দীক্ষা ভুঁইয়া: তৃণমূল আমলে বা আগের শাসকদলের আমলে এসএসসি পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে নিয়োগ দুর্নীতির তদন্ত এখনও চলছে। আর তারই মাঝে পশ্চিমবঙ্গ কেন্দ্রীয় স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান পদে দুষ্মন্ত নারিয়ালা। নিয়োগে স্বচ্ছতার ওপর জোর রাজ্য সরকারের। 

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও রাজনৈতিক প্রভাব কমানোর লক্ষ্য নিয়ে পশ্চিমবঙ্গ সেন্ট্রাল স্কুল সার্ভিস কমিশনের (WBCSSC) চেয়ারম্যান হিসেবে বরিষ্ঠ আইএএস আধিকারিক দুষ্মন্ত নারিয়ালাকে নিয়োগ করেছে রাজ্য সরকার। 

 

রাজ্য বাজেটে শূন্য পদে নিয়োগের ঘোষণা করার সময় সরকার জানিয়েছিল, নিয়োগ সংক্রান্ত কোনও কমিটিতে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব রাখা হবে না। সেই নীতির অংশ হিসেবেই এই নিয়োগ করা হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানানো হয়েছে। 

 

শনিবার সন্ধ্যায় এক্স হ্যান্ডেলে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, 'রাজ্যবাসীর কাছে আমাদের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ছিল যে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা আনা হবে এবং নিয়োগ কমিশনগুলোকে রাজনৈতিক সংস্পর্শ থেকে মুক্ত রেখে ইউপিএসসি (UPSC)-র মডেলের ধাঁচে ঢেলে সাজানো হবে।' 

 

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, 'সেই মতো অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় যখন শূন্য পদে নিয়োগের কথা ঘোষণা করা হয়, তখনই আমরা কথা দিয়েছিলাম যে নিয়োগ সংক্রান্ত কোনও কমিটিতেই কোনও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব থাকবেন না। আমাদের সরকার সেই প্রতিশ্রুতি অক্ষরে অক্ষরে পালনে বদ্ধপরিকর।' 

">

 

এরপর শুভেন্দুর ঘোষণা, 'সেই লক্ষ্য পূরণে আজ আমরা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। পশ্চিমবঙ্গ সেন্ট্রাল স্কুল সার্ভিস কমিশনের (WBCSSC) নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা সুনিশ্চিত করতে রাজ্যের অত্যন্ত অভিজ্ঞ এবং বরিষ্ঠ আইএএস (IAS) আধিকারিক শ্রী দুষ্মন্ত নারিয়ালা (Shri Dushyant Nariala) কে কমিশনের চেয়ারম্যান পদের দায়িত্ব দেওয়া হল।' 

 

শেষে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, 'মেধা এবং যোগ্যতাই হবে চাকরি পাওয়ার একমাত্র মাপকাঠি। অতীতের দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারের আমলে যে অন্যায় হয়েছে বা প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির যে দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়েছে, তার কোনও স্থান এই নতুন পশ্চিমবঙ্গে নেই। যোগ্য মেধাবী চাকরি প্রার্থীদের অধিকার সুরক্ষিত করা এবং তাঁদের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়াই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। যুবসমাজের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়তে আমাদের এই প্রচেষ্টা জারি থাকবে।' 

 

স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখার উদ্দেশ্যে অভিজ্ঞ প্রশাসনিক আধিকারিককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছে। 

 

চাকরি পাওয়ার ক্ষেত্রে মেধা ও যোগ্যতাকে একমাত্র মানদণ্ড করার কথা জানিয়েছে রাজ্য। অতীতে নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় নতুন ব্যবস্থায় তা এড়াতে কড়া নজরদারির কথা বলা হয়েছে। যোগ্য প্রার্থীদের অধিকার সুরক্ষিত রেখে নিয়োগ প্রক্রিয়া চালানোর ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

 

নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশন মুখ্যসচিব পদে দুষ্মন্ত নারিওয়ালাকে নিয়োগ করে। বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরে মুখ‍্যসচিব পদ থেকে দুষ্মন্ত নারিওয়ালাকে দিল্লিতে রেসিডেন্টশিয়াল কমিশনার পদে বদলি করে। কিন্তু এসএসসির মতো পরীক্ষায় স্বচ্ছতা আনার জন্যই এই বদলি বলে মনে করছে প্রশাসনিক মহল।

বর্তমানে দুষ্মন্ত নারিওযালআ নয়াদিল্লিতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রিন্সিপাল রেসিডেন্ট কমিশনার হিসেবে কর্মরত। পাশাপাশি তাঁর কাছে ডিরেক্টর জেনারেল, NSATI এবং চেয়ারম্যান, SNTCSSC-এর অতিরিক্ত দায়িত্বও রয়েছে। এবার সেই দায়িত্বের পাশাপাশি তাঁকে পশ্চিমবঙ্গ কেন্দ্রীয় স্কুলসার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতে হবে।