আজকাল ওয়েবডেস্ক: সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যের ওষুধ এখন যেন ‘সম্মান’ দিয়ে কিনতে হয়। মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওষুধ বিতরণ কাউন্টারের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই এমনই অভিযোগে সরব হয়েছেন নেটিজেন থেকে সাধারণ মানুষ। অভিযোগের কেন্দ্রে ওষুধ দেওয়ার দায়িত্বে থাকা এক কর্মী। তাঁকে ‘স্যার’ বলে সম্বোধন না করায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও এক মহিলাকে ওষুধ দিতে অস্বীকার করার অভিযোগ উঠেছে। যদিও এই ভাইরাল ভিডিওর সত্যতা ‘আজকাল ডট ইন’ যাচাই করেনি।

 

ভাইরাল হওয়া ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, ওষুধের কাউন্টারের সামনে এক মহিলা কাতরভাবে ওষুধ চাইছেন। কিন্তু কাউন্টারে বসা ওই ব্যক্তি তাঁকে পাশ কাটিয়ে একের পর এক অন্য রোগীদের ওষুধ দিয়ে যাচ্ছেন। মহিলার অভিযোগ, প্রায় দু’ঘণ্টা লাইনে দাঁড়ানোর পর ওই কর্মীকে তিনি ‘দাদা’ বলে সম্বোধন করেছিলেন। তাতেই ক্ষুব্ধ হন ওই কর্মী। তাঁর দাবি, ‘স্যার’ না বলায় ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁকে ওষুধ দেওয়া হচ্ছে না। 

 

ভিডিওতে শোনা যায়, মহিলা বারবার বলছেন, “ওষুধটা দিন না, দু'ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে আছি।” জবাবে ওই কর্মী কোনও উত্তর না দিয়ে নির্বিকারভাবে অন্যান্যদের পরিষেবা দিতে থাকেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে মহিলা শেষ পর্যন্ত ‘স্যার’ বলেও ডাকেন। কিন্তু তাতেও মন গলেনি ওই কর্মীর। উল্টে মহিলা গোটা ঘটনাটি মোবাইলে রেকর্ড করতে গেলে ওই কর্মী তাঁর এক সহযোগীকে নির্দেশ দেন মহিলার কাছ থেকে মোবাইলটি কেড়ে নেওয়ার। 

 

ভিডিওটি ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে পড়তেই মুহূর্তে ক্ষোভে ফেটে পড়েন নেটিজেনরা। কমেন্ট বক্স ভরে গেছে তীব্র নিন্দা ও নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা দিয়ে। অনেকেই লিখেছেন, মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ওষুধ নিতে গেলে এই ধরনের অপমান প্রায়শই গা-সওয়া হয়ে গেছে। কেউ লিখেছেন, “সরকারি কর্মচারী, মাইনে দেয় জনগণ। আর তাঁকেই স্যার বলতে হবে?” আবার কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, রোগী পরিষেবা কি এখন সম্বোধনের উপর নির্ভর করছে?

 

অনেকের অভিযোগ আরও গভীরে। তাঁদের কথায়, শুধু ওষুধ পেতে দেরি বা হয়রানি নয়, ওষুধ কখন, কীভাবে, কতদিন খেতে হবে তাও কর্তব্যরত কর্মীরা ঠিকমতো বুঝিয়ে দেন না। বরং সামান্য প্রশ্ন করলেই রোগী বা তাঁদের আত্মীয়দের কপালে জোটে ভর্ৎসনা। “মানুষ অসুস্থ হয়ে, কষ্ট করে লাইনে দাঁড়িয়েও শেষে অপমান নিয়ে বাড়ি ফেরে”— এমন মন্তব্যও চোখে পড়েছে।

 

এই ঘটনার পরেই একাধিক মানুষ স্থানীয় বিধায়ক এবং জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের অবিলম্বে হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, সরকারি হাসপাতালে পরিষেবা পাওয়ার জন্য কোনও নাগরিককে ‘স্যার’, ‘ম্যাডাম’ বা অন্য কোনও বিশেষণে ডাকতে বাধ্য করা যায় না। 

 

মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভাইস প্রিন্সিপাল কাম মেডিক্যাল সুপার ডাঃ অনাদি রায়চৌধুরী জানিয়েছেন, "এই ঘটনাটি নিয়ে আমাদের কাছে কোনও লিখিত অভিযোগ আসেনি। তবুও এই ভাইরাল ভিডিওর পরিপ্রেক্ষিতে আমরা তদন্ত চালিয়েছি। কিন্তু কোনও তথ্য প্রমাণ আমরা পাইনি।" তিনি আরও বলেন, "যদি কারও এই বিষয়ে কোনও ধরনের অভিযোগ থাকে, তাহলে আমাদের লিখিতভাবে জানাতে হবে। তা না হলে আমরা এ ধরনের কোনও বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করতে পারব না।"