আজকাল ওয়েবডেস্ক: প্রযুক্তজগতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই)-র রমরমা নজরে আসছে সকলের। বিভিন্ন প্রযুক্তি সংস্থা এআই-এর দোহাই দিয়ে বিপুল কর্মী ছাঁটাই করে চলেছে। এরই মাঝে আরও আশঙ্কা তৈরি করল একটি রিপোর্ট সেই রিপোর্টে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা টাটা কনসাল্টেন্সি সার্ভিসেস (টিসিএস), উইপ্রো এবং ইনফোসিসের মতো সংস্থার ভবিষ্যৎ কী হতে পারে সেই বিষয়ে আভাস দেওয়া হয়েছে।
সিট্রিনি রিসার্চের ‘দ্য ২০২৮ গ্লোবাল ইন্টেলিজেন্স ক্রাইসিস’ শিরোনামে একটি ভাইরাল রিপোর্ট অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এই রিপোর্টে একটি কাল্পনিক পরিস্থিতির উপর আলোকপাত করা হয়েছে যেখানে দ্রুত ‘এআই অটোমেশন’ ২০২৮ সালের মধ্যে ব্যাপক বেকারত্ব এবং আর্থিক অস্থিরতার সৃষ্টি করবে। রিপোর্টে সতর্ক করা হয়েছে যে টিসিএস, ইনফোসিস এবং উইপ্রোর মতো ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থাগুলি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। কারণ তাদের ব্যবসায়িক মডেলগুলি এআই-চালিত অটোমেশনের সম্ভাব্য ধ্বংসলীলার মুখোমুখি হচ্ছে।
ভারতের আইটি পরিষেবা ক্ষেত্র বার্ষিক ২০০ বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি করে থাকে। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৮ সালের মধ্যে এই রপ্তানি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। যেহেতু, গ্রাহকরা অনেক কম খরচে এআই কোডিং এজেন্ট ব্যবহার করা শুরু করবে। পরিষেবা রপ্তানি দুর্বল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চার মাসের মধ্যে ডলারের তুলনায় টাকার উল্লেখযোগ্যভাবে পতন হবে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, “পুরো মডেলটি একটি মূল্য প্রস্তাবের উপর নির্মিত হয়েছিল, ভারতীয় ডেভেলপাররা আমেরিকান প্রতিপক্ষের তুলনায় সস্তা। কিন্তু একটি এআই কোডিং এজেন্টের জন্য খরচ বলতে মূলত বিদ্যুতের খরচ। আর কিছুই নয়।” আরও বলা হয়েছে, “২০২৭ সাল পর্যন্ত টিসিএস, ইনফোসিস এবং উইপ্রোর সঙ্গে চুক্তি বাতিলের ঘটনা আরও বৃদ্ধি পাবে। চার মাসে ডলারের তুলনায় টাকার দাম ১৮ শতাংশ কমেছে, কারণ ভারতের বহিরাগত ক্লায়েন্টের উপর নির্ভরশীল পরিষেবা উদ্বৃত্ত কমে গিয়েছে। ২০২৮ সালের প্রথম ত্রৈমাসিকে আইএমএফ নয়াদিল্লির সঙ্গে ‘প্রাথমিক আলোচনা’ শুরু করেছে।"
রিপোর্টে বলা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আবির্ভাব কোনও স্বাভাবিক ব্রেক ছাড়াই একটি লুপ তৈরি করেছে। যার অর্থ কোম্পানিগুলি প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ চালিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু সাধারণ মানুষ কম অর্থ ব্যয় করছে। বলা হয়েছে, “এআই আরও উন্নত এবং সস্তা হয়েছে। কোম্পানিগুলি কর্মী ছাঁটাই করেছে, তারপর সাশ্রয় হওয়া টাকা ব্যবহার করে আরও এআই সক্ষমতা কিনেছে, যার ফলে তারা আরও কর্মী ছাঁটাই করতে পেরেছে। কর্মচ্যুত শ্রমিকরা কম খরচ করেছে।” আরও বলা হয়েছে, “যেসব কোম্পানি গ্রাহকদের কাছে জিনিস বিক্রি করে, তারা সেগুলি কম বিক্রি করে, দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং মার্জিন রক্ষা করার জন্য এআই-তে বেশি বিনিয়োগ করছে। এআই আরও উন্নত এবং সস্তা হয়ে উঠছে।”
এনভিডিআইএ এবং টিএসএম-এর মতো কোম্পানিরা এআই-এর মূল খেলোয়াড়, তারা যখন আয় করছে, অর্থনীতির কিন্তু তখন ক্ষতিই হচ্ছে। রিপোর্টে বলা হয়েছে, “এনভিডিএ এখনও রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আয় করছে। টিএসএম এখনও ৯৫ শতাংশের বেশি ব্যবহারে কাজ করছিল। হাইপারস্কেলাররা এখনও প্রতি ত্রৈমাসিকে ডেটা সেন্টারের মূলধন ব্যয়ের জন্য ১৫০-২০০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করছিল। তাইওয়ান এবং কোরিয়ার মতো এই প্রবণতার সঙ্গে যে সব দেশগুলি তাল মিলিয়েছে তারাই সকলকে ছাড়িয়ে গিয়েছে।”
