আজকাল ওয়েবডেস্ক: যেসব ইক্যুইটি বিনিয়োগকারী অলাভজনক সম্পদকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করতেন, তাদের জন্য ২০২৫ সাল ছিল এক কঠোর শিক্ষা। যেখানে নিফটি মাত্র ১০.৫% রিটার্ন দিয়েছে। বাজার সরাসরি লোকসানের সম্মুখীন হয়েছে। সেখানে সোনা ৭৫% বৃদ্ধি পেয়েছে এবং রুপো বিস্ময়করভাবে ১৮৩% লাভে দিয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা তাঁদের কৌশল নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য হচ্ছেন। সকলের মনে একটাই প্রশ্ন, ধাতুতে বিনিয়োগ করবেন না কি ভারতীয় বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর উপর বাজি ধরবেন।

দালাল স্ট্রিটের তারকা ফান্ড ম্যানেজার এবং আইসিআইসিআই প্রুডেনশিয়াল এএমসি-র এস নরেন সতর্ক করেছেন, মূল্যবান ধাতুগুলি দামে অতিবৃদ্ধির লক্ষণ দেখা গিয়েছে। কিন্তু গত বছর প্রধান বাজারগুলির মধ্যে সবচেয়ে খারাপ পারফর্ম করার পর ২০২৬ সালে ভারতীয় ইক্যুইটি বাজার বেশিরভাগ বাজারকে ছাড়িয়ে যাবে।

নরেন বলেন, “আমরা মনে করি, এই মুহূর্তে বিনিয়োগের সেরা উপায় হবে অ্যাসেট অ্যালোকেশন এবং ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে আপনি যে পরিমাণ ঝুঁকি নিচ্ছিলেন, তার তুলনায় এখন ইক্যুইটিতে কিছুটা বেশি ঝুঁকি নেওয়া যেতে পারে, কারণ গত এক বছরে ভারতীয় বাজার বিশ্বের বেশিরভাগ বাজারের তুলনায় খারাপ পারফর্ম করেছে।”

সোনা ও রুপার দামে নজিরবিহীন বৃদ্ধি এবং শেয়ারবাজারের অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে সম্পদ ব্যবস্থাপকরা বুঝে শুনে পদক্ষেপের পরামর্শ দিচ্ছেন। তবে বিনিয়োগ শেয়ারে করার পরামর্শই দিচ্ছেন।

কোটা মহিন্দ্রা এএমসি-র ম্যানেজিং ডিরেক্টর নীলেশ শাহ প্রতিষ্ঠানের বর্তমান অবস্থান তুলে ধরে বলেছেন, “প্রায় ৫৫ শতাংশ ইক্যুইটি, প্রায় ২০ শতাংশ মূল্যবান ধাতু এবং ৩০ শতাংশ ফিক্সড ইনকাম। এই সংখ্যাগুলি হয়তো ১ বা ২ শতাংশ এদিক-ওদিক হতে পারে, কিন্তু এটাই মোটামুটি গড় অনুপাত। আমি মনে করি, একজন সাধারণ ঝুঁকি গ্রহণকারীর জন্য এটি একটি যুক্তিসঙ্গত সম্পদ বণ্টন।”

শেয়ারবাজার নিয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ইতিবাচক এবং আশা করা হচ্ছে যে মিডক্যাপ, লার্জক্যাপ ও স্মলক্যাপ শেয়ারগুলি ভাল পারফর্ম করবে। মূল্যবান ধাতু সম্পর্কে শাহ ‘ইতিবাচক’, তবে তা কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের ক্রয়ের উপর নির্ভরশীল। 

অ্যামবিট গ্লোবাল প্রাইভেট ক্লায়েন্টের প্রধান বিনিয়োগ কৌশলবিদ সুনীল শর্মা মাঝারি ঝুঁকি নিতে চান এমন বিনিয়োগকারীদের সোনায় ১২.৫% এবং রুপোয় মাত্র ৪-৫% বিনিয়োগের পরামর্শ দিয়েছেন, যেখানে ইক্যুইটিতে প্রধান অংশ ৭২% বরাদ্দ থাকবে, যা লার্জ ক্যাপ (৬৭.৫%), মিড ক্যাপ (২২.৫%) এবং স্মল ক্যাপ (১০%) শেয়ারের মধ্যে বিভক্ত হবে। বাকি ১১% ক্রেডিট, ইনভিট (InvITs)-এ বিনিয়োগ করা হবে এবং উল্লেখযোগ্যভাবে ইক্যুইটি খাতের মধ্যেই রিয়েল এস্টেট ইনভেস্টমেন্ট ট্রাস্ট (REITs)-এ ৬-৮% বরাদ্দ থাকবে, তবে দীর্ঘমেয়াদী বন্ড এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

৩০-৪০ বছর বয়সী তরুণ বিনিয়োগকারীদের জন্য এসবিআই সিকিউরিটিজের সানি আগরওয়াল আরও আক্রমণাত্মক কৌশল অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি ৭০% ইক্যুইটি, ১০% সোনা, ১০% রুপো এবং ১০% বন্ডে বিনিয়োগে পরামর্শ দিয়েছেন। আগরওয়াল উল্লেখ করেছেন, “জীবনের এই পর্যায়ে সাধারণত ব্যক্তির ঝুঁকি গ্রহণের ক্ষমতা বেশি থাকে এবং বিনিয়োগের সময়সীমাও দীর্ঘ হয়, যা ইক্যুইটিতে বেশি বিনিয়োগের সুযোগ করে দেয়।” 

(বিশেষজ্ঞদের দেওয়া সুপারিশ, পরামর্শ, মতামত ও দৃষ্টিভঙ্গিগুলি সম্পূর্ণ তাঁদের নিজস্ব। আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হলে আজকাল ডট ইন দায়ী নয়। )