোনা নিয়ে নতুন ভাবনার দাবি উঠছে। বিশেষভাবে সোনাকে কীভাবে অর্থনীতিতে আরও উৎপাদনশীলভাবে ব্যবহার করা যায় তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ ও শিল্পপতিরা সরকারকে নীতিগত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, ডিজিটাল গোল্ড ও গোল্ড লোনের মতো খাত বড় অর্থনৈতিক দিক উন্মোচন করতে পারে এবং আর্থিক বৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করতে পারে।


ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ সোনা মজুতকারী দেশ। বিয়ের গয়না, পারিবারিক সম্পদ ও বিনিয়োগ হিসেবে কোটি কোটি ঘরে সোনা সংরক্ষিত থাকে। কিন্তু এই বিশাল সম্পদের বড় অংশই নিষ্ক্রিয় অবস্থায় ঘর ও সেফে লক হয়ে থাকে, যার প্রায় কোনও অংশই উৎপাদনশীল অর্থনৈতিক কার্যক্রমে প্রবাহিত হয় না।


 বিকশিত ভারত ২০৪৭ লক্ষ্যকে অর্থনৈতিক ও অন্য দিক দিয়ে দেখলে স্পষ্ট যে ঘরের সোনাকে আনলক করে ডিজিটাল অর্থনীতিতে যুক্ত করা ছাড়া গতি পাওয়া সম্ভব নয়। বাজেট ২০২৬ নিয়ে শিল্প ও সাধারণ মানুষ—দু’দিক থেকেই আশা রয়েছে যে সরকার ডিজিটাল গোল্ড সম্পর্কে সচেতনতা ও গ্রহণযোগ্যতা বাড়াতে উদ্যোগী হবে।


সোনাকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করা গেলে সরকার ও আর্থিক ব্যবস্থার কাছে নতুন ধরনের সম্পদ পাওয়া যাবে, যা বিনিয়োগ, কাঠামো ও ঋণ বৃদ্ধিতে ব্যবহার হতে পারে। 


বর্তমানে সোনার দাম প্রায় ১.৫ লক্ষের কাছে পৌঁছেছে। এর ফলে গয়না কেনায় উল্লেখযোগ্য মন্দা দেখা যাচ্ছে। গ্রাহকেরা এখন এক গ্রাম বা তারও কম সোনা কেনার দিকে ঝুঁকছেন কিংবা বিনিয়োগ হিসেবে গয়না না কিনে সোনা বাড়িতে সংরক্ষণ করছেন। এর ফলে বিপুল পরিমাণ সোনা ব্যক্তিগত ভল্টে আটকে থাকছে, যা অর্থনীতিতে প্রবাহিত হওয়ার বদলে অচল হয়ে পড়ছে।


এদিকে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ খাত হল গোল্ড লোন। শিল্পপতিরা বলছেন, গ্রামীণ পরিবার, ক্ষুদ্র ব্যবসা ও আনুষ্ঠানিক ঋণের নতুন ব্যবহারকারীদের মধ্যে গোল্ড লোন আর্থিক অন্তর্ভুক্তিতে কার্যকর ভূমিকা রাখছে। অনেক ক্ষেত্রে কৃষি, শিক্ষা, বাড়ি নির্মাণ বা চিকিৎসার মতো খাতে গোল্ড লোন ব্যবহার হয়। অর্থাৎ অনেক ঋণই উৎপাদনশীল বা মূলধনী সম্পদ তৈরিতে কাজে লাগে।


এই বহুমাত্রিক প্রভাব বিবেচনায় গোল্ড লোন খাতে কর কাঠামো আরও সহায়ক হওয়া দরকার—যাতে ঋণগ্রহীতা ও আর্থিক খাত—উভয়ই সুবিধা পায়। এতে আনুষ্ঠানিক ক্রেডিট বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশীয় আর্থিক ব্যবস্থায় স্থিতিশীলতা ও অন্তর্ভুক্তি বাড়বে।

 


বাজেট ২০২৬-এর আগে তাই শিল্পমহলের দৃঢ় মত—সোনার প্রতি ভারতের ঐতিহ্যগত বিশ্বাসকে অটুট রেখেই ডিজিটাল রূপান্তর ও আর্থিক সংযোগের পথ তৈরি করা সময়ের দাবি। এতে সোনার সাংস্কৃতিক মূল্য যেমন অক্ষুণ্ণ থাকবে, তেমনি অর্থনীতির জন্যও নতুন দিগন্ত খুলবে—যা বিকশিত ভারত ২০৪৭ লক্ষ্যপূরণের পথকে আরও মসৃণ করতে পারে।