আজকাল ওয়েবডেস্ক: বোলপুরে রাজনৈতিক পারদ চড়ল তুঙ্গে। একদা অনুব্রত মণ্ডলের গড় বলে পরিচিত তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা কার্যালয়ে এবার তালা ঝুলিয়ে দিল বিজেপি যুব মোর্চার কর্মী ও সমর্থকেরা। মঙ্গলবার এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায় গোটা বোলপুর এলাকায়।
বিজেপি যুব মোর্চার অভিযোগ, বোলপুর পৌরসভার কাউন্সিলরদের তৃণমূলের স্থানীয় নেতৃত্বের পক্ষ থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে তারা সাধারণ মানুষের কোনও কাজ না করেন।
যুব মোর্চার জেলা সাধারণ সম্পাদক অরুণ দাস স্পষ্ট বলেন, "পৌরসভার কোনও ওয়ার্ডেই কাজ হচ্ছে না। তৃণমূলের এই জেলা কার্যালয় থেকেই কাউন্সিলাররা কাজ বন্ধ রাখার মদত পাচ্ছেন।" তাদের দাবি, যদি কাউন্সিলররা কাজ করতে নাই পারেন, তবে অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।
অন্যদিকে, বিক্ষোভকারী মিন্টু সোম অভিযোগ তোলেন, ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসা এবং সন্ত্রাসের মূল কেন্দ্র ছিল এই পার্টি অফিসটি। সাধারণ মানুষের পরিষেবা বন্ধ রাখা এবং প্রশাসনিক কাজে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর প্রতিবাদেই এই প্রতীকী তালা ঝোলানোর কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
বিজেপি যুব মোর্চার হুঁশিয়ারি, আগামী দিনেও যদি মানুষের কাজ স্তব্ধ করে রাখা হয়, তবে তারা পৌরসভার বিভিন্ন বিভাগেও তালা ঝুলিয়ে বড়সড় আন্দোলনে নামবেন।
এ দিকে, তৃণমূলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নিয়ে বিতর্ক প্রকাশ্যে আসার পর বিগত কয়েকদিন ধরে অনুসন্ধান চালাচ্ছিলেন ইডি আধিকারিকরা। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কোথায় কত টাকা লেনদেন সেই সম্পর্ক অনুসন্ধান চালাচ্ছিল ইডি। সোমবার রাতে এ নিয়ে দিল্লিতে বৈঠক হয়। সেই বৈঠকের পরই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা ইসিআইআর করে। বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানায় দায়ের হওয়া এফআইআর-এর উপর ভিত্তি করেই ইডিইসিআইআর করা হয়। দু'দিন আগেই ঋতব্রত ব্যানার্জি এবং সন্দীপন সাহা এই মামলায় একই থানায় বেশ কিছু নথি জমা দিয়েছিলেন, সেগুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তৃণমূলে ভাঙনের পর দলের তহবিল কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে চরম সংঘাত জারি রয়েছে। দলের এই টানাপড়েনের কথা উল্লেখ করে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে তৃণমূলের সমস্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার জন্য আগেই আবেদন করেছেন দলের প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ অরূপ বিশ্বাস।
তার পর পরই অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করার আবেদন জানিয়ে পুলিশের দ্বারস্থ হয় ঋতব্রত শিবিরও। সেই আবেদনের উপর ভিত্তি করেই তৃণমূলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের প্রায় ৪৪০ কোটি টাকার কোনওরকম লেনদেন বন্ধ রাখার জন্য ব্যাঙ্ককে নির্দেশ দেয় পুলিশ।
পরে সেই তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলার জন্য আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় কালীঘাটপন্থী তৃণমূল। গত বৃহস্পতিবার এই মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য তৃণমূলের অ্যাকাউন্ট আপাতত ফ্রিজই রাখা হবে বলে জানিয়ে দেন। এই বিষয়ে ব্যাঙ্ক কতৃপক্ষ ও পুলিশের থেকে রিপোর্ট তলব করে উচ্চ আদালত। বুধবার অর্থাৎ আগামীকাল আবারও এই মামলার শুনানি রয়েছে।
















