আজকাল ওয়েবডেস্ক:  একসময়ের রাজ্য রাজনীতির দোর্দণ্ডপ্রতাপ সিপিএম নেতা ছিলেন মহম্মদ মজিদ আলি ওরফে মজিদ মাস্টার। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার শাসন এলাকায় তার প্রভাবেই সিপিএমের ভোটব্যাঙ্ক ভর্তি হত। এখন রাজনীতি থেকে অবসর নিয়েছেন। চাষবাস করে অবসর সময়ে বই পড়ে দিন কাটাচ্ছেন।  


২০১৫ সালের রাজনীতি থেকে বিদায় নিয়েছেন। বয়স হয়ে গেলেও রাজনীতি আর ভাল লাগে না। বামফ্রন্টের রাজ্য নেতারা যোগাযোগ করলেও তিনি আর ফিরে যাননি রাজনীতিতে। বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে তার ব্যক্তিগত মূল্যায়ন, সাম্প্রদায়িক বিজেপিকে ঠেকাতে ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে ভোট দিয়েছি, ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনেও তৃণমূলকে ভোট দেব। তাঁর এই মন্তব্য নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।


মজিদ মাস্টার বলেন, নিজের দল সিপিআইএম একটি সাম্প্রদায়িক দলের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ২০২১-এ লড়েছে, সম্ভবত ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনে লড়তে চলেছে। নীতিভ্রষ্ট হয়েছে সিপিআইএম দল। রাজ্যের উন্নয়নের জন্য তৃণমূল নেত্রীর হাতকে শক্ত করা উচিত। বামফ্রন্ট গরিব মানুষের কথা ভাবতো, তৃণমূল গরিব মানুষের উন্নয়নমুখী কাজ করে যাচ্ছে। লক্ষীর ভান্ডার, বাংলার বাড়ি দুটোকেই গরীবের প্রকল্প বলে মনে করেন শাসনের বেতাজ বাদশা মজিদ মাস্টার।


সামনের বিধানসভা নির্বাচন তিন থেকে চারমুখী হতে চলেছে বলে তার ধারণা ব্যক্তিগতভাবে তিনি মনেপ্রাণে এখনও বামপন্থী। এবারে নির্বাচনে প্রধান লড়াই শাসক দল তৃণমূলের সঙ্গে কেন্দ্রের বিজেপির সঙ্গে। তিনি জানান, বামপন্থী হয়েও বর্তমান পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে বিজেপিকে প্রতিহত করার জন্য ফের তৃণমূলকে ভোট দেব বলে মনস্থির করেছি। তৃণমূলকে ভালোবেসে নয়।


তিনি সিপিআইএম করতেন তথাপি একথা মনে করছেন কেন জিজ্ঞাসা করলে উত্তরে বলেন, সিপিআইএম আমার এখনকার দল নয়, সিপিআইএম আমার অতীতের দল। বর্তমানের সিপিআইএমকে সমর্থন করি না। আইএসএফ-এর সঙ্গে জোট বেঁধে লড়াই করে। যারা ধর্মগুরু তারা প্রতিষ্ঠিত দলকে সমর্থন করে তাদেরকে সমর্থন করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। ২০২১ সালে আইএসএফ-এর প্রার্থী ছিল শাসনে, বামফ্রন্টের কোনও প্রার্থী ছিল না। বামপন্থী হয়ে রুচিসম্মত বলে এটাকে আমি মনে করি না। 

 

বিজেপির বিরুদ্ধে একমাত্র তৃণমূল কংগ্রেস লড়াই করছে। এসআইআর নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে যেভাবে সাওয়াল করেছেন তাতে বিজেপির ভয় ধরেছে। তাই বিজেপিকে আটকাতে তৃণমূল কংগ্রেস মমতাকে আমি ভোট দিই। আইএসএফ এর সঙ্গে গত একুশের নির্বাচনে লড়াই করা এবং হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সিপিএমের বৈঠক করা আসলে সাম্প্রদায়িক শক্তিকে উস্কানি দেওয়া। যে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে লড়াই করেছি সেই কংগ্রেসের পায়ে ধরেছে সিপিএম। পার্টি তাই নিজের পয়েন্ট থেকে যখন সরে গেছে তাই আমিও তৃণমূলকে ভোট দিই।


পুরনো দিনের কথা বলতে গিয়ে বলেন, ভেরি বন্ধ করে চাষের জমি ফিরিয়ে দেওয়ার লড়াই করে জোতদারদের কাছ থেকে জমি কেড়ে নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিলিয়ে দিয়েছি। মারদাঙ্গা হয়েছে কিন্তু খুন করিনি। আমাদের অনেক লোক খুন হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে প্রচুর মিথ্যা অভিযোগ হয়েছে। 


তাই এখন ৮২ বছর এক মাস বয়সে রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নিয়ে এখন মাঠে ফসল ফলানোর জন্য নিয়মিত যান। পড়াশুনো আর বাড়ির কাজের মধ্যে নিজেকে নিয়োজিত করে রেখেছেন মজিদ মাস্টার।