আজকাল ওয়েবডেস্ক: বঙ্গে বিজেপি সরকারের বয়স দু'মাস। এদিকে দু'মাসেই তৃণমূলের অবস্থা নড়বড়ে। ক্রমাগত রক্তক্ষণ জোড়া ফুল শিবিরে। দীর্ঘদিনের সঙ্গী, বর্ষীয়ান নেতারা হাত ছেড়েছেন মমতার। দলের নাম-প্রতীক কার, তা নিয়েই দড়ি টানাটানি। কমিশনে জমা পড়েছে দু' শিবিরের নথি। এই পরিস্থিতিতে, বিজেপি সরকারের '১৫ সাফল্য' উল্লেখ করে, সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট অভিষেকের।
কী লিখলেন অভিষেক? পয়েন্ট ধরে লিখেছেন-
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির ‘ডাবল-ইঞ্জিন’ সরকারের ১৫টি ‘সাফল্য’— মাত্র দু'মাসের মধ্যেই।
১। তৃণমূল কংগ্রেস (AITC) থেকে সাংসদদের দলবদল করানো।
২। তৃণমূল কংগ্রেস (AITC) থেকে বিধায়কদের দলবদল করানো।
৩। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় এমন এক ‘প্রক্সি’ বা নামমাত্র বিরোধী দলনেতা তৈরি করা, যিনি রাজ্যের বিজেপির নির্দেশে চলেন এবং তাদের হাতের পুতুল হয়ে কাজ করেন।
৪। তৃণমূল কংগ্রেসকে (AITC) আর্থিকভাবে কোণঠাসা করার লক্ষ্যে দলের ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলি অচল বা ফ্রিজ করে দেওয়া।
৫। হাজার হাজার তৃণমূল কর্মীকে আইনি মামলায় জড়িয়ে ফেলা। সম্ভাব্য সব উপায়ে তৃণমূল কংগ্রেসকে (AITC) দুর্বল ও বিভক্ত করার চেষ্টা করা।
৬। ‘যোগ দিবস’-এর নামে সাত দিন ধরে রাস্তা অবরোধ করে রাখা।
৭। রাজ্যজুড়ে ১৪টিরও বেশি ধর্ষণের ঘটনার খবর পাওয়া, যার মধ্যে নাবালিকাদের ওপর নির্যাতনের ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত।
৮। দিনের আলোয় সংখ্যালঘু ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর।
৯। বিরোধী নেতাদের গৃহবন্দি করে রাখা।
১০। 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' প্রকল্প থেকে ১ কোটিরও বেশি প্রকৃত সুবিধাভোগীর নাম বাদ দেওয়া।
১১। পশ্চিমবঙ্গে এই প্রথম শিশুদের মিড-ডে মিল থেকে ডিম বাদ দিয়ে নিরামিষ বিকল্প খাবার চালু করা হয়েছে, যার ফলে শিশুরা প্রোটিনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উৎস থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
১২। প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও হকারদের বিরুদ্ধে বুলডোজার অভিযান। গরিব মানুষের ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং তাদের জীবিকা ধ্বংস করা হচ্ছে।
১৩। যাঁরা আপোস করেন তাঁদের জন্য কেন্দ্রীয় ও রাজ্য স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে, অথচ যাঁরা মাথা নত করতে অস্বীকার করছেন, তাঁদের নিরাপত্তা প্রত্যাহার করা হচ্ছে।
১৪। যারা প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে সিআইডি (CID), ইডি (ED), এসটিএফ (STF) ও সিবিআই (CBI)-এর নোটিশ ও তল্লাশি অভিযান।
১৫। দিল্লির ‘জমিদারদের’ নির্দেশে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের হয়ে সওয়ালকারী সলিসিটর জেনারেল বারবার শুনানির সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন করছেন এবং বিচার বিভাগকে এমনভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা করছেন যাতে পশ্চিমবঙ্গবাসীর হয়ে যাঁরা লড়াই করছেন, তাঁরা কোনও অন্তর্বর্তীকালীন স্বস্তি বা সুরক্ষা না পান।
একেবারে শেষে অভিষেক একটি প্রশ্নও রেখেছেন। পোস্টের শেষ লাইনে লিখেছেন, 'জনগণের রায়ের মাধ্যমেই যদি বিজেপি সত্যিই পশ্চিমবঙ্গ জয় করে থাকে, তবে রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষ এবং তৃণমূলকে দেখে তাদের এত ভয় কেন?'















