আজকাল ওয়েবডেস্ক: ইরানকে ঘিরে চলতি যুদ্ধ বিশ্ববাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। তেলের সরবরাহে ধাক্কা লাগায় শেয়ারবাজারে বড়সড় বিক্রি শুরু হয়েছে, ফলে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে গিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ব্যস্ত। সাধারণত এই ধরনের সঙ্কটে সোনা বা মার্কিন ডলারই ভরসা হয়ে ওঠে। কিন্তু এবারের পরিস্থিতিতে একেবারে ভিন্ন ছবি দেখা যাচ্ছে—সবকিছুকে ছাপিয়ে নজর কাড়ছে বিটকয়েন।
ফেব্রুয়ারি মাসে শেষ থেকে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই বিটকয়েনের দাম ৭২,০০০ ডলারের গণ্ডি পেরিয়েছে। প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধিকে খুব বড় মনে না হলেও, বর্তমান অস্থির বাজারে এই পারফরম্যান্সই তাকে আলাদা করে তুলেছে। যখন তেল ও শেয়ারবাজারে প্রবল ওঠানামা চলছে, তখন বিটকয়েনের এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিটকয়েনের অন্যতম বড় শক্তি হল এর ‘বর্ডারলেস’ বৈশিষ্ট্য। অর্থাৎ, এটি সহজেই দেশ-সীমা পেরিয়ে স্থানান্তর করা যায়, কোনও ব্যাঙ্ক বা সরকারের নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই। ফলে যুদ্ধ বা রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে, যখন মূলধন নিয়ন্ত্রণ কড়া হয়, তখন এই ডিজিটাল সম্পদ অনেক বেশি নমনীয় বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।
তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—বিটকয়েন কি সত্যিই নিরাপদ সম্পদ? এ বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে সঙ্কটের সময় সোনাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য আশ্রয় হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। কিন্তু এবার সেই চেনা ছবি বদলেছে। যুদ্ধের এক সপ্তাহ পর সোনার দাম সাময়িকভাবে ঊর্ধ্বমুখী হলেও পরে তা ৫,০০০ থেকে ৫,২০০ ডলারের মধ্যে স্থিতিশীল হয়ে যায়।
এর পেছনে বড় কারণ মার্কিন ডলারের শক্তিশালী হওয়া। ডলার শক্তিশালী হলে অন্যান্য মুদ্রায় সোনা কেনা ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে, ফলে চাহিদা কমে যায়। পাশাপাশি, তেলের দাম বাড়ায় মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা বাড়ছে। এর ফলে ফেডেরাল রিজার্ভ সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা কমে যায়। উচ্চ সুদের হারের প্রত্যাশা সোনার আকর্ষণ কিছুটা কমিয়ে দেয়।
অন্যদিকে, বিটকয়েন-ভিত্তিক ফান্ডগুলিতে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রবাহ লক্ষ্য করা গেছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে একাংশ বিনিয়োগকারী এখন ক্রিপ্টোকে বিকল্প নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ভাবছেন।
সব মিলিয়ে, ইরান যুদ্ধ শুধু রাজনৈতিক সমীকরণই বদলাচ্ছে না, বরং বিনিয়োগের ধরণেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সোনা ও ডলারের পাশাপাশি, নতুন যুগে বিটকয়েন কি সত্যিই ‘সেফ হেভেন’ হয়ে উঠতে পারে—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে বিশ্ববাজার।
