আজকাল ওয়েবডেস্ক: এসআইআর শুনানি পর্বে সাধারণ মানুষের হয়রানির যেন কোনও অন্ত নেই। ২০০২-এর ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে এবং সমস্ত নথি ঠিক রয়েছে তা সত্ত্বেও এক ব্যক্তিকে এসআইআর-এর শুনানি নোটিস দেওয়ায় তিনি বিডিও অফিসে বাবা এবং দাদুর ব্যবহার করা বিভিন্ন জিনিস এবং দাদুর কবরের মাটি নিয়ে সটান হাজির হয়ে গেলেন শুনানি কেন্দ্রে। 

 

ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের ভরতপুর -১ নম্বর ব্লকের ডাঙ্গাপাড়া এলাকায়। এসআইআর শুনানিতে হয়রানির 'শিকার' ওই ব্যক্তির নাম কেবির শেখ।  সূত্রের খবর, নাম এবং জন্ম তারিখ সংক্রান্ত ছোটখাটো কিছু ভুল থাকার জন্য কেবিরকে  শুনানিতে ডেকে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন।


 
এসআইআর-এর হয়রানির প্রতিবাদে শুনানি কেন্দ্রে বাবা এবং দাদুর ব্যবহার করা হাঁড়ি, লম্ফ, টর্চলাইট এবং দাদুর কবরের মাটি নিয়ে নিজের ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে বিডিও অফিসে হাজির হয়ে গেলেন কেবির। ঘটনার এই দৃশ্য সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জেলা জুড়ে।


 
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকাকে সমালোচনা করে তৃণমূল কংগ্রেসের বহরমপুর-মুর্শিদাবাদ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকার বলেন,"নির্বাচন কমিশন যে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করছে তার প্রমাণ কেবির শেখের মতো মানুষ। এরা বছরের পর বছর এই দেশে, এই রাজ্যে বাস করছেন।  এখন হঠাৎ করে এসআইআর-এর শুনানির নামে তাঁদেরকে নতুন করে নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে হচ্ছে। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে সাধারণ মানুষ এর বদলা বিজেপির উপর নেবে।"


 
হাতে ঝোলানো একটি ব্যাগে দাদুর কবরের মাটি এবং মাথার মধ্যে ধরে রাখা পুঁটলিতে বাবা এবং দাদুর ব্যবহার করা হাঁড়ি-কলসি -লম্ফ- টর্চ লাইট নিয়ে বিডিও অফিসে কবিরকে ঘুরতে দেখে অনেকেই  বিশ্বাস করতে পারছিলেন না নিজের বংশ পরিচয় দেওয়ার জন্য একজন সাধারণ মানুষকে এইভাবে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।


 
কেবির শেখ বলেন,"২০০২-এর ভোটার তালিকায় আমার নাম রয়েছে। আমার সমস্ত নথি ,কাগজ ঠিক রয়েছে। তা সত্ত্বেও আমার ছেলে জুয়েল শেখ, সুমন শেখ এবং আমাকে এসআইআর-এর শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে।"


 
তিনি বলেন ,"এনুমারেশন ফর্ম যখন জমা দিয়েছিলাম তখনই সমস্ত কাগজ এবং নথি বিএলও-কে দিয়েছিলাম। কিন্তু তা সত্ত্বেও হয়রানি করার জন্য আমাকে শুনানিতে ডাকা হয়েছে।"


 
ওই ব্যক্তি বলেন,"বাবা এবং দাদুর যাবতীয় নথি দিয়ে যখন কাজ হয়নি তাই আমি বিডিও অফিসে বাবা এবং দাদুর ব্যবহার করা হাঁড়ি -কলসি -লম্ফ- টর্চ লাইট সব নিয়ে হাজির হয়েছি। আর তার সঙ্গে ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের কবরস্থান থেকে আমার দাদু হাবিব শেখের কবর থেকে দু'মুঠো  মাটিও তুলে এনেছি।"


 
কেবির বলেন,"নির্বাচন কমিশনের আধিকারিকদের সমস্ত জিনিস দেখাবো। তার সঙ্গে বাবা-ঠাকুরদার ব্যবহার করা এই জিনিস এবং কবরের মাটিও দেখাবো। তাতে যদি তাঁরা সন্তুষ্ট হয়ে ভোটার তালিকায় আমার নাম রাখেন খুব ভালো। যদি না রাখেন তাহলে আমাকে বিডিও অফিসে অনশনে বসতে হবে।"