আজকাল ওয়েবডেস্ক: চলে গেলেন বর্ষীয়ান বামপন্থী নেতা তথা প্রাক্তন সিপিএম সাংসদ সুধাংশু শীল। বৃহস্পতিবার সকালে কলকাতার একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮১ বছর। বেশ কয়েক মাস ধরেই বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি। তাঁর প্রয়াণের খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে বাংলার রাজনৈতিক মহলে।
রাজনৈতিক বৃত্তে ‘মিন্টুদা’ নামে পরিচিত সুধাংশু শীল ছিলেন আগাগোড়া একজন পোড়খাওয়া সংগঠক। ছাত্রজীবন থেকেই বামপন্থী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে তাঁর পথ চলা শুরু। সংগঠন পরিচালনায় তাঁর সহজাত দক্ষতার কারণে দলের অন্দরে তিনি বিশেষ গুরুত্ব পেতেন। কলকাতা জেলা সিপিএমের ইতিহাসে রাজদেও গোয়ালা বা রঘুনাথ কুশারীদের মতো ব্যক্তিত্বদের সঙ্গেই উচ্চারিত হত তাঁর নাম। তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এক বড় অংশ জড়িয়ে ছিল কলকাতার পুর-রাজনীতির সঙ্গে। টানা পাঁচবার ২০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হয়ে কলকাতা পুরসভায় গিয়েছিলেন তিনি। ১৯৯০ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পালন করেছেন মেয়র পারিষদের দায়িত্ব।
সংসদীয় রাজনীতিতেও তাঁর পদচারণা ছিল অত্যন্ত উজ্জ্বল। ২০০৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তিনি অধুনালুপ্ত কলকাতা উত্তর-পশ্চিম লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ ছিলেন। তার আগে ২০০১ সালে জোড়াবাগান বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১০ সালের কলকাতা পুরনির্বাচনে বামফ্রন্ট তাঁকে মেয়র পদপ্রার্থী হিসেবে তুলে ধরেছিল। তবে সেই নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসের কাছে বামেদের পরাজয় ঘটে এবং সুধাংশু নিজেও পরাজিত হন। পরবর্তীকালে তাঁর জায়গায় বিরোধী দলনেত্রী হিসেবে রূপা বাগচীকে বেছে নেয় দল।
আজীবন সাদাসিধে জীবনযাপনে অভ্যস্ত এই নেতা গ্রামীণ ও শহর—উভয় অঞ্চলের মানুষের সমস্যা নিয়ে সব সময়ই স্পষ্ট অবস্থান নিতেন। তাঁর প্রয়াণে শোকপ্রকাশ করে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু এবং সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম জানিয়েছেন, দল একজন অভিজ্ঞ ও নিষ্ঠাবান সংগঠককে হারাল। বৃহস্পতিবার দুপুর ২টো থেকে বৃন্দাবন স্ট্রিটে দলীয় কার্যালয়ে তাঁর মরদেহ শায়িত রাখা হবে, যাতে কর্মী-সমর্থক এবং সাধারণ মানুষ তাঁদের প্রিয় ‘মিন্টুদাকে’ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে পারেন। এক বর্ণময় রাজনৈতিক অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটিয়ে না-ফেরার দেশে চলে গেলেন অভিজ্ঞ এই বাম নেতা।
















