আজকাল ওয়েবডেস্ক: বাংলার শাসক দল, গত কয়েকমাসে লাগাতার সুর চড়িয়েছে। মঙ্গলবার সংসদেও সুর চড়িয়েছিলেন তৃণমূলের  সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জি। দুই ভারত তত্ত্ব তুলে ধরে বুলেছিলেন, সেই ভারতের কথা, যেখানে বাংলায় কথা বললে বাংলাদেশি  বলে দেগে দেওয়া হয়, মাছ খেলে বলা হয় মোঘল। 

অভিষেকের তীব্র কটাক্ষের ২৪ ঘণ্টা পেরিয়েছে। ফের একই অভিযোগ। অভিযোগ, বিজেপি শাসিত মহারাষ্ট্রের পুনেতে কুপিয়ে খুন করা হয়েছে পুরুলিয়ার বান্দোয়ানের যুবককে। যুবকের নাম সুখেন মাহাতো, তথ্য তেমনতাই। জানা গিয়েছে, সুখেন পুনেতে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য, কর্মক্ষেত্রে বাংলা বলার অপরাধে তাঁকে খুন করা হয়েছে। অভিযোগ তেমনটাই। 

জানা গিয়েছে, সুখেন তাঁর  পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য ছিলেন। সূত্রের খবর, ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই শাসল দলের স্থানীয় নেতৃত্ব পৌঁছেছেন সুখেনের বাড়িতে। অন্যদিকে ওড়িশাতেও বাংলাদেশি সন্দেহে মালদহের তিন যুবককে মারধরের অভিযোগ উঠে এসেছে।

 

যদিও এই অভিযোগ কিংবা এই ঘটনা নতুন নয়। দেশের নানা প্রান্তে বাংলায় কথা বলার অপরাধে বাংলার মানুষকে বাংলাদেশি সন্দেহে, মারধোর, খুন, হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে। জানুয়ারি মাসে একই ঘটনা ঘটে মহারাষ্ট্রেই। অভিযোগ,  মুম্বইতে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে রাজমিস্ত্রির কাজ করতে গিয়ে খুন হন মুর্শিদাবাদের এক যুবক। মৃত যুবকের নাম রিন্টু শেখ (৩০)। তাঁর বাড়ি মুর্শিদাবাদের রানিতলা থানার অন্তর্গত আমডহরা গ্রাম পঞ্চায়েতের হাজিগঞ্জে। 

 

মৃতের পরিবারের তরফ থেকে অভিযোগ তোলা হয়, বাংলায় কথা বলার জন্য রিন্টুর সঙ্গে কর্মরত অন্য রাজ্যের কয়েকজন পরিযায়ী শ্রমিক তাঁকে পিটিয়ে খুন করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাজিগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা রিন্টু শেখ গত বেশ কয়েক বছর ধরে মুম্বাইয়ের বিভিন্ন এলাকায় পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে রাজমিস্ত্রির কাজ করেন। বছরের বেশ কয়েক মাস মুম্বাইতে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করার পর তিনি মাঝেমধ্যেই গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসতেন। 

&t=20s

প্রসঙ্গত গতবছর ডিসেম্বর মাসে ওড়িশার সম্বলপুরে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে গিয়ে বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য স্থানীয় জনগণের 'রোষের' শিকার হয়ে গণপ্রহারে মৃত্যু হয় মুর্শিদাবাদের সুতি থানার চক বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা জুয়েল রানা নামে বছর একুশের এক যুবকের। সেই ঘটনার রেশ মেলানোর আগেই মুর্শিদাবাদের আরও এক যুবককে বাংলা ভাষায় কথা বলার জন্য পিটিয়ে মারার অভিযোগ উঠল  মহারাষ্ট্রে।