আজকাল ওয়েবডেস্ক: মাধ্যমিকে কলকাতার ঝুলি শূন্য। মেধাতালিকায় কলকাতার কোনও স্কুল ছিল না। তবে, উচ্চমাধ্যমিকে আবারও স্বমহিমায় ফিরল কলকাতা। ২০২৬-এর মেধা তালিকায় মোট চারজন রয়েছে৷ 

উচ্চ মাধ্যমিকের মেধা তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে কলকাতার ৪ জন কৃতি ছাত্রছাত্রী।

এক নজরে দেখে নেওয়া যাক কলকাতার সেই কৃতীদের-

গোলাম ফয়জল। উচ্চ মাধ্যমিকে চতুর্থ হয়েছে। ক্যালকাটা মাদ্রাসা এপিএ ডিপার্টমেন্ট স্কুলের এই ছাত্র ৪৯৩ নম্বর পেয়ে রাজ্যে চতুর্থ হয়েছে। কলকাতার মধ্যে সেরা ফল করেছে।
 
মৌপিয়া পাল। উচ্চ মাধ্যমিকে অষ্টম হয়েছে। শ্রী সারদা আশ্রম বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী মৌপিয়ার প্রাপ্ত নম্বর ৪৮৯। রাজ্যে সে অষ্টম স্থান অধিকার করেছেন।
 
অমৃতাংশু সাহু। উচ্চ মাধ্যমিকে নবম স্থান অধিকার করেছে। ৪৮৮ নম্বর পেয়ে মেধা তালিকায় নবম হয়েছে স্কটিশচার্চ কলিজিয়েট স্কুলের অমৃতাংশু।

অদ্রিজা গণ।  উচ্চ মাধ্যমিকে দশম হয়েছে৷ সিস্টার নিবেদিতা স্কুলের এই কৃতি ছাত্রী ৪৮৭ নম্বর পেয়ে রাজ্যে দশম হয়েছে। শহরের এই সাফল্যে খুশি অভিভাবক থেকে শিক্ষক মহল। 

জেলাভিত্তিক ফলের নিরিখে সেরার শিরোপা ধরে রেখেছে পূর্ব মেদিনীপুর। এই জেলায় পাশের হার ৯৪.১৯ শতাংশ। এখানেই পাশের হার সবচেয়ে বেশি৷ সাফল্যের নিরিখে এর পরেই রয়েছে হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনা, হুগলি, নদিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর, কলকাতা, পুরুলিয়া এবং দার্জিলিং।

প্রথম ১০-এ যে ৬৪ জন রয়েছে। তারমধ্যে ৫৬ জন ছাত্র এবং ৮ জন ছাত্রী রয়েছে। প্রথম দশে রয়েছে কলকাতার ৪ জন পড়ুয়া। 

এ বছর থেকেই প্রথম বার সেমেস্টার পদ্ধতিতে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়। দেশের মধ্যে এই প্রথম কোনও রাজ্যে সেমেস্টার পদ্ধতিতে দ্বাদশের পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। যা গোটা দেশের কাছে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে মত সংসদের।

চলতি বছরে ভোটের কারণে মাধ্যমিকের মতো উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষাও এগিয়ে আনা হয়। পরীক্ষা শুরু হয় ১২ ফেব্রুয়ারি। শেষ হয় ২৭ ফেব্রুয়ারি। এ বার পরীক্ষা শেষের দু'মাস ১৬ দিনের মাথায় ফল ঘোষণা করবে সংসদ। মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৭ লক্ষ ১০ হাজার ৮১১। এর মধ্যে চতুর্থ সেমেস্টারের পরীক্ষা দিয়েছিল ৬ লক্ষ ৩৫ হাজার ৮৬৪ জন। দ্বিতীয় সেমেস্টারের সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা দিয়েছিল ৫৯ হাজার ৪৫২ জন। অন্য দিকে, পুরনো নিয়মে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৫ হাজার ৪৯৫। পরীক্ষা গ্রহণ করা হয় ২১০৩ টি পরীক্ষা কেন্দ্রে।

প্রসঙ্গত, এ বছর উচ্চ মাধ্যমিকে একইসঙ্গে তিন ধরনের পরীক্ষা নেওয়া হয়। চতুর্থ সেমেস্টারে চূড়ান্ত পরীক্ষার পাশাপাশি তৃতীয় সেমেস্টারের সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষাও নেওয়া হয়। একইসঙ্গে পুরনো ব্যবস্থায় বার্ষিক পদ্ধতির পরীক্ষাও গ্রহণ করা হয়। চতুর্থ সেমেস্টার পরীক্ষার সময়সীমা ছিল সকাল ১০ টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত। অন্য দিকে সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা চলে দুপুর ১টা থেকে ২টো ১৫ মিনিট পর্যন্ত। এ ছাড়া, পুরনো পদ্ধতিতে পরীক্ষা হয় সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১.১৫ মিনিট পর্যন্ত। পুরনো পদ্ধতির পরীক্ষার্থীরা ছাড়া বাকিদের জন্য পরীক্ষা শুরুর আগে অতিরিক্ত ১০ মিনিট সময় দেওয়া হয় প্রশ্নপত্র পড়ার জন্য।